গলায় ক্যান্সারঃ যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি

যে কোনো ক্যান্সারই শরীরের জন্য অনেক মারাত্মক একটি রোগ।

সে গুলোর মধ্যে গলায় ক্যান্সারও অন্যতম। আর এটি হচ্ছে—

এক ধরনের টিউমার জাতীয় রোগ।এই ক্যান্সার গলার কোষ থেকে শুরু হয়ে থাকে।

আর মারাত্মক এ রোগটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই,

হয়ে থাকে মদ ও ধূমপান করার কারণে। তবে এর বাইরেও বেশ কিছু কারণে,

গলায় ক্যান্সার হতে পারে। যেমন— তামাক চিবানোর কারণে,

অম্লতার কারণে ও পুষ্টির অভাবের কারণে ইত্যাদি।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষদের গলায় ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হয়ে থাকে।

সাধারণতঃ গলার পেছনের নলের নরম হাড়ে ক্যান্সার হয়ে থাকে।

আর এ হাড়টি এতটাই নরম যে, এটি কথা বলার সময় স্পন্দিত হয়,

এবং গলার ক্যান্সার একে প্রভাবিত করে।

জানুন যেভাবে বুঝবেন গলায় ক্যান্সারের লক্ষণঃ

১. গলায় ও মুখে ব্যথা করাঃ

গলায় ও মুখে অনবরত ব্যথা করলে এবং এটি সাত দিনের বেশি সময় ধরে করলে,

হতে পারে ক্যান্সারের লক্ষণ। এ ছাড়া মুখের ভেতরে সাদা দাগ দেখা দিলে,

এবং খাবার গিলতে সমস্যা হয়ে থাকে গলায় ক্যান্সার হলে।

তাই এ সমস্যাগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. শ্বাস নিতে অসুবিধাঃ

নানা কারণে শ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ওপরের সমস্যা গুলোর সঙ্গে,

যদি দীর্ঘ দিন শ্বাস নিতে সমস্যা হতে থাকে, তবে,

ইহা হতে পারে গলায় ক্যান্সারের লক্ষণ।

৩. দাঁতের সমস্যা দেখা দেওয়াঃ

গলায় ক্যান্সার হলে অনেক সময় অকারণে দাঁত,

নড়বড়ে হতে দেখা যায়। অনেক সময় দাঁত উঠেও যেতে পারে।

৪. চোয়াল ও জিহ্বায় সমস্যাঃ

মুখের নিচের দিকের চোয়াল নাড়াতে সমস্যা হলে এবং জিহ্বায় ঘা ও ক্ষত দেখা দেওয়া,

হতে পারে গলায় ক্যান্সার হওয়ার লক্ষণ। এ ছাড়া অনেক সময় জিহ্বা থেকে,

রক্ত পড়তেও দেখা যেতে পারে।

৫. দীর্ঘ দিন কফ ও কাশি থাকাঃ

আপনার যদি দীর্ঘ দিন ধরে কফ ও কাশি থেকে থাকে,

তবে ইহা হতে পারে গলায় ক্যান্সার হওয়ার লক্ষণ।

এর পাশা পাশি কফের সঙ্গে রক্ত পড়াও হচ্ছে মারাত্মক একটি লক্ষণ।

৬. হঠাৎ স্বরে পরিবর্তনঃ

হঠাৎ করেই যদি গলার স্বরের পরিবর্তন হয়ে থাকে,

তবে ইহা হতে পারে গলায় ক্যান্সার হওয়ার লক্ষণ।

এ গুলো ছাড়াও ওজন কমে যাওয়া, মুখ ফুলে যাওয়া, গলা খসখস করা,

ঠোঁটে অসাড় থাকা, গলার সঙ্গে কানেও ব্যথা করা,

হতে পারে গলায় ক্যান্সার হওয়ার লক্ষণ। এগুলো,

আপনার মধ্যে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

Similar Posts

  • দাঁতে গর্ত হলে

    দাঁতে গর্ত এবং মাঝে মধ্যেই ব্যথা হলে ;দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। ফেলে রাখলেই ছড়িয়ে যায় দাঁতে সংক্রমণ। যা প্রাণ সংশয়ও ডেকে আনতে পারে। এমনিতেই দীর্ঘ দিন ধরে দাঁতের সমস্যা ফেলে রাখলে অনেক বিপত্তি।  তাই যদি ডাক্তার বলেন দাঁত তোলা কিংবা রুট ক্যানাল (Root Canal Treatment),করা ছাড়া কোনও উপায় নেই তাহলে দেরি করা মানে জেনে বুঝে বিপদ ডেকে…

  • কিশোরীদের হরমোন জনিত সমস্যা

    কিশোরী-দের হরমোন জনিত নানা সমস্যা হয়ে থাকে। এর মধ্যে পলিসি-স্টিক ওভারি সিন্ড্রোম একটি বহুল পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। যেটি কিশোরী থেকে মধ্য বয়সী নারীদের হয়ে থাকে। এ ধরণের সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে অনেকে লজ্জায় পড়ে যান। এতে বড় ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। কিশোরী-দের হরমোন-জনিত সমস্যার ধরন ও প্রতিকার, নিয়ে যুগান্তরকে পরামর্শ দিয়েছেন ডা. শাহজাদা…

  • দাঁতের ব্যথা

    সারা বিশ্বে দন্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রে দাঁতের ব্যথা একটি অতি সাধারণ পরিস্থিতি।দাঁত ব্যথা একটি অপ্রীতিকর মানসিক অভিজ্ঞতা।  কোন একটি উদ্দীপক বস্তুর সংস্পর্শে এসে ব্যথা শুরু হয় আর তার পরে কেন্দ্রীয় স্নায়ু তন্ত্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইহা বেশি বা কম অস্বস্তিকর দুর্দশা এবং যন্ত্রণার একটি সংবেদন।  দাঁতের ব্যথার কারণ হল দাঁতের রোগ দাঁতে গর্ত অথবা দাঁতে আঘাত লাগা। দাঁতের…

  • বিউবনিক প্লেগ (ইংরেজি:  Bubonic plague) কি

    বিউবনিক প্লেগ (ইংরেজি: Bubonic plague) হল ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস নামক ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত প্লেগ রোগের তিনটি প্রকারের একটি। [১] জীবাণুর সংস্পর্শে আসার ১ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। [২] উপসর্গগুলো হল জ্বর, মাথাব্যথা, বমি। [৩] ত্বকের যে স্থান দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করে তার নিকটবর্তী লসিকা গ্রন্থি ফুলে যায় ও ব্যথা হয়। মাঝে মধ্যে ফোলা লসিকা গ্রন্থি ফেটে যেতে পারে। বিউবনিক প্লেগঃ বিউবনিক প্লেগ রোগে আক্রান্ত রোগীর…

  • স্ট্রোকের ঝুঁকি মুক্ত থাকবেন যেভাবে

    স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত ক্ষরণের ফলে অক্সিজেন সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে মস্তিষ্কের কোষ গুলো যখন দ্রুত ক্ষতি গ্রস্ত হয় সে অবস্থাকে স্ট্রোক বলে। সারা বিশ্বে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষদের প্রতি ৪ জনের ১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। কেউই জানি না আমার আপনার মধ্যে সেই ৪ জনের ১ জন রয়েছেন কি না! এক বার স্ট্রোক হলে…

  • প্লেগ কি? এর লক্ষণ, বিস্তার ও প্রতিকার। What is Plague in Bengali

    প্লেগ একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। Yersinia Pestis নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। ইঁদুরের মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে। এ রোগের বাহক হচ্ছে Rat flea (Tatera indica) নামক এক প্রকার মাছি। প্লেগ তিন ধরনের হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে:১. বিউবোনিক প্লেগ;২. নিউমোনিক প্লেগ ও৩. সেফটিসেমিক প্লেগ।এর মধ্যে প্রথম প্রকারের প্লেগই সব চেয়ে বেশি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *