লিভার ভালো রাখতে এড়িয়ে চলবেন যেসব খাবার

শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের নাম লিভার। আমাদের পাচন প্রক্রিয়ায় এই অঙ্গটিই বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। লিভার ভালো না থাকলে ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগ, দীর্ঘ সময় ক্লান্তি অনুভব করা, হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি ইত্যাদি সহ নানা জটিল রোগ বাসা বাঁধতে পারে। মূলতঃ খাদ্যাভ্যাস থেকেই সমস্যা দেখা দেয় লিভারে। তাই লিভার ভালো রাখতে কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। আনতে হবে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন।

আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম ও প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে যেসব অসুখ সহজেই শরীরে বাসা বাঁধে, তার মধ্যে অন্যতম লিভারের অসুখ। অল্প বয়েসেও এই সমস্যা বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। 

রক্ত থেকে যাবতীয় দূষিত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এই লিভার। তাই লিভার সচল রাখতে কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষ করে কিছু খাবার ক্ষতি করতে পারে এই লিভারের।

খাওয়া দাওয়ায় কিছু বদল আনলেই লিভারের অসুখের ঝুঁকি কমতে পারে। গরমের দিনে খাদ্য তালিকা থেকে এমন কিছু খাবার বাদ দিতে হবে, যা লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য বেশ উপকারী।

 লিভারকে ভালো রাখতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেনঃ

০১) কেক, পেস্ট্রি, কুকিজের মতো বেক করা খাবার লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। সকালের খাবারে অনেকেই পাউরুটিতে জেলি মাখিয়ে খান। চিকিৎসকরা বলছেন, এই ধরনের খাবারে ট্রান্সফ্যাট থাকে। এই ফ্যাট নিয়মিত লিভারে গেলে ক্ষতি হতে পারে।

০২) শুধু পাউরুটিতে নয়, বাইরের ভাজা-পোড়া, তেল-মসলাদার, চপ-কাট- লেটের মতো খাবারেও ভরপুর ফ্যাট থাকে। নিয়মিত এ ধরনের খাবার পেটে গেলেই লিভারের নানা সমস্যা তৈরি হয়। পরবর্তীতে এর ফলে লিভারের বড় ধরনের রোগ হওয়ারও আশঙ্কা থাকে।

০৩) নিয়মিত মদ্যপান লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। লিভার রক্তে অবস্থিত অ্যালকোহল দূর করে রক্তকে পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে। কাজেই অতিরিক্ত মদ্যপান করলে লিভারের ওপর চাপ পড়ে। এতে লিভারের কোষ গুলোর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। লিভার সুস্থ রাখতে তাই মদ্যপান এড়িয়ে চলা একান্তই জরুরি।

০৪) মাত্রাতিরিক্ত হারে চিনি খাওয়ার অভ্যাসও লিভারের ক্ষতি করতে পারে। সরাসরি চিনি খাওয়া তো ক্ষতিকর বটেই। এ ছাড়াও চিনি আছে এমন কোনো খাবার, যেমন, মিষ্টি, ক্যান্ডি, চকোলেট নিয়মিত খেলে পরবর্তী সময়ে লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Similar Posts

  • সেনসেটিভ দাঁতের ব্যথায় কী করবেন?

    দাঁতের সমস্যা দেখা দিলে দারুন বিপাকে পড়তে হয়। আর দাঁতের সমস্যাটি যদি হয়, সেনসেটিভ দাঁতের ব্যথা, তবে ভুগতে হয় অনেক বেশি। কেন দেখা দেয় সেনসেটিভ দাঁতের সমস্যা? সেনসেটিভ কিংবা সংবেদন শীল দাঁতের সমস্যাটি দেখা দিতে পারে, বেশ কিছু কারণে। তার মাঝে অন্যতম কয়েকটি কারণ হলো- ১. দাঁতের এনামেল ক্ষতি গ্রস্থ হওয়া। ২. অ্যাসিডিক ও বেভারেজ…

  • রোগ প্রতিষেধক টিকা কী, কীভাবে কাজ করে, আর টিকা নিয়ে কেন এত সন্দেহ

    গত ১০০ বছরে রোগ প্রতিষেধক টিকার কারণে কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু অনেক দেশেই টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে অনীহা তৈরি হয়েছে, আর এই প্রবণতা এখন বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বা ডাব্লিউএইচও, এই প্রবণতা সম্পর্কে এতটাই উদ্বিগ্ন যে তারা একে ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্যের জন্য ১০টি চরম হুমকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। টিকা কাজ…

  • কিডনি ভালো রাখতে যা প্রয়োজন ।

    অনেকের মুখেই শোনা যায় কিডনির সমস্যা। কিডনির চিকিৎসা খুবই ব্যয় বহুল এবং কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। তাই যে কোনো রোগ হওয়ার আগে তা নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিডনি ভালো রাখতে আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে।  কিডনি ভালো রাখতে খুব বেশি নিয়ম মানার প্রয়োজন নেই। মাত্র ৫টি নিয়ম মেনে চললে সারা জীবন ভালো থাকবে আপনার কিডনি।  শরীরে পরিষ্কার…

  • থ্যালাসেমিয়া কেন হয়

    বাবা ও মা দুজনই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।জেনেটিক কারণেও থ্যালাসেমিয়া হতে পারেমানবদেহে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।  প্রতি জোড়ার অর্ধেক মায়ের আর বাকি অর্ধেক বাবার থেকে আসে। ১৬নং ক্রোমোজোমে থাকে আলফা জিন আর ১১নং ক্রোমোজোমে থাকে বিটা জিন। আলফা ও বিটা জিনদ্বয় আলফা ও বিটা গ্লোবিন নামক প্রোটিন…

  • দাঁতের রোগ ও চিকিৎসা

    দাঁতের সাথে মুখের ভেতরের অনেক অসুখই হয়ে থাকে মানুষের। মাড়ি এবং দাঁতের নানা সমস্যাই প্রায় প্রত্যেককে সহ্য করতে হয়।  সুন্দর হাসি ও আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্বের জন্য উজ্জ্বল রোগমুক্ত দাঁতের গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিক সময়ে যত্নের অভাবে দাঁতে আক্রমণ করে রোগ-জীবানু ও বিভিন্ন রকমের অসুখ।তখন অকালে দাঁত ও দাঁতের মাড়ি হয়ে ওঠে কালচে, ভঙ্গুর ও হলদে রংয়ের। যা খুবই বিশ্রী দেখায়। একটু…

  • বাচ্চার কোন বয়সে কী টিকা

    ডা. আবু সাঈদ শিমুল, রেজিস্ট্রার, শিশু বিভাগ,ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালঃ রোগ প্রতিরোধের জন্য বাচ্চাকে টিকা দিতে হয়। তবে সব টিকা হয়তো সমানভাবে কার্যকরী নয়। কখনও একাধিক টিকা দিতে হয়। যেমন পোলিওর টিকা বার বার দিতে হয়। ইহা অবশ্য সরকারি নীতির অংশ। অনেকে সামান্য জ্বর-কাশিতে বাচ্চাকে টিকা দিতে চান না। এটাও ঠিক নয়। আবার টিকা দিলেও…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *