ইউটিউবে (YouTube) কোন ধরনের একাউন্টে বেশি টাকা ইনকাম করা যায়
যদি শুধু মাত্র টাকা ইনকাম করার উদ্দেশ্য ইউটিবিং করতে চান তাহলে প্রথমেই বাংলা কনটেন্ট,হিন্দি কনটেন্ট অর্থাৎ এক কথায় আমাদের এশিয়ান অডিয়েন্স যেসব ভিডিও দেখে থাকে তা বানানো যাবে না।
কেননা এইসব দেশ গুলোতে কোম্পানী গুলো অ্যাডের পিছে খুব বেশি টাকা খরচ করে না, যার কারণে সিপিসি,আরপিএম রেট খুবই কম , আর এই জন্যই ইনকাম ও কম হয়ে থাকে।
বেশি টাকা আয় করতে চাইলে, অডিয়েন্স হিসেবে আপনার সিলেক্ট করতে হবে ইউরোপ,আমেরিকার মতো দেশ গুলোকে।
ভিডিও বানাতে হবে ইংরেজীতে, কারণ ইংরেজী ভিডিওর অডিয়েন্স সারা বিশ্বজুড়ে রয়েছে।
শুধু এগুলো করলেই হবে না, ভিডিও বানানোর টপিক অর্থাৎ নিশ, নিশ সিলেকশন রিসার্স করে করতে হবে।
এমন ধরণের নিশ সিলেক্ট করতে হবে, যাতে অ্যাডসেন্স এর পাশাপাশি আরো বিভিন্ন রকম উপায় টাকা আয় করা যায়, এতে করে আপনার একটি ভিডিও থেকে ২-৩ রকম উপায়ে ইনকাম করতে পারবেন।
নিশ সিলেক্ট করার সময় আরো একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে, আপনার সিলেক্ট করা নিশ টি ভবিষ্যতে থাকবে কিনা?
ভবিষ্যতে এই নিশের জনপ্রিয়তা কেমন থাকবে সেটাও ভেবে চিন্তে নিতে হবে।
একটা চ্যানেল আপনি বছরের পর বছর পরিশ্রম করে বড় করে তুললেন কিন্তু ভবিষ্যতে যদি সেটার ডিমান্ডই না থাকে তাহলে আপনার পরিশ্রম বৃথা ছাড়া আর কিছুই না।
ইউটিউবে অনেক জনপ্রিয় নিশ ছিলো, যা এখন হারিয়ে গেছে বা যাবার পথে।
এই যেমন ধরুণ : ইউটিউবে আপনে (Toys video for kids) লিখে সার্চ করুন, লক্ষ লক্ষ ভিডিও পেয়ে যাবেন, ভিডিও গুলোতে ভিউয়ের সংখ্যা ও কম নয়, একজন সাধারণ মানুষ যখন এইসব ভিডিও দেখবে তাঁরা ভাববে এইসব ভিডিও বানিয়ে কি লাভ হয়?
কিন্তু ১ বছর আগেও এই Toys video ছিলো ইউটিউবারদের জন্য খুবই জনপ্রিয় একটি নিশ।
আজ আর সেই নিশ জনপ্রিয় নেই, ইউটিউব আপডেটের পর বলে দিয়েছে এই ধরণের নিশে মনিটাইজেশন দিবে না, যারা মনিটাইজেশন পাবে তাঁদের ভিডিও কিছুটা অন্য রকম হতে হবে, শুধু Toys হলে চলবে না।
মনিটাইজেশন এর জন্য উপযুক্ত কিনা, তা জানতেঃ
ইউটিউব চ্যানেল মনেটাইজেশন এর ক্ষেত্রে কিছু গাইডলাইন রয়েছে।
যেমনঃ
প্রোডাক্ট বিক্রি করে ইউটিউব থেকে আয়।
ভিডিও এডিটিং সার্ভিস দিয়ে আয়।
প্রোডাক্ট রিভিউ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইউটিউব থেকে আয়।
অনলাইন কোর্স বিক্রি করে ইউটিউব থেকে আয়।
স্পন্সরড কনটেন্ট এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয়।
ডোনেশন এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয়।
প্রফিটেবল কিছু নিশের আইডিয়া:
টেক ভিডিও ,
গেমিং ,
প্রোডাক্ট রিভিউ ,
ভ্লগ ,
ফুড ,
ফ্যাশন ,
বিউটি ,
হেল্থ ,
ট্রাভেল ,
এনিমল,
অ্যাফিলিয়েট।
এই ধরণের নিশগুলো থেকে ভালো টাকা আয় করা সম্ভব।
মাছ ধরা মানে ফিশিং নিশ, সাধারণত এই নিশে সাকসেস পেতে অনেক সময় প্রয়োজন একই সাথে অনেক ভিডিও প্রয়োজন।
আরেকটা কথা এই নিশে কিছু কিছু ভিডিও যেমন: ফিশিং কাটিং এই ভিডিওগুলো ইউটিউব কৃর্তপক্ষ কিছুদিন পর টেক ডাউন করে দেয় এমনকি চ্যানেলে স্ট্রাইকও আসে।
পশুপাখি অর্থাৎ এনিমাল নিশে এত ঝামেলা নেই, তাই আপনি এনিমাল নিশে কাজ করতে পারেন, যদি বাইচান্স একটা ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় আপনার ১ ভিডিও থেকেই প্রফিট উঠে আসবে।
কোন অ্যাপসের মাধ্যমে ইউটিউব ইনকাম দেখা যায়?
যদি চ্যানেলের ইনকাম দেখতে চান তাহলে youtube creator studio এর মাধ্যমে দেখতে পারবেন।
আর যদি অন্য কারো চ্যানেলের ইনকাম,ভিউ, পারফরমেন্স দেখতে চান তাহলে social blade অ্যাপসের মাধ্যমে দেখতে পারবেন, তবে এটা সব সময় ইনকামের সঠিক রেজাল্ট দেখায় না।
কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করবেন :
অনেকে মনে করেন শুধুমাত্র এডসেন্স মনিটাইজেশন এর মাধ্যমেই ইউটিউব থেকে আয় সম্ভব।
তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ইউটিউব থেকে আয় এর একাধিক উপায় রয়েছে।
যেমনঃ
ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম,
প্রোডাক্ট বিক্রি,
ভিডিও এডিটিং সার্ভিস,
প্রোডাক্ট রিভিউ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং,
অনলাইন কোর্স,
স্পন্সরড কনটেন্ট,
ডোনেশন ।
ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম থেকে আয়
ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র এডসেন্স নিয়ে টাকা আয় করা যায় তা নয়।
এর পাশাপাশি আরো অনেক সুবিধা পাওয়া যায় ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে।
ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ইউটিউব প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ফিস, সুপার চ্যাট, চ্যানেল মেম্বারশিপ প্রোগ্রাম ইত্যাদি সুবিধা পাওয়া যায়।
ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হতে আপনার দরকার হবে একটি ইউটিউব চ্যানেল এর।
ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হতে আপনার ইউটিউব চ্যানেলে গত ১২ মাসে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার ও ৪০০০ ঘন্টা ভিডিও ওয়াচটাইম থাকতে হবে।
এ ছাড়াও ইউটিউব চ্যানেলে কোনো প্রকার কপিরাইট স্ট্রাইক থাকা যাবেনা।
ইউটিউব চ্যানেল পার্টনার প্রোগ্রামের ব্যাপারটি মনিটাইজেশন নামে পরিচিত। আপনার ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন এর জন্য উপযুক্ত কিনা,
তা জানতেঃ
ইউটিউব স্টুডিও তে প্রবেশ করুন।
বাম পাশের মেন্যু থেকে Monetisation এ ক্লিক করুন।
এরপর আপনার চ্যানেলের মনিটাইজেশন এলিজিবিটি স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন।
আপনার চ্যানেল মনেটাইজেশন এর জন্য উপযুক্ত হলে Apply Now বাটন দেখতে পাবেন।
আপনার চ্যানেল মনেটাইজেশনের জন্য এখনো উপযুক্ত না হলে এমন কিছু প্রদর্শিত হবে।
আপনার ইউটিউব চ্যানেল যদি ইউটিউবের অফিসিয়াল এডসেন্স একাউন্ট গাইডকে সমর্থন করে, সে ক্ষেত্রে আপনি এডসেন্স একাউন্ট এর একাউন্ট খুলতে পারেন।
ইউটিউব চ্যানেল মনেটাইজেশন এর ক্ষেত্রে কিছু গাইডলাইন রয়েছে।
যেমনঃ
এড রেভিনিউঃ
ইউটিউব ভিডিও এর এড রেভিনিউ পেতে হলে আপনার ভিডিও এডভার্টাইজার-ফ্রেন্ডলি হতে হবে যাতে বিজ্ঞাপনদাতারা আপনার ভিডিওতে এড শো করতে রাজি হয়।
এছাড়াও এড রেভিনিউ পেতে গেলে অবশ্যই আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
ইউটিউব শর্টস অর্থাৎ ১ মিনিটের কম সময়ের ভিডিও থেকেও আয় করা সম্ভব।
ইউটিউব প্রিমিয়াম রেভিনিউঃ
কোনো ইউটিউব প্রিমিয়াম মেম্বার যদি আপনার ইউটিউব ভিডিও দেখে, সে ক্ষেত্রে আপনি ওই ভিউয়ার এর সাবস্ক্রিপশন এর কিছু অংশ রেভিনিউ হিসেবে পাবেন।
চ্যানেল মেম্বারশিপঃ
চ্যানেল এর সাবস্ক্রাইবারদের কাছে মেম্বারশিপ সেল করতে হলে মিনিমাম ৩০হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে।
সুপার চ্যাটঃ
লাইভ স্ট্রিমের সময় চ্যাটে ভিউয়াররা যে অর্থ প্রদান করে সেটাকে সুপার চ্যাট বলে। তবে বাংলাদেশেত ইউটিউবে সুপার চ্যাট ফিচারটি নেই।
উপরোক্ত নীতিমালা অনুসরণ করে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।
প্রোডাক্ট বিক্রি করে ইউটিউব থেকে আয় :
বিভিন্ন পণ্য বিক্রি বর্তমানে ইউটিউবারদের ও পাবলিক ফিগারদের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠছে।
আপনার চ্যানেলের যদি যথেষ্ট পরিমাণ ফ্যান ফলোয়িং থাকে, যারা আপনার কাছ থেকে কিনতে আগ্রহী হবে।
সে ক্ষেত্রে ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবদের কাছে বিক্রি করতে পারেন মার্চেন্ডাইজ।
আপনার ইউটিউব চ্যানেলও যেহেতু একটি ব্র্যান্ড, সে ক্ষেত্রে বিক্রি হওয়া মার্চেন্ডাইজ এ নিজস্বতা রাখার চেষ্টা করুন।
এর ফলে চ্যানেল হিসেবে আপনার প্রোমোশন হবে ফ্রিতেই।
এছাড়াও আপনি ভিউয়ারদের কাছ থেকেও পণ্য নিয়ে মতামত নিতে পারেন।
এর ফলে খুব সহজেই পণ্য বিক্রি করা যাবে। মার্চেন্ডাইজ বিক্রি করতে পারেন অনলাইন শপ
খুলে কিংবা ফেসবুক পেজেও।
ভিডিও এডিটিং সার্ভিস দিয়ে আয় :
আপনি যেহেতু ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করবেন, সে ক্ষেত্রে ভিডিও এডিটিংয়ে পারদর্শীতা থাকার কথা।
আপনি যদি মনে করেন আপনার ভিডিও এডিটিং অন্যদের চেয়ে ভালো ও আপনি এই কাজে পারদর্শী,
সে ক্ষেত্রে আপনি ভিডিও এডিটিং সার্ভিস প্রদান করতে পারেন।
অর্থের বিনিময়ে ভিডিও এডিটিং সার্ভিস প্রদান করতে পারেন অন্য ইউটিউবারদের।
এছাড়াও বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মেও ভিডিও এডিটিং এর কাজ করে ভালোই আয় করা যায়।
ভিডিও এডিটিং অত্যন্ত ডিমান্ডিং একটি সার্ভিস। তাই এই বিষয়ে পারদর্শিতা থাকলে অন্যদের সাহায্য করে আয় করতে পারেন।
প্রোডাক্ট রিভিউ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইউটিউব থেকে আয় :
কোনো নতুন পণ্য সম্পর্কে জানতে কিংবা কোনো প্রডাক্ট কেনার সিদ্ধান্ত নিতে বিশাল অংকের ভিউয়ার ইউটিউবের উপর নির্ভর করে।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রোডাক্ট রিভিউ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় করা সম্ভব।
বর্তমানে ইউটিউবে সকল ধরনের প্রোডাক্ট রিভিউ এর প্রচুর ডিমান্ড রয়েছে।
এসব প্রোডাক্ট রিভিউ এর ডেসক্রিপশনে কেনার অ্যাফিলিয়েট লিংক প্রদান করার মাধ্যমে ভিউয়ার এর বায়িং ডিসিশন সহজ করার পাশাপাশি আপনিও কমিশন পেতে পারেন।
অন্য প্রোডাক্টের পাশাপাশি আপনার নিজস্ব মার্চেন্ডাইজ এর প্রচারও করতে পারেন আপনার ভিডিও এর মাধ্যমেই।
অনলাইন কোর্স বিক্রি করে ইউটিউব থেকে আয় :
আপনি যদি কোনো শিক্ষামূলক ইউটিউব চ্যানেল চালান, সেক্ষেত্রে আপনি যা শেখান তার সেরাটা দিয়ে তৈরি করতে পারেন অনলাইন কোর্স।
এছাড়াও আপনার ভিডিও এর কোনো নির্দিষ্ট ব্যাপার যদি ভিউয়াররা শিখতে ইচ্ছুক হয়, সেক্ষেত্রে অনলাইন কোর্স সেল করা হতে পারে ইউটিউব থেকে আপনার আয়ের একটি উৎস।
স্পন্সরড কনটেন্ট এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় :
আপনার চ্যানেলে যদি যথেষ্ট পরিমাণ সাবস্ক্রাইবার থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজ থেকেই আপনার সাথে স্পন্সরশিপ এর ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করতে পারে।
এ ছাড়াও আপনার ভিডিও ও কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস এর টপিক একই ধরনের হলে আপনিও উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে স্পন্সরশীপ এর ব্যাপারে আলাপ করতে যোগাযোগ করতে পারেন।
স্পন্সরড কনটেন্ট বর্তমানে ইউটিউবারদের আয়ের একটি প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মূলত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বা সার্ভিস এর প্রমোশনের জন্য ভিডিও এর নির্দিষ্ট সেগমেন্ট কিংবা সম্পূর্ণ ভিডিও অর্থের বিনিময়ে কিনে নেয়।
এর পাশাপাশিও অনেক ধরনের স্পন্সরড কনটেন্ট ডিল রয়েছে।
ডোনেশন এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় :
আপনার ইউটিউব চ্যানেল যদি ছোট হয় এবং ইউটিউবই আপনার একমাত্র কাজ ও আয়ের উৎস হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ফুল-টাইম ইউটিউবিং আপনার জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
ছোটো কনটেন্ট ক্রিয়েটর যারা ইউটিউব থেকে অন্য উপায়ে যথেষ্ট পরিমাণ আয় করতে পারেনা, তারা সরাসরি সাবস্ক্রাইবারদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নিতে পারে।
প্যাট্রিয়ন এর মতো সাইট এই ব্যাপারটিকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে।