ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম ও ভিডিও তৈরি করার গাইডলাইন
বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করেন এমন যে কেউ-ই জানেন ইউটিউব কী।
যে কোনো ধরণের ভিডিও দেখার কথা বললেই প্রথমে যে ওয়েবসাইটটির কথা মনে হয় তা হলো: ইউটিউব।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের এক চতুর্থাংশ প্রতি সপ্তাহে ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে ইউটিউব ভিডিও দেখেন।
তবে ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানেন।
তাই এই ব্লগের শুরুতেই আলোচনা করবো ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম নিয়ে।
এরপর ইউটিউব চ্যানেল সেটিংগুলোর পরিচয় দিয়ে শুরু করে আলোচনা এগিয়ে যাবে কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা আয় করা যায় তা নিয়ে এবং শেষ হবে ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করার নিয়ম জানার মধ্য দিয়ে।
এছাড়াও কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলবো অথবা মোবাইল দিয়ে কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলবো এই প্রশ্নগুলোর উত্তরও পেয়ে যাবেন ব্লগটি শেষ পর্যন্ত পড়লে।
Video Making Course
কোর্সটি করে যা শিখবেন:
মোবাইল ও DSLR ক্যামেরা ব্যবহার করে ভিডিও শুটিং ও এডিটিং এর খুঁটিনাটি কাজ থেকে শুরু করে অ্যাডভান্সড কৌশল।
ভিডিও মেকিং -এর মাধ্যমে ক্যরিয়ার গড়ে তোলার সকল নির্দেশনা পাবেন এক্সপার্ট ইন্সট্রাক্টরদের কাছে
ইউটিউব মার্কেটিং কি ?
সহজ কথায়, ইউটিউব মার্কেটিং (YouTube Marketing) হলো ইউটিউবে বিজনেস, ব্র্যান্ড, প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসের প্রচারণা করা।
ইউটিউব মার্কেটিং এর মাধ্যমে কোম্পানি বা ব্র্যান্ড একই সাথে ট্রাফিক বুস্ট করতে পারে আবার নতুন কাস্টমার তৈরিও করতে পারে।
শুধুমাত্র টার্গেটেড অডিয়েন্সের জন্যই নয়, সামগ্রিকভাবে এসইও (SEO) এবং ব্র্যান্ডের উপস্থিতি উন্নয়নে ইউটিউব মার্কেটিং কাজ করে থাকে।
তা ছাড়া ইউটিউব মার্কেটারদের সহজ ও অনন্য কন্টেন্ট তৈরিতে উৎসাহিত করে যেনো দর্শকদের কাছে তা সহজে পৌঁছায় ও সহজে শেয়ার করা যায়।
এক বা একাধিক স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করে ইউটিউব মার্কেটিং (YouTube Marketing) করা হয় :
অর্গানিক প্রমোশনাল ভিডিও তৈরি করে ;
ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে কাজ করে ;
ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দিয়ে বা এডভার্টাইজ করে ।
আপনার ব্যবসার প্রসারের জন্য কেন ইউটিউব মার্কেটিং করবেন?
ইউটিউবের রয়েছে দুই মিলিয়ন সক্রিয় ব্যবহারকারী। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভিজিট করা ওয়েবসাইটের তালিকায় ইউটিউব রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।
ইন্টারনেটের প্রায় ৭৪% অনলাইন ট্রাফিক আসে ইউটিউবের হাত ধরেই।
ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম এখন এতটাই বিস্তৃত যে, ৭৬টি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় ইউটিউবকে এক্সেস করা যায়।
অর্থাৎ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর অন্যতম সুবিধাজনক মাধ্যম ইউটিউব।
আর তাই ইউটিউবের মাধ্যমে নিজের বিজনেস বা সার্ভিস প্রোমোট করার বিষয়টিও এখন বেশ জনপ্রিয়।
ইউটিউব মার্কেটিং (YouTube Marketing) এর মাধ্যমে প্রোডাক্টের প্রচারণা তো হয় ই পাশাপাশি এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয়ও করা যায়।
প্রতি মাসে ২২.৮ বিলিয়ন মানুষ ইউটিউব ভিজিট করেন। অর্থাৎ ইউটিউবকে শুধুমাত্র বিনোদনের উৎস ভাবলে ভুল হবে বরং ইউটিউব বেশ ভালো একটি বিজনেস প্ল্যাটফর্মও।
ইউটিউব চ্যানেল ভিন্ন ভিন্ন জিওগ্রাফিক লোকেশন থেকে ভিউ আনতে সক্ষম। যার মাধ্যমে শক্তিশালী কাস্টমার বেজ তৈরি হয় এবং ব্র্যান্ডের বিক্রয় বৃদ্ধি পায়।
ইউটিউব একটি ভালো শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও পরিচিত।
বিভিন্ন টিউটোরিয়াল, লেসন, গাইড ইত্যাদি সম্পর্কিত বিস্তারিত ভিডিও তৈরির মাধ্যমে ব্র্যান্ডগুলো গুগলে ভালো র্যাংক পেতে পারে।
পাশাপাশি, ফেসবুক- ইন্সটাগ্রামের তুলনায় কম খরচে বিজ্ঞাপন দেয়া যায় বলে অনেক ব্র্যান্ডই বিজ্ঞাপনের জন্য ইউটিউবকে বেছে নেন।
সামগ্রিকভাবে ব্যবসার প্রসারে ইউটিউব মার্কেটিং (YouTube Marketing) যে ভাবে লাভজনক:
হেভি ট্রাফিক :
২০২৩ এর তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন ৫ বিলিয়নেরও বেশি ভিডিও দেখা হয় ইউটিউবে! স্বাভাবিকভাবেই অন্য যে কোনো প্ল্যাটফর্মের চেয়ে ইউটিউবে ট্রাফিক অনেক বেশি।
নিজে ভিডিও তৈরি না করেও শুধুমাত্র ভিডিওতে এডভার্টাইজিং এর মাধ্যমেও অসংখ্য অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানো সম্ভব ইউটিউবের মাধ্যমে।
ইউটিউবে ট্র্যাফিক এত বেশি যে আপনি যতক্ষণ পর্যন্ত অডিয়েন্সের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন ততক্ষণ অবধি আপনার সম্ভাব্য গ্রাহক খুঁজে পেতে কোনো অসুবিধাই হবে না!
কিছু পরিসংখ্যান দেখা যাক :
প্রতিদিন ৩০ মিলিয়ন মানুষ ইউটিউবে ভিজিট করে।
প্রতি মিনিটে ইউটিউবে ৩০০ ঘণ্টার মতো ভিডিও আপলোড করা হয়।
৬৮% ব্যবহারকারীর মতে, ইউটিউব তাদের পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
গত দুই বছরে ইউটিউবে ছোট ও মাঝারি এডভার্টাইজিং বিজনেস প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
ইউটিউব ৭৬টি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় এক্সেস করা যায় যা সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৯৫% কে কাভার করে।
৮৮টিরও বেশি দেশে ইউটিউবের নিজস্ব লোকাল ভার্সন রয়েছে।
গুগলে ভিজিবিলিটি বেশি :
খেয়াল করে দেখবেন, গুগল সার্চ রেজাল্টে অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় ভিডিও অনেক বেশি। আর ভিডিওর ক্ষেত্রে গুগল বেশিরভাগ সময় সরাসরি ইউটিউবকেই রেকমেন্ড করে।
এই পুরো ব্যাপারটির সুবিধা আপনি নিতে পারেন ইউটিউবে উচ্চমানের ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে।
পাশাপাশি, কন্টেন্টগুলোকে নিজের ওয়েবসাইটে ব্যাকলিংক করে দিতে পারেন।
এতে গুগলে সার্চ ইঞ্জিন পেইজে আপনার র্যাংক বৃদ্ধি পাবে এবং ভিজিবিলিটি বাড়বে।
ইমেইল লিস্ট তৈরি করার সুবিধা :
ইউটিউব মার্কেটিং এর একটি বড় সুবিধা হলো ইমেইল লিস্ট তৈরি করা।
এমন অনেক সফটওয়্যার আছে যার মাধ্যমে আপনি সরাসরি ভিডিওগুলোতে আপনার ব্র্যান্ড বা কোম্পানির সাইন আপ ফর্ম বসাতে পারবেন।
এমনকি ইনফর্মেশন নেয়া বা সাবস্ক্রাইব করার সময় ভিডিও সাময়িকভাবে বন্ধও রাখার সুবিধা আছে।
এতে একই সাথে দর্শকদের মান সম্মত কন্টেন্ট প্রদান করার পাশাপাশি তাদের ইমেইল লিস্টও তৈরি করে ফেলা যায়।
উচ্চ কনভার্সন রেট :
কথায় বলে, একটি ছবি হাজারটা শব্দকে প্রকাশ করতে পারে । সেখানে একটি ভিডিওর কোনো কিছু প্রকাশ করা অথবা কোনো মেসেজ দেয়ার ক্ষমতা আরও অনেক বেশি।
ভিডিও কন্টেন্ট অন্য যে কোনো ধরণের কন্টেন্টের চেয়ে গ্রাহকের ইমোশনকে বেশি প্রভাবিত করতে পারেন।
তাছাড়া অডিয়েন্স ভিডিও কন্টেন্টের সাথে বেশি রিলেট করতে পারেন এবং এনগেজড হন।
পাশাপাশি, ভিডিও কন্টেন্টের মাধ্যমে অডিয়েন্সের বিশ্বাস অর্জন করাও তুলনামূলকভাবে সহজ।
অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে আপনার বিজনেসকে প্রাণবন্ত করে তুলতে ভিডিও -এর জুড়ি মেলা ভার।
মজার ব্যাপার হলো, ভিডিও কন্টেন্ট প্রায় ৮০% পর্যন্ত কনভার্সন বৃদ্ধি করতে পারে।
বিভিন্ন ধরণের ভিডিও ব্যবহার :
ইউটিউব মার্কেটিং (YouTube Marketing) এর আরেকটি বড় সুবিধা হলো আপনি আপনার ব্র্যান্ডের প্রচারণার জন্য বিভিন্ন রকমের ভিডিও কন্টেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন।
লক্ষ্য করলেই ইউটিউবে অসংখ্য ধরণের ভিডিও দেখতে পাবেন: ব্যখ্যামূলক ভিডিও, প্রেজেন্টেশন ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও, সেলস ভিডিও ইত্যাদি।
আপনি খুব সহজেই এক বা একাধিক ধরণের ভিডিও নিয়ে কাজ করতে পারেন।
কী ধরণের ভিডিও তৈরি করা যায় তা নিয়ে এখনও দ্বিধা দ্বন্দ্বে থাকলে দেখে নিন নিচের টিপসগুলো:
এনগেজিং ভিডিও তৈরি করুন ।
আপনার ব্র্যান্ড বা বিজনেস সম্পর্কিত সাধারণ যে প্রশ্নগুলো ক্রেতারা করতে পারেন সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন- উত্তর ভিডিও তৈরি করুন।
‘বিহাইন্ড দ্য সিন’ ভিডিওর মাধ্যমে আপনার ব্র্যান্ড বা বিজনেস কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে ভিডিও তৈরি করুন।
কাস্টমারদের রিভিউ নিয়ে ভিডিও তৈরি করুন।