কিডনির সমস্যায়

বর্তমানে কিডনির সমস্যায় বিশ্ব ব্যাপী প্রায় ২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ভুগছেন।

 কার্ডিও-ভাস-কুলার ও শ্বাস যন্ত্রের স্বাস্থ্যের পাশা পাশি, 

কিডনি রক্ষার ক্ষেত্রেও বিশেষ সচেতন হওয়া জরুরি। 

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা, 

কিডনির বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
অন্যান্য,

 ‘নীরব ঘাতক’ রোগের মতো প্রাথমিক পর্যায়ে,

কিডনি রোগেরও কোনো উপসর্গ সেভাবে দেখা দেয় না। 

এ কারণে নিয়মিত মেডিকেল চেক আপ করা জরুরি।

দীর্ঘ স্থায়ী কিডনি রোগ সব চেয়ে গুরুতর কিডনি,

সমস্যা গুলোর মধ্যে একটি। যখন কিডনি ক্রমাগত,

ক্ষতির সম্মুখীন হয় তখন এই অঙ্গ রক্ত থেকে বর্জ্য,

 ও তরল ফিল্টার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

কিডনির বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যে আছে-

১. ফ্যাব্রি রোগ।

২. সিস্টি-নোসিস।

৩. আই-জিএ নেফ্রো-প্যাথি।

৪. লুপাস নেফ্রাইটিস।

৫. পলিসি-স্টিক কিডনি রোগ।

মুখের কোন লক্ষণ কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দেয়?

মুখের দুর্গন্ধ কিডনি সমস্যার একটি স্পষ্ট লক্ষণ হতে পারে। 

শরীরে অতিরিক্ত ইউরিয়া জমা হওয়ার কারণে এমনটি ঘটে।

ইউরিয়া হলো একটি যৌগ, যা শরীরের কোষ দ্বারা, 

ব্যবহৃত প্রোটিনের প্রাথমিক নাইট্রো-জেনাস প্রস্রাবের সঙ্গে নির্গত হয়।

বিশেষজ্ঞের মতে, কিডনির সমস্যার কারণে শরীরে ইউরিয়া জমা হয়। 

অতিরিক্ত ইউরিয়া মুখের শ্বাস ও স্বাদে প্রভাব ফেলে।

কিডনি ঠিক মতো কাজ না করলে বিভিন্ন খনিজ জমতে শুরু করে। 

সে গুলো রক্তের প্রবাহে বেড়ে যায় পরবর্তী সময়ে। 

এ ক্ষেত্রে মুখে একটি ধাতব স্বাদ ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।

শরীরে অতিরিক্ত ইউরিয়ার কারণ কী?

 উচ্চ (ব্লাড ইউরিয়া নাইট্রোজেন),বি -উই- এন লেভেল,

মানে আপনার কিডনি ভালো ভাবে কাজ করছে না।

 বি-উই-এন’র মাত্রা ডিহাইড্রে-শনের কারণেও হতে পারে।

কীভাবে শরীরে ইউরিয়ার মাত্রা কমাবেন?

শরীরে ইউরিয়ার মাত্রা বেড়ে গেলে, তখন থেকে, 

অবশ্যই প্রয়োজনীয় খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। 

এ ক্ষেত্রে প্রোটিন গ্রহণ কমাতে হবে, উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার, 

যেমন- লাল মাংস, মাছ, দুগ্ধজাত খাবার, মটর শুটি, 

বাদাম ও শস্য খাওয়া এড়াতে হবে।
হাই-ড্রেটেড থাকা ও,

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাও শরীরে বি-উই-এন’এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। 

বেশি পানি পান করলে বার বার প্রস্রাবের চাপ বাড়বে ও, 

শরীর থেকে আরও  ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন বেরিয়ে যাবে।

কিডনি সমস্যার অন্যান্য লক্ষণ বমি বমি ভাব,

 ও বমি, পেশিতে খিঁচুনি, ক্ষুধা কমে যাওয়া, 
পা ও, 

গোড়ালি ফুলে যাওয়া, শুষ্ক ও চুলকানি
 ত্বক, 

শ্বাস-কষ্ট, ঘুমের সমস্যা, খুব বেশি বা খুব কম,

 প্রস্রাব করা কিডনির কিছু সাধারণ লক্ষণ।

প্রাথমিক অবস্থায় কিডনির রোগ শনাক্ত করা গেলে, 

কিডনি ফেই-লিওর প্রতিরোধ করা যায়। এর সঙ্গে সঙ্গে, 

কিডনির স্বাস্থ্যের প্রতি সবার আরও যত্নবান হতে হবে।

Similar Posts

  • দাঁতের ব্যথা

    সারা বিশ্বে দন্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রে দাঁতের ব্যথা একটি অতি সাধারণ পরিস্থিতি। দাঁত ব্যথা একটি অপ্রীতিকর মানসিক অভিজ্ঞতা। কোন একটি উদ্দীপক বস্তুর সংস্পর্শে এসে ব্যথা শুরু হয়, আর তার পরে কেন্দ্রীয় স্নায়ু তন্ত্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইহা বেশি বা কম অস্বস্তিকর, দুর্দশা এবং যন্ত্রণার একটি সংবেদন। দাঁতের ব্যথার কারণ হল দাঁতের রোগ, দাঁতে গর্ত অথবা দাঁতে আঘাত লাগা।…

  • থাইরয়েড হরমোন-এর কাজ

    থাইরয়েড হরমোন-এর কাজ দেহের এক অপরিহার্য উপাদান এটি কমবেশি হলে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। প্রত্যেক মানুষের দেহে, নির্দিষ্ট মাত্রায় থাইরয়েড হরমোন থাকা জরুরি। এর হেরফের হলেই নানা জটিলতা দেখা দেয়। থাইরয়েড কী? থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হয় থাইরয়েড নামের গ্রন্থি থেকে। এই গ্রন্থি গলার সামনের উঁচু হাড়ের পেছনের দিকে, ট্রাকিয়া বা শ্বাস নালিকে পেঁচিয়ে থাকে। এই গ্রন্থির…

  • কিডনির অসুখ

    কিডনি’র প্রধান কাজ রক্ত পরিশোধন করা। কিডনি’র অসুখে চোখের নিচে, পায়ের গোড়ালিতে পানি জমে। কারণ ছাড়াই সব সময় ক্লান্তি ভাব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় কিডনি ইন্সটিটিউট এবং, হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজল নাসের বলেছেন, একদম প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনির অসুখের তেমন কোন লক্ষণ থাকে না। কারণ শরীর কিডনি’র পরিবর্তনের সাথে শুরুতে মানিয়ে নিতে…

  • হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি: স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে রুটিন চেক আপ কেন জরুরি

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সব চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যায় হৃদ রোগ ও স্ট্রোকের কারণে।প্রশ্ন আসে – একজন মানুষের কোন সময় হৃদ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা কীভাবে অনুমান করা সম্ভব। আপাত দৃষ্টিতে এই প্রশ্নের উত্তরটা সহজ – নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলেই মানুষের স্বাস্থ্যের সামগ্রিক চিত্রের একটি ধারণা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু…

  • বাচ্চাদের কোন টিকা কিসের জন্য দেওয়া হয়

    সঠিক সময়ে সঠিক টিকা দেয়ার মাধ্যমে বাচ্চাদের অনেক ঘাতক ব্যাধি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। অনেক সময় বাবা মার সীমিত জ্ঞান বিষয়টিকে আরও বেশি জটিল করে তোলে। সকল বাবা মার উচিত বাচ্চাদের টিকার ব্যাপারে খুব ভালো ভাবে জেনে রাখা যাতে করে সঠিক সময়ে সঠিক টিকা দেয়া সম্ভব হয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়। টিকা…

  • হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে করণীয়

    শরীরের স্বাভাবিক কার্যাবলী ঠিক রাখতে হরমোন, অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইন্সুলিন, ইস্ট্রোজেন, ডোপামিন, এফএসএইচ, টিএসএইচ ইত্যাদি জৈবিক রাসায়নিক উপাদান মেজাজ, চুলের বৃদ্ধি, ওজন, প্রজনন ক্ষমতা, মানসিক অবস্থা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। হরমোনের সঠিক সরবরাহ বজায় রাখতে শরীরের, সকল গ্রন্থি একই তালে তাল মিলিয়ে কাজ করে। আর এর সামান্য ঘাটতিই স্বাস্থ্যগত জটিলতা ডেকে আনতে পারে,…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *