কিডনি ভালো রাখতে যা প্রয়োজন ।

অনেকের মুখেই শোনা যায় কিডনির সমস্যা।

কিডনির চিকিৎসা খুবই ব্যয় বহুল এবং কষ্ট সাধ্য ব্যাপার।

তাই যে কোনো রোগ হওয়ার আগে তা নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

কিডনি ভালো রাখতে আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে। 

কিডনি ভালো রাখতে খুব বেশি নিয়ম মানার প্রয়োজন নেই।

মাত্র ৫টি নিয়ম মেনে চললে সারা জীবন ভালো থাকবে আপনার কিডনি। 

শরীরে পরিষ্কার রক্ত প্রবাহের পেছনে কিডনির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ।

এ ছাড়া কিডনির ইলেক্ট্রো-লাইট ও ফ্লুইডের ভার সাম্য বজায় রাখে।

তাই কিডনি ভালো রাখতে পারলে হৃদ যন্ত্র, ফুস ফুসও ভালো থাকে। 

কিডনিতে পাথরের সমস্যার কথা আপনারা অবশ্যই শুনেছেন।

এ ছাড়া কিডনির ইনফ্ল্যা-মেশন, রেনাল ফেইলুর,

নেফরো-টিক সিন্ড্রম ও সিস্টের সমস্যা হলে কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।
 
তবে যা কিছু্ই হোক না কেন। একটি বিষয় সব সময় মনে রাখবেন তা হলো।

আপনার কিডনি সুস্থ রাখতে হবে। কিডনি ভালো রাখা কঠিন কোনো বিষয় নয়।

মাত্র কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলেই কিডনি ভালো থাকবে।  

পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করুন কিডনি সুস্থ রাখতে হলে,

বিশুদ্ধ পানি পানের বিকল্প নেই। প্রচুর পানি পান করুন।

পানি কিডনিকে সচল রাখতে ও কিডনির স্বাভাবিক কার্য কলাপে সাহায্য করে।

প্রাপ্ত বয়স্ক একজন মানুষ দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি পান করলে কিডনি ভালো থাকবে। 

আমরা কোমল পানীয়, কফি, চা সহ বিভিন্ন খাবার খেয়ে থাকি।

ক্যাফেইন তাৎক্ষণিক ভাবে শারীরে ক্লান্তি ভাব দূর করে। 

তবে পানি স্বল্পতা তৈরি করে। শরীরে পানি স্বল্পতা হলে,

কিডনি স্টোনের সমস্যা হতে পারে ।তাই সতর্ক হোন।   

ধূমপানঃ

ধূমপান একটি ভয়াবহ বদ অভ্যাস। ধূম পানের ফলে ফুস ফুস ও,

ব্লাড ভ্যাসেলকেও ক্ষতি গ্রস্ত হয় । মনে রাখবেন ধূমপান,

শুধু নিজের জন্য নয় অন্যের জন্যও ক্ষতিকর । তাই ধূমপান ত্যাগ করুন।  

পেইন কিলারঃ

সামান্য ব্যথা হলেই পেইন কিলার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে আজই তা ত্যাগ করুন।

কিডনির কোষের অতিরিক্ত ক্ষতি করে পেইন কিলার।

ব্যথা একান্ত অসহ্য হলে তবেই তা খান।

লবণঃ

খাওয়ার পাতে লবণ খান খুব? এ অভ্যাসে রাশ টানুন আজই।

কিডনি অতিরিক্ত সোডি-য়াম শরীর থেকে বের করতে পারে না।

ফলে বাড়তি লবণের সোডি-য়াম-টুকু রয়ে যায় কিডনিতেই।

এতে ক্ষতি গ্রস্ত হয় কিডনি।

প্রস্রাব আটকে রাখাঃ

সুলভ শৌচালয় ব্যবহার করতে চান না, তাই বাইরে বেরোলে আটকে রাখেন প্রস্রাব?

এমন অভ্যাস কিন্তু শরীরের জন্য খুব ক্ষতি কর।

অনেকক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে তা কিড- নিতে চাপ তো ফেলেই, এমনকি,

চিকিৎসকদের মতে, এমন অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে,

বজায় রাখলে অচিরেই নষ্ট হতে পারে কিডনি।

মাংস না খেয়ে মাছ, শাক সবজি খান । চর্বি কিডনির জন্য খুব ক্ষতি কারক।

মাংসের ফাইবারও পরিমাণে বেশি হলে তা কিডনির ওপর চাপ ফেলে।

তাই ঘন ঘন মাংস খাওয়ার প্রবণতা থাকলে তা কমান, খেলেও খুব পরিমাণ মেপে খান।
 

Similar Posts

  • থাইরয়েড রোগের চিকিৎসা

    থাইরয়েড রোগের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগী যে ধরনের রোগে ভুগছে তার উপর। থাইরয়েড রোগের চিকিৎসার প্রধান লাইন হল চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার হরমোন এবং বিকিরণ। সহজ (অ-বিষাক্ত) গলগণ্ডঃ চিকিৎসাঃ আয়োডিন পরিপূরক। সার্জিক্যালঃ সাবটোটাল থাইরয়েডেক্টমি, যেখানে থাইরয়েডের লোব, এবং ইসথমাস উভয়ই সরানো হয় তবে শ্বাস নালী , এবং খাদ্য নালীর সংযোগ স্থলের কিছু অংশ সংরক্ষিত থাকে। বিষাক্ত গলগণ্ডঃ…

  • দাঁতে গর্ত হলে

    দাঁতে গর্ত এবং মাঝে মধ্যেই ব্যথা হলে ;দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। ফেলে রাখলেই ছড়িয়ে যায় দাঁতে সংক্রমণ। যা প্রাণ সংশয়ও ডেকে আনতে পারে। এমনিতেই দীর্ঘ দিন ধরে দাঁতের সমস্যা ফেলে রাখলে অনেক বিপত্তি। তাই যদি ডাক্তার বলেন, দাঁত তোলা কিংবা রুট ক্যানাল (Root Canal Treatment), করা ছাড়া কোনও উপায় নেই তাহলে দেরি করা মানে জেনে…

  • দাঁতের রোগ ও চিকিৎসা

    দাঁতের সাথে মুখের ভেতরের অনেক অসুখই হয়ে থাকে মানুষের। মাড়ি এবং দাঁতের নানা সমস্যাই প্রায় প্রত্যেককে সহ্য করতে হয়।  সুন্দর হাসি ও আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্বের জন্য উজ্জ্বল রোগমুক্ত দাঁতের গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিক সময়ে যত্নের অভাবে দাঁতে আক্রমণ করে রোগ-জীবানু ও বিভিন্ন রকমের অসুখ।তখন অকালে দাঁত ও দাঁতের মাড়ি হয়ে ওঠে কালচে, ভঙ্গুর ও হলদে রংয়ের। যা খুবই বিশ্রী দেখায়। একটু…

  • ঔষধজনিত লিভার সমস্যাঃ

    আমরা প্রতিদিন হরেক রকম খাদ্য গ্রহণ করি। অসুস্থ মানুষদের নানাবিধ রোগের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঔষধ সেবন করতে হয়। আমরা খাদ্যনালি দিয়ে যত প্রকারবস্তুই গ্রহণ করি না কেন সব কিছুই প্রাথমিক পরিপাকের পর অন্ত্রের রক্ত নালি দিয়ে প্রথমে লিভারে প্রবেশ করে। এরপর লিভার থেকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে ঋদ পিণ্ডের মাধ্যমে সমগ্র শরীরে ছেড়ে ছেড়ে দেয়া…

  • বাচ্চাদের কোন টিকা কিসের জন্য দেওয়া হয়

    সঠিক সময়ে সঠিক টিকা দেয়ার মাধ্যমে বাচ্চাদের অনেক ঘাতক ব্যাধি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। অনেক সময় বাবা মার সীমিত জ্ঞান বিষয়টিকে আরও বেশি জটিল করে তোলে। সকল বাবা মার উচিত বাচ্চাদের টিকার ব্যাপারে খুব ভালো ভাবে জেনে রাখা যাতে করে সঠিক সময়ে সঠিক টিকা দেয়া সম্ভব হয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়। টিকা…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *