কিভাবে ফেসবুক মার্কেটিং (Facebook Marketing) করবেন

ফেসবুকে মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে আপনার ব্যবসার জন্য একটি পেজবুক পেজ তৈরি করে নিতে হবে।

কিভাবে একটি সুন্দর ফেসবুক পেজ তৈরি করবেন তা জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ তৈরি করার ইনফোটি দেখুন।

এছাড়াও গুগলে সার্চ করেও এ বিষয়ে আপনি বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। ফ্রি কিংবা পেইড উভয় ফেসবুক মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে ফেসবুক পেজ জরুরী।

ফেসবুকে ফ্রি মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজে গ্রাহকের উপকারে আসে এমন কিছু আর্টিকেল নিয়মমিত শেয়ার করুন। আপনার পন্য বা সেবা সরাসরি প্রচার করতে যাবেন না।

আর্টিকেলের ভিতর এমন ভাবে পন্য প্রচার করুন যেন গ্রাহক বুঝতে না পারে যে, আপনি শুধু পন্য বা সেবাটির জন্য আর্টিকেল শেয়ার করছেন।

এতে আপনার ফেসবুক পেজের ফলোয়ার অনেক বেড়ে যাবে এবং আপনার মার্কেটিং করা সহজ হয়ে যাবে।

বিভিন্ন বিষয় অনুযায়ী বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের সদস্য হয়েও আপনার পন্য কৌশলে প্রচার করতে পারেন। এতে অনেক গ্রাহক পেয়ে যাবেন।

ফ্রি মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে আপনাকে ধৈর্য ধরে আগাতে হবে। কেননা প্রথমেই আপনি অনেক গ্রাহক পাবেন না। নিয়মিত পোস্ট শেয়ার করলে গ্রাহকরা সেগুলো পড়তে আসবে।আর পন্য সম্পর্কে জানতে পারবে। পছন্দ হলে এখান থেকেই আপনাকে অর্ডার দিবে।

ফেসবুকে পেইড মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

আগেই বলেছি ফেসবুক পেজ ছাড়া পেইড মার্কেটিং করা সম্ভব নয়।

তারপরও আপনি ফেসবুক মার্কেটারদের সাথে চুক্তি করে আপনার পন্য প্রচার করতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে মার্কেটারদের ফেসবুক পেজে আপনার পন্য প্রচার করবে বিনিময়ে তাদেরকে আপনি চুক্তিভিত্তিক বা কমিশন ভিত্তিক মূল্য পরিশোধ করবেন।

সবচেয়ে ভাল হচ্ছে নিজের ব্যবসার নামে ফেসবুক পেজ খুলে ফেসবুকের অ্যাড ম্যানেজারের সাহায্যে বিজ্ঞাপন দেওয়া।

এতে আপনার মনমত অডিয়েন্স টার্গেট করে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। এ জন্য আপনার অনলাইনে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে যে গুলো আপনার হয়ে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে বিনিময়ে তারা কিছু অর্থ নিয়ে থাকে। আপনি এক্সপার্ট না হলে তাদের সাহায্য নিতে পারেন।

ফেসবুক মার্কেটিং দক্ষতা অর্জন করা :

আপনি যদি ফেসবুক মার্কেটিং দক্ষতা অর্জন করেন তাহলে অনেক ভাবেই ইনকাম করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।

কিন্তু ফেসবুক মার্কেটিং দক্ষতা বলতে আমাদের কাছে পরিস্কার না।

ফেসবুকে মার্কেটিং করতে কি কি দক্ষতা থাকা প্রয়োজন তা নিচে আলোচনা করা হলো।

কেননা দক্ষতা ছাড়া মার্কেটিং করে সময় অপচয় আর অর্থ খরচ ছাড়া কোন লাভ হবে না।

ফেসবুক পেজের লিড সংগ্রহ করা :

ফেসবুক মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে লিড সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা ফ্রি মার্কেটিং করতে চান তাদের জন্য লিড সংগ্রহ ছাড়া লাভ নাই।

পেজের লাইক বৃদ্ধি করে আপনার ব্যবসার কোন লাভ হবে না।

মনে করুন আপনি ওজন কমানোর কোন ঔষধ বিক্রি করার জন্য ফেসবুক পেজ খুলছেন । সেখানে ২০০০০ লাইক রয়েছে, যার মধ্যে ১৯৯৯৯ জনই চিকন মানুষ লাইক করেছে।

অথচ তারা আপনার ঔষধ ক্রয় করবে না। মোটা নিয়ে যারা চিন্তিত তাদেরকেই আপনার পেজে নিয়ে আসতে হবে। এটাকেই লিড সংগ্রহ বলে।

লিড পরিচর্যা করা :

আপনি যখন লিড সংগ্রহ করবেন তখন তাদের পরিচর্যাও করতে হবে। নইলে আপনার লিড সংগ্রহে থাকবে না।

তারা চলে যাবে অনত্রে। তাদেরকে পেজে ধরে রাখার জন্য আপনাকে মোটা থেকে চিকন হওয়ার সচেতন মূলক পোস্ট শেয়ার করতে হবে।

আপনার শেয়ার করা পোস্ট দেখে মোটা মানুষগুলো আপনার পেজে ভিড় করবে। এবং তাদের মধ্যে চিকন হওয়া প্রডাক্ট ক্রয় করার আগ্রহ তৈরি হবে।

মার্কেটিং এর ভাষায় এটাকে লিড নার্সিং বা লিড পরিচর্যা বলে।

সেলস ফানেল তৈরি করা :

সাধারণত পোস্ট করার সময় আমরা প্রোডাক্টি ক্রয় করা সম্পর্কিত পোস্ট দেই। প্রোডাক্টের মূল্য, এটা কেন ভাল, কেন কেনা প্রয়োজন ইত্যাদি টাইপের পোস্ট দিয়ে থাকি।

কিন্তু এটা করতে থাকলে একটা সময় সেল বন্ধ হয়ে যাবে কিংবা ভাল ফল পাওয়া যায় না। অথচ প্রচুর পরিশ্রম করা হচ্ছে।

এ জন্য আপনাকে লিড সংগ্রহ ও লিড নার্সিং করায় সব সময় মনোযোগ দিতে হবে। একটা উদাহরণ দেই। ধারণা একটা অনলাইন ব্লগ থেকে নেয়া হয়েছে।

বাসা বাড়িতে পানির ট্যাংকি রয়েছে। আপনি ঘরের ভিতর কল ছেড়ে দিয়েছেন। পানি পড়তে পড়তে একটা সময় ট্যাংকি খালি হয়ে যাবে।

যেমন কল ছেড়েছেন তেমনি নিয়মিত ট্যাংকিতে পানি উঠাবেন। মোটর ছাড়িয়ে ট্যাংকিতে পানি উঠাবেন, এটা হচ্ছে আপনার লিড সংগ্রহ।

আবার ট্যাংকিতে পানি ভরছে এটা হচ্ছে লিড পরিচর্যা এবং পানি ছেড়েছেন, এটা হচ্ছে আপনার সেল শুরু হওয়া।

কনটেন্ট ডেভেলপ করা :

কনটেন্ট বলতে ফেসবুক পেজে যা কিছু শেয়ার করা হবে তার সবই কনটেন্ট। ছবি, গ্রাফিক্স, আর্টিকেল, লিংক ইত্যাদি।

লিড সংগ্রহ, লিড নার্সিং ও সেলস ফানেল তৈরির চিন্তা করে কনটেন্ট তৈরি করতে হবে।

এই বিষয়টা মাথায় রেখে আপনাকে কনটেন্ট ডেভেলপ করতে হবে।

সাম্ভাব্য কাস্টমারের আচরণ জেনে কনটেন্ট ডেভেলপ করা :

কনটেন্ট ডেভেলপ করার জন্য আপনাকে কাস্টমারের ডাটা সংগ্রহ করে তাদের আচারণ বুঝে কনটেন্ট ডেভেলপ করতে হবে।

তাদের আচারণ বলতে তাদের বয়স, সেক্স, তাদরে ক্রয় ক্ষমতা, ক্রয় করার অভ্যাস ইত্যাদি জেনে আপনাকে আগাতে হবে।

সকল সাম্ভাব্য কাস্টমারের আচরণ অ্যানালাইস করতে হবে।

নিউজ ফিড অ্যালগরিদম সম্পর্কে ভাল করে জানা :

ফেসবুকে কোন ব্যবহারকারীর নিউজ ফিডে কোন পোস্ট দেখাবে সেটা একটা অ্যালগরিদম মেইনটেন্ট করে চলে। এটাকে EDGE Rank বলে।

এই অ্যালগরিদমের কারনেই আপনার সকল ফ্রেন্ডের পোস্ট আপনার নিউজ ফিডে দেখায় না। আবার আপনার পোস্টও সবাই দেখে না।

অ্যালগরিদম না জেনে মার্কেটিং করেও লাভ হবে না। আপনি হয়তো ১০০ গ্রুপে মার্কেটিং করছেন কিন্তু আপনার পোস্ট কেউ দেখতেছে না।

এটার কারণ হচ্ছে এই অ্যালগরিদম। তাই মার্কেটিং করার আগে অ্যালগরিদম ভাল করে জানুন।

দেখবেন অল্প পরিশ্রমেই আপনি অনেক বেশি গ্রাহক পেয়ে গেছেন।

শেষকথাঃ

আপনার কাছে ইনফোটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করে নিজের ওয়ালে রেখে দিন।

ফলে পরবর্তী যে কোন সময় নিজের ওয়ালেই সহজেই এটি খুজে পাবেন।

অন্যদের এ বিষয়ে জানাতে চাইলে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *