কোলেস্টেরল কমাবে
স্যামন, টুনা, সার্ডিন মাছ ভাল ফ্যাটের উৎস। এই প্রজাতির মাছ গুলো আসলে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ । এ গুলো শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিস্ময়কর ভাবে কাজ করে।
শরীরে এলডিএল কোলেস্টরল বেড়ে গেলে রক্তনালীতে চর্বি জমতে শুরু করে। নালী সংকুচিত হয়ে যায়। রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়।
এর ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। এর থেকে বাঁচার জন্য স্বাস্থ্যকর খাওয়া দাওয়ার পাশা পাশি তৈলাক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া কমাতে হবে।
সঙ্গে চাই নিয়মিত ওয়ার্ক আউট বা ব্যায়াম। ধূম পান এবং মদ্য পান ছেড়ে দেওয়াই ভাল।
কোন কোন খাবার দ্রুত কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, তার একটা তালিকা এখানে দেওয়া হল।
দ্রবণীয় ফাইবারঃ
দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রক্তের প্রবাহে কোলেস্টেরল শোষণ কমাতে সাহায্য করে, ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। এই ধরনের খাবারের মধ্যে অন্যতম হল লেগিউম, কিডনি বিন, হোল গ্রেইন, ব্রাসেল স্প্রাউট ইত্যাদি।
কোলেস্টেরল কমাতে ৫টি খাবারঃ
রক্তে কোলেস্টেরল বা চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ভয়ে আপনি হয়তো বাদ দিয়েছেন প্রিয় অনেক খাবার। মাংস খাওয়া যাবে না। মিষ্টি খাওয়া বন্ধ। ভাজা পোড়া ফাস্ট ফুড বিদেয় হয়েছে আগেই।
ভালো খাবার কোনটা? কী খেলে ক্ষতি না হয়ে বরং উপকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?
এমন খাবার নিশ্চয়ই আছে, আর সে গুলো একে বারে বিস্বাদও নয়। ওজন ও রক্তে চর্বি যাঁদের বেশি অথবা হৃদ রোগ, উচ্চ রক্ত চাপ বা ডায়াবেটিসের রোগীদের বেছে নিতে হবে এমন খাবার, যা রক্তে অসম্পৃক্ত বা উপকারী চর্বি সরবরাহ করে। পাশা পাশি সেগুলো যেন রক্তে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এরকম কিছু খাবারের একটি তালিকা দিয়েছে।
১. ওটমিল বা ভুট্টার তৈরি খাবারঃ
সকালের নাশতায় ভুট্টা বা যবের তৈরি ওটমিল বা কর্নফ্লেক্স হতে পারে একটি আদর্শ খাবার। এতে করে দিনের শুরুতেই ১ থেকে ২ গ্রাম আঁশ খাওয়া হয়ে যাবে, যা অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেবে।
২. বাদামঃ
প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম আপনার রক্তে ক্ষতিকর চর্বি বা কম ঘনত্বের লিপিডের (এলডিএল) মাত্রা ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া বাদাম খেলে পাবেন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শক্তি জোগাবে সারা দিন।
৩. শিমের বিচিঃ
শিমের বিচি, মটর শুঁটিতে আছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। এমন খাদ্য সহজে পেট ভরার তৃপ্তি দেয়। ফলে কম খাওয়া হয়।
৪. তৈলাক্ত সামুদ্রিক মাছঃ
সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অন্তত তৈলাক্ত মাছ খান। সামুদ্রিক মাছ হলে আরও ভালো। এতে আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা রক্তে ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে।
৫. সবজি, ফলমূলঃ
সবুজ পাতা ও ডাঁটাসুদ্ধ সবজি, যেমন বিভিন্ন ধরনের শাক এবং খোসাসহ ফল মূলে (যেমন: পেয়ারা, আপেল) রয়েছে অন্ত্রের চর্বি শোষণ কমানোর উপাদান।
প্রতিদিন এ ধরনের খাবার আপনার রক্তে এলডিএলের মাত্রা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে বলে গবেষণায় তথ্য মিলেছে।