পোলিওমুক্ত বাংলাদেশ

২৭ মার্চ ২০১৪ তারিখে “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা” বাংলাদেশকে পোলিওমুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এই সংস্থাটির দিল্লী কার্যালয় থেকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে পোলিও মুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২০০৬ সালের ২২ নভেম্বর এ দেশে সর্ব শেষ পোলিও রোগী পাওয়া যায়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে বাংলাদেশকে তখন পোলিও মুক্ত ঘোষণা করা হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একক ভাবে কোনো দেশকে পোলিও মুক্ত ঘোষণা না করে সেটি অঞ্চল ভিত্তিক করে থাকে। কেননা সীমানা পার হয়েও ভাইরাসের যাতায়াত হতে পারে।

২০১১ সালে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পোলিও রোগীর সন্ধান পাওয়ায় বাংলাদেশকে পোলিও মুক্ত ঘোষণা করা যায়নি। কোনো দেশে পর পর তিন বছর পোলিও রোগীর সন্ধান পাওয়া না গেলে সে দেশকে পোলিও মুক্ত ঘোষণা করা হয়। গত কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশ, ভারত সহ পাশের দেশে পোলিও রোগী না পাওয়ায় এ অঞ্চলকে পোলিও মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

পোলিও রোগ ও বর্তমান বিশ্ব:

 ১৯১৬ সালে ১ম আমেরিকায় পোলিও রোগ মাহমারি হিসেবে দেখা দেয়। সে সময় পোলিও রোগের কারণে ২৭ হাজারের বেশি মানুষের অঙ্গ হানি এবং ৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

১৯৪৫ সালে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল শুরু করে পোলিও প্লাস ক্যাম্পেইন। সে সময় ১২৫ টিরও বেশি দেশে প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হচ্ছিল। ১৯৫৪ সালে ১ম পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়। ১৯৯১ সালে আমেরিকায় শেষ পোলিও রোগ শনাক্ত করা হয়েছিল।

১৯৯৬ সালে ১৫০টির বেশি দেশকে পোলিও মুক্ত ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সালে পশ্চিমা দেশ গুলোকে পোলিও মুক্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০০২ সালে ইউরোপ থেকে পোলিও নির্মূল করা হয়। ২০০৩ সালে মাত্র ৭টি দেশে পোলিও রোগ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

২০০৮ সালে পোলিও আক্রান্ত দেশ হিসেবে আফগানিস্তান, ভারত, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তান এই চারটি দেশকে চিহ্নিত করা হয়। পোলিও নির্মূলের হার দাঁড়ায় শতকরা ৯৯.৪ ভাগ।

২০০৬ সালে ভারতে ৬৭৬ জন পোলিও রোগী থাকলেও ২০০৭ সালেই তা কমে হয় ২৮১ জন। ২০০৮ সালে গোটা বিশ্বে মাত্র ১৬৩৩ জন পোলিও রোগী পাওয়া যায়। তবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নাইজেরিয়া এখনও পোলিও রোগ রয়েছে।

উপসংহার:

পোলিও একটি ভয়াবহ ব্যাধি, যা বাংলা- দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য হুমকি স্বরূপ। তবে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ আজ পোলিও মুক্ত। বাংলা- দেশের জন্য ইহা একটি বিরাট ইতিবাচক দিক।

Similar Posts

  • টেস্টোস্টেরন-এর ঘাটতি কি সন্তান জন্মদানে বাঁধা

    টেস্টে-স্টোরন পুরুষের যৌন উত্তেজনা মূলক হরমোন হলেও,  এর ঘাটতি সব সময় বন্ধ্যাত্বের কারণ হয় না।  কম টেস্টো-স্টেরন থাকা সত্ত্বেও এক জন পুরুষ শুক্রানু উৎপন্ন করতে পারেন, কারণ শুক্রানু উৎপাদন প্রধাণতঃ অন্যান্য হরমোন দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়।  তবে টেস্টো-স্টের-নের মাত্রা কমে গেলে শুক্রানু উৎপা-দনের মাত্রা কমে যেতে পারে। টেস্টো-স্টের-নের মাত্রা অন্ডো-কোষে বেশি থাকে। টেস্টো-স্টেরন কম হলে যৌন…

  • গুরুত্বপূর্ণ হরমোন (টেস্টোস্টেরন) সমস্যা ও সমাধান

    পুরুষের দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন হলো টেস্টো-স্টেরন। এই হরমোনের ওপরই নির্ভর করে পুরুষের শারীরিক উর্বরতা। নারী দেহেও সামান্য পরিমাণে এই হরমোন দেখা যায়। পুরুষের শরীরে এই হরমোন কমে গেলে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়— ১. অবসাদঃ দুপুরের খাবারের পর অনেকেরই দুর্বল ভাব চলে আসে। অফিসের টেবিলে প্রায়ই উদ্দীপনা হারিয়ে যায়। যে কোনো উদ্যমী কাজে…

  • প্লেগের উৎপত্তি কোথায়, জানালেন বিজ্ঞানীরা

    আন্তর্জাতিক ডেস্কপ্রকাশ : ১৬ জুন ২০২২ ব্ল্যাক ডেথ নামে পরিচিত প্লেগ রোগের উৎপত্তি স্থল আবিষ্কার করা গেছে বলে বিশ্বাস করছেন গবেষকরা । ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকায় রোগটি কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটানোর ছয়শ’ বছরের বেশি সময় পর এই তথ্য জানতে পারার কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা। চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝা মাঝির এই স্বাস্থ্য বিপর্যয়কে মানব ইতিহাসের সব…

  • নিউ ইয়র্ক সিটির পয়ঃ নিষ্কাশনের নর্দমায় পোলিও ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে । রাজ্য জুড়ে জরুরী অবস্থা জারী করা হয়েছে যুক্ত রাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গ রাজ্যে পোলিও রোগের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়ার পর রাজ্যের গভর্নর জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। আমেরিকান কর্মকর্তারা বলছেন নিউ ইয়র্ক শহর এবং আশ পাশের চারটি এলাকার পয়ঃ নিষ্কাশন নর্দমা থেকে নেওয়া নমুনা…

  • পোলিও মুক্ত বিশ্ব

    চাই সচেতনতা সব শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিতে হবে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গোটা বিশ্বকে অবাক হয়ে আরেকটি ভয়াবহ মহামারী দেখতে হয়েছিল। রোগটির নাম পোলিও। ইহা এক ধরনের ভয়াবহ সংক্রামক ভাইরাস এবং যে কোন সময় মহামারী রূপ ধারণ করতেপারে । এই ভাইরাসের আক্রমণ স্থল নার্ভ এবং মাংসপেশি। বিশেষ করে শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। বড়রাও বাদ যায়…

  • কিডনিতে পাথর কেন হয়, কী করণীয়ঃ

    পেটের ব্যথা প্রত্যাশিত কিছু নয়, কিন্তু তারপরও সাধারণ কোনো কারণে পেটব্যথা হতে পারে। ব্যথা খুব তীব্র হলে বুঝতে হবে ইহা জটিল কোনো রোগের লক্ষণ। যেমন- কিডনিতে পাথর। এই পাথর মূলত কিডনিতে পুঞ্জিভূত খনিজের শক্ত স্তূপ। শিকাগোতে অবস্থিত রুশ ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার কুগান মনে করেন, ১০ শতাংশ লোকের কিডনিতে পাথর হতে পারে। ৪০…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *