মৃগীরোগ কি?


মৃগীরোগ হল এক ধরণের স্নায়বিক ব্যাধি
যা একজন ব্যক্তির বারবার খিঁচুনি ঘটায়। মস্তিষ্কে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক ক্রিয়া কলাপের কারণে এই খিঁচুনি ঘটে যা মস্তিষ্কের কোষ গুলির মধ্যে মেসেজিং সিস্টেমে একটি অস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটায়।
প্রাথমিক লক্ষণ গুলির মধ্যে সাধারণতঃ খিঁচুনি অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং সচেতনতা হারাতে পারে।
মৃগী রোগের খিঁচুনি গুলির তীব্রতা একটি অন্তর্নিহিত ব্যাধির উপর নির্ভর করে যা মৃগী রোগকে ট্রিগার করে।
মৃগী রোগ যে কোন বয়সে হতে পারে, ৬০ বছরের বেশি বয়সী বা ছোট বাচ্চাদের মধ্যে হতে পারে। ইহা এমন একটি অবস্থা যা সারা জীবন থাকে এবং বয়সের সাথে সাথে আরও ভাল হতে পারে । বিশ্বের ৬৫ মিলিয়- নেরও বেশি মানুষ মৃগী রোগে ভুগছেন, পুরুষরা মহিলাদের তুলনায় কিছুটা বেশি ভোগেন ।
চিকিৎসার প্রথম সারিতে খিঁচুনি-বিরোধী ঔষধ অন্তর্ভুক্ত । ঔষধ কার্যকর না হলে, রোগীদের অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে । মস্তিষ্কের কোন অংশ প্রভাবিত হয় তার উপর নির্ভর করে একজন ব্যক্তির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের খিঁচুনি হতে পারে।
এই নিবন্ধের মাধ্যমে মৃগী রোগ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো –
এপিলেপসি/মৃগীর খিঁচুনি কত প্রকার?
এপিলেপটিক খিঁচুনি দুটি প্রধান বিভাগে বিভক্ত।
আংশিক খিঁচুনিঃ একটি আংশিক খিঁচুনি ঘটে যখন একজন ব্যক্তির মস্তিষ্কের একটি অংশে মৃগীর কার্য কলাপ বা হঠাৎ অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক আবেগ তৈরি হয়। এই খিঁচুনিগুলি ফোকাল খিঁচুনি নামেও পরিচিত । দুই ধরনের আংশিক খিঁচুনি আছে:
সাধারণ আংশিক খিঁচুনিঃ এই ধরনের খিঁচুনি চলাকালীন রোগী সচেতন থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, রোগী তার আশে পাশের সম্পর্কেও সচেতন, এমনকি যখন খিঁচুনি চলছে।
জটিল আংশিক খিঁচুনিঃ এই খিঁচুনি রোগীর চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রোগীর সাধারণত খিঁচুনির কথা মনে থাকে না। যদি তারা তা করে তবে তাদের স্মৃতি অস্পষ্ট হবে।
সাধারণীকৃত খিঁচুনিঃ একটি সাধারণ খিঁচুনি ঘটে যখন মৃগীর কার্যকলাপ বা হঠাৎ অস্বা- ভাবিক বৈদ্যুতিক আবেগ তৈরি হয় যার সাথে পুরো মস্তিষ্ক জড়িত থাকে । খিঁচুনির প্রক্রিয়া চলাকালীন রোগী চেতনা হারাবেন।
টনিক-ক্লোনিক খিঁচুনি (আগে গ্র্যান্ড ম্যাল খিঁচুনি বা গ্র্যান্ড ম্যাল এপিলেপসি নামে পরিচিত): সম্ভবত সাধারণ খিঁচুনির সবচেয়ে পরিচিত প্রকার। এটি চেতনা হ্রাস, শরীরের দৃঢ়তা এবং কম্পন ঘটায়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *