সর্দি-কাশি আর গলাব্যথা হলে

বাংলাদেশে সর্দি-কাশির মতো সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের চিকিৎসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা আছে হাসপাতালে ।
বাংলাদেশে ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি একটি সাধারণ বিষয়। এদেশে প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিল মাসে সর্দি-কাশির প্রাদুর্ভাব থাকে বলে চিকিৎসকরা জানান।বছরের এই সময়টিকে অনেকেরই মৃদু জ্বর ও সর্দি-কাশি থাকে।
জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল এবং কুসুম গরম পানি পান পান করতে হবে। গলা ব্যথা থাকলে গার্গল করা যেতে পারে কুসুম গরম পানি দিয়ে। সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টি-হিস্টা- মিন জাতীয় ট্যাবলেট খাওয়া যেতে হবে ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মৌসুমি ইনফ্লু- য়েঞ্জার কারণে হঠাৎ জ্বর, শুষ্ক কাশি, মাথা ব্যথা, মাংস পেশীতে ব্যথা হতে পারে। এছাড়া গলা ব্যথা এবং সর্দি হতে পারে।
এক্ষেত্রে কফ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং এই অবস্থা দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। আর অধিকাংশ মানুষ কোন চিকিৎসা ছাড়াই সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু ঠেকানোর পাঁচটি উপায়ঃ
খুব সামান্য কারণেই ঠাণ্ডা বা সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। সাধারণতঃ কয়েক দিনের মধ্যেই মানুষের সর্দি-জ্বর ভালও হয়ে যায়। তবে কয়েকটি উপায়ে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত সময়ে সর্দি-জ্বর ভাল করা সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।

মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু প্রতিরোধের জন্য পাঁচটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

১) টিকা নেয়াঃ
ফ্লু থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রতিবছর টিকা নিতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সাধারণতঃ গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্যও এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

২) নিয়মিত হাত ধোয়াঃ
ফ্লু ছাড়াও অন্যান্য সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখলে । সাবান দিয়ে ভালো মতো হাত ধোয়ার পর তা মুছে শুকনো করে নিতে হবে।

৩) চোখ-নাক-মুখ স্পর্শ না করাঃ
মূলতঃ এই তিনটি স্থান দিয়ে শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে যা কিছু ভেতরে প্রবেশ করছে, তার সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে মুখে হাত না দিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনা যেতে পারে।

৪) অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাঃ
ফ্লু একটি সংক্রামক বিষয়। যেখানে জন সমাগম বেশি সেখানে ফ্লু বেশ দ্রুত ছড়ায় – এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, হাসপাতাল এবং যে কোন ধর – ণের গণ জমায়েত। ফলে এ ধরণের জমায়েত এড়াতে পারলে অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমে।
৫) শরীর খারাপ লাগলে বাসায় থাকুন।
আপনি যদি ফ্লু’র মাধ্যমে অসুস্থ হন, তাহলে অন্যদের সংস্পর্শে গেলে তারাও অসুস্থ হতে পারেন।
যারা ক্যান্সার বা হৃদরোগে ভুগছেন কিংবা এইচআইভি পজিটিভ – তাদের জন্য এটি বেশি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফ্লু হওয়া মাত্র নিজেকে অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখলে ভাইরাসের বিস্তার থামানো সম্ভব।

উষ্ণ পরিবেশঃ
সর্দি-জ্বরের সময় উষ্ণ পরিবেশে থাকা বা উষ্ণ পোশাক পরে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

প্রচুর তরল পানঃ
প্রচুর পরিমাণ পানি বা ফলের রস পানের মাধ্যমে পানিশূন্যতা রোধ করলে ঠাণ্ডা থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা যেতে পারে।

গলার যত্ন নিনঃ
ঠাণ্ডার একটি সাধারণ উপসর্গ গলা ব্যথা। লবণ পানি দিয়ে গার্গল করা অথবা লেবু ও মধু দিয়ে হালকা গরম পানীয় তৈরি করে পান করলে গলা ব্যথার দ্রুত উপশম হতে পারে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের রেশ এখন প্রবল। সঙ্গে চলছে মৌসুমী সর্দি-কাশি, জ্বরও। আশপাশের অনেকেই হয়ত এই রোগ – গুলোতে আক্রান্ত হয়েছেন, যা আপনারও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। হয়ত এরমধ্যেই আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন এবং বাড়াচ্ছেন অন্যান্যদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা। রোগের তীব্রতা লাগামহীন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে প্রাথমিক দিনগুলোতে ঘরোয়া কিছু করণীয় ও বর্জণীয় বিষয় মেনে চললে ওষুধ ছাড়াই আরোগ্য লাভ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের আলোকে জানানো হল এই বিষয়গুলো সম্পর্কে।

করণীয়ঃ
প্রচুর তরল পানঃ
মৌসুমি রোগ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রথম উপদেশই পাবেন প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করার। এর কারণ হল জ্বরের কারণে তাপমাত্রা বাড়লে শরীর দ্রুত পানিশূন্যতার দিকে যেতে থাকে। তাই পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ এখানে অত্যন্ত জরুরি। কুসুম গরম পানি, ফলের শরবত, ডাবের পানি, চা- যে কোনো তরল খাবারেই বাধা নেই। সর্দি-জ্বর থাকলে প্রতিদিনের লক্ষ্য হবে আট থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করা। আর বেশি তরল পান করলে শরীর থেকে জীবাণু ও অন্যান্য বিষাক্ত উপাদান বেরিয়ে যাওয়া সহজ হয়।

বিশ্রামঃ
অসুস্থ অবস্থায় যত বেশি সক্রিয় থাকবেন ততই আপনার শরীরের তাপমাত্রা বাড়বে। তাই বিশ্রামে থাকলে তাপমাত্রা কমবে এবং দ্রুত রোগমুক্তি হবে । মৌসুমি সর্দি-কাশি, জ্বর সারাতে ঔসধ ৷ সবসময় প্রয়োজন না হলেও জ্বর ১০২ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া নিরাপদ। জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে থাকা, বমি ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

গোসলঃ
কপাল এবং ঘাড়ের পেছনের অংশে জলপট্টি দেওয়া জ্বর কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। পুরোদস্তুর গোসলের পরিবর্তে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মোছাও দ্রুত জ্বর কমাতে সাহায্য করে। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া জ্বর নিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করা যাবে না। অন্যথায় শরীরে কাঁপুনি দেখা দিতে পারে এবং জ্বর আরও বেড়ে যেতে পারে।

বর্জনীয়ঃ
শরীরে ‘অ্যালকোহল’ মালিশঃ  
জ্বর কমানো প্রাচীন এক পদ্ধতি এটি। যা মোটেই নিরাপদ নয়। এই পদ্ধতি জ্বর সারাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অকার্যকর। বরং তা ডেকে আনতে পারে ‘অ্যালকোহল’জনীত বিষ ক্রিয়া।

বরফ গোসলঃ
বরফ শীতল পানি বা বরফ ভাসা পানিতে গোসল করা হয়ত শরীরের তাপমাত্রা কমাবে, তবে তা ডেকে আনবে কাঁপুনি । ফলে, জ্বর আরও বাড়বে। সাধারণ তাপ মাত্রার পানিতে গোসল করাই যেখানে মানা, বরফ শীতল পানিতে গোসলের কথা সেখানে অবান্তর।

দ্বিগুন ওষুধ সেবনঃ
দ্রুত জ্বর থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসকের দেওয়া ঔষধ দ্বিগুন পরিমাণে সেবন কিংবা একই সঙ্গে দুই ধরনের ঔষধ সেবন কোনো উপকারে আসবে না। বরং তা হতে পারে জ্বরের থেকেও বিপদজনক। বেশি ঔষধ খেলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে না। তবে এমনটা করলে শরীরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে, বিশেষতঃ বৃক্কের।

শিশুদের ক্ষেত্রে যখন চিকিৎসা জরুরিঃ
১) শিশুর তিন মাস বয়সের মধ্যে জ্বর হলে তাপামাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলেই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

২) বয়স তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে হলে জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পার হয়ে গেলে এবং শিশু ঘুমকাতুরে কিংবা অত্যন্ত কান্না- কাটি করলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

৩) ছয় থেকে ২৪ মাস বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে এবং তা একদিনের বেশি স্থায়ী হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বরের সঙ্গে ডায়রিয়া, বমি এবং ত্বকের ‘র‌্যাশ’ হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
জ্বর আসছে মনে হলেই আগে
প্যারাসিটামল খেয়ে নিন।
তবে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
আবহাওয়া পরিবর্তনের রেশ এখন প্রবল। তাপমাত্রা উঠানামার ফলে গরমে জ্বর-মাথা ব্যথার প্রবণতা দেখা যায়। মাথাব্যথা ও জ্বরের আক্রমণ থেকে দ্রুতই নিরাময়ের চেষ্টা করে আক্রান্ত ব্যক্তি। কেননা জ্বর ও মাথা ব্যথার কারণে কোনো মানুষই স্বাভাবিক কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। এছাড়া অস্বাভাবিক জীবনযাপন ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রায়ই মাথাব্যথা ও সাধারণ জ্বরের সমস্যায় ভুগতে হয়। অনেকেই জ্বর ও মাথা ব্যথা হলে ঔষধের শরণাপন্ন হয়। ঘরোয়া এমন কিছু টোটকা রয়েছে যাতে করে সেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। জেনে নিন কীভাবে অল্প সময়ে জ্বর ও মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

বিশ্রামঃ
অসুস্থ অবস্থায় যত বেশি সক্রিয় থাকবেন ততই আপনার শরীরের তাপমাত্রা বাড়বে। তাই বিশ্রামে থাকলে তাপমাত্রা কমবে এবং রোগমুক্তি হবে দ্রুত। মৌসুমি সর্দি-কাশি, জ্বর সারাতে ঔষধ সবসময় প্রয়োজন না হলেও জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া নিরাপদ। জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে থাকা, বমি ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

আকুপ্রেশারঃ
বহু বছর ধরে মাথা ব্যথা দূর করতে অনেকেই আকুপ্রেশার পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছেন। এই ছোট্ট ঘরোয়া পদ্ধতিটি আপনাকে এক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা সারাতে সাহায্য করবে। বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনির মাঝখানের অংশে অন্য হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনি দিয়ে চাপ দিন এবং ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসেজ করুন। একইভাবে ডান হাতেও করুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আশা করা যায় এতে এক মিনিটেই মাথা ব্যথা সারবে।

লবঙ্গঃ
কিছু লবঙ্গ তাওয়ার মধ্যে গরম করে নিন। গরম লবঙ্গ একটি রুমালের মধ্যে নিন। এক মিনিট এর ঘ্রাণ নিন এবং দেখুন মাথা ব্যথা চলে গেছে।

লবণযুক্ত আপেলঃ
ব্যথা যদি বেশি হয় তবে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন । এক টুকরো আপেল চিবুতে পারেন তবে এতে একটু লবণ ছিটিয়ে নেবেন। এটা দ্রুত ব্যথা মুক্ত করতে সাহায্য করবে।

আদাঃ
এক পিস টাটকা আদা চিবুতে পারেন এতে ৬০ সেকেন্ডে মাথা ব্যথা দূর হবে। আদা একটু বাজে গন্ধের হলেও পদ্ধতিটি কাজের।

পুদিনা পাতার ব্যবহারঃ
অস্বস্তিকর মাথা ব্যথা কমানোর জন্য একটি অন্যতম ঘরোয়া উপাদান হলো পুদিনা পাতার রস। পুদিনা পাতার মধ্যে থাকা ম্যানথল ও ম্যানথল জাতীয় উপাদান গুলি মাথা ব্যথা দূরীকরণে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। এছাড়াও এটি শরীরে এক ধরনের আরামদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, যার ফলে মাথা ব্যথা থেকে খানিক রেহাই পাওয়া যায়। একমুঠো পুদিনা পাতা নিয়ে সেটি পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার পর জল থেকে তুলে পুদিনা পাতা টাকে বেটে নিন। এবার এই মিশ্রণটি সরাসরি আপনার কপালে লাগান, যেখানে ব্যথার প্রবণতা বেশি। কিছুক্ষণ পরে দেখবেন এক ধরনের স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে।

অ্যাপেল সাইডার ও হলুদ চাঃ
চায়ে অ্যাপেল সাইডার যোগ করলে ওই চা অতিরিক্ত শ্মেষ্মা দূর করতে সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে হলুদ ও আদা দুটিরই রোগ প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে । আর যোগ করুন কালো গোলমরিচ, যা প্রাকৃতিক ব্যথা মুক্তির টোটকা হিসেবে কাজ করে। আর এসব উপাদান মাথা ব্যথা সারাতে কাজ করে। আদা, হলুদ, লেবুর রস, অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার, গোলমরিচ দিয়ে ৫ থেকে ৮ মিনিট পানি ফোটান ভালোভাবে । এরপর এই ভেষজ চা পরিবেশন করুন যা আপনার মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি দেবে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানঃ
জ্বর ও মাথা ব্যথায় শরীরের শক্তি পুনরায় ফেরাতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি। খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন-জাতীয় খাবার রাখুন। এমন খাবার বেছে নিন যেটি সহজে হজম হবে। এই সময় চিকেন স্যুপও খেতে পারেন। এটি শরীরকে ঠিকঠাক করতে বেশ কাজ দেবে। খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি-জাতীয় খাবার রাখুন। ভিটামিনগুলো শরীর পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে এবং রোগ নিরাময়েও বেশ উপকারী।

সর্দি-কাশি আর গলাব্যথা হলে

বাংলাদেশে সর্দি-কাশির মতো সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের চিকিৎসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা আছে হাসপাতালে ।
বাংলাদেশে ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি একটি সাধারণ বিষয়। এদেশে প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিল মাসে সর্দি-কাশির প্রাদুর্ভাব থাকে বলে চিকিৎসকরা জানান।বছরের এই সময়টিকে অনেকেরই মৃদু জ্বর ও সর্দি-কাশি থাকে।
জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল এবং কুসুম গরম পানি পান পান করতে হবে। গলা ব্যথা থাকলে গার্গল করা যেতে পারে কুসুম গরম পানি দিয়ে। সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টি-হিস্টা- মিন জাতীয় ট্যাবলেট খাওয়া যেতে হবে ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মৌসুমি ইনফ্লু- য়েঞ্জার কারণে হঠাৎ জ্বর, শুষ্ক কাশি, মাথা ব্যথা, মাংস পেশীতে ব্যথা হতে পারে। এছাড়া গলা ব্যথা এবং সর্দি হতে পারে।
এক্ষেত্রে কফ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং এই অবস্থা দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। আর অধিকাংশ মানুষ কোন চিকিৎসা ছাড়াই সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু ঠেকানোর পাঁচটি উপায়ঃ
খুব সামান্য কারণেই ঠাণ্ডা বা সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। সাধারণতঃ কয়েক দিনের মধ্যেই মানুষের সর্দি-জ্বর ভালও হয়ে যায়। তবে কয়েকটি উপায়ে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত সময়ে সর্দি-জ্বর ভাল করা সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।

মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু প্রতিরোধের জন্য পাঁচটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

১) টিকা নেয়াঃ
ফ্লু থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রতিবছর টিকা নিতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সাধারণতঃ গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্যও এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

২) নিয়মিত হাত ধোয়াঃ
ফ্লু ছাড়াও অন্যান্য সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখলে । সাবান দিয়ে ভালো মতো হাত ধোয়ার পর তা মুছে শুকনো করে নিতে হবে।

৩) চোখ-নাক-মুখ স্পর্শ না করাঃ
মূলতঃ এই তিনটি স্থান দিয়ে শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে যা কিছু ভেতরে প্রবেশ করছে, তার সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে মুখে হাত না দিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনা যেতে পারে।

৪) অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাঃ
ফ্লু একটি সংক্রামক বিষয়। যেখানে জন সমাগম বেশি সেখানে ফ্লু বেশ দ্রুত ছড়ায় – এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, হাসপাতাল এবং যে কোন ধর – ণের গণ জমায়েত। ফলে এ ধরণের জমায়েত এড়াতে পারলে অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমে।
৫) শরীর খারাপ লাগলে বাসায় থাকুন।
আপনি যদি ফ্লু’র মাধ্যমে অসুস্থ হন, তাহলে অন্যদের সংস্পর্শে গেলে তারাও অসুস্থ হতে পারেন।
যারা ক্যান্সার বা হৃদরোগে ভুগছেন কিংবা এইচআইভি পজিটিভ – তাদের জন্য এটি বেশি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফ্লু হওয়া মাত্র নিজেকে অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখলে ভাইরাসের বিস্তার থামানো সম্ভব।

উষ্ণ পরিবেশঃ
সর্দি-জ্বরের সময় উষ্ণ পরিবেশে থাকা বা উষ্ণ পোশাক পরে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

প্রচুর তরল পানঃ
প্রচুর পরিমাণ পানি বা ফলের রস পানের মাধ্যমে পানিশূন্যতা রোধ করলে ঠাণ্ডা থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা যেতে পারে।

গলার যত্ন নিনঃ
ঠাণ্ডার একটি সাধারণ উপসর্গ গলা ব্যথা। লবণ পানি দিয়ে গার্গল করা অথবা লেবু ও মধু দিয়ে হালকা গরম পানীয় তৈরি করে পান করলে গলা ব্যথার দ্রুত উপশম হতে পারে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের রেশ এখন প্রবল। সঙ্গে চলছে মৌসুমী সর্দি-কাশি, জ্বরও। আশপাশের অনেকেই হয়ত এই রোগ – গুলোতে আক্রান্ত হয়েছেন, যা আপনারও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। হয়ত এরমধ্যেই আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন এবং বাড়াচ্ছেন অন্যান্যদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা। রোগের তীব্রতা লাগামহীন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে প্রাথমিক দিনগুলোতে ঘরোয়া কিছু করণীয় ও বর্জণীয় বিষয় মেনে চললে ওষুধ ছাড়াই আরোগ্য লাভ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের আলোকে জানানো হল এই বিষয়গুলো সম্পর্কে।

করণীয়ঃ
প্রচুর তরল পানঃ
মৌসুমি রোগ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রথম উপদেশই পাবেন প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করার। এর কারণ হল জ্বরের কারণে তাপমাত্রা বাড়লে শরীর দ্রুত পানিশূন্যতার দিকে যেতে থাকে। তাই পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ এখানে অত্যন্ত জরুরি। কুসুম গরম পানি, ফলের শরবত, ডাবের পানি, চা- যে কোনো তরল খাবারেই বাধা নেই। সর্দি-জ্বর থাকলে প্রতিদিনের লক্ষ্য হবে আট থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করা। আর বেশি তরল পান করলে শরীর থেকে জীবাণু ও অন্যান্য বিষাক্ত উপাদান বেরিয়ে যাওয়া সহজ হয়।

বিশ্রামঃ
অসুস্থ অবস্থায় যত বেশি সক্রিয় থাকবেন ততই আপনার শরীরের তাপমাত্রা বাড়বে। তাই বিশ্রামে থাকলে তাপমাত্রা কমবে এবং দ্রুত রোগমুক্তি হবে । মৌসুমি সর্দি-কাশি, জ্বর সারাতে ঔসধ ৷ সবসময় প্রয়োজন না হলেও জ্বর ১০২ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া নিরাপদ। জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে থাকা, বমি ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

গোসলঃ
কপাল এবং ঘাড়ের পেছনের অংশে জলপট্টি দেওয়া জ্বর কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। পুরোদস্তুর গোসলের পরিবর্তে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মোছাও দ্রুত জ্বর কমাতে সাহায্য করে। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া জ্বর নিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করা যাবে না। অন্যথায় শরীরে কাঁপুনি দেখা দিতে পারে এবং জ্বর আরও বেড়ে যেতে পারে।

বর্জনীয়ঃ
শরীরে ‘অ্যালকোহল’ মালিশঃ  
জ্বর কমানো প্রাচীন এক পদ্ধতি এটি। যা মোটেই নিরাপদ নয়। এই পদ্ধতি জ্বর সারাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অকার্যকর। বরং তা ডেকে আনতে পারে ‘অ্যালকোহল’জনীত বিষ ক্রিয়া।

বরফ গোসলঃ
বরফ শীতল পানি বা বরফ ভাসা পানিতে গোসল করা হয়ত শরীরের তাপমাত্রা কমাবে, তবে তা ডেকে আনবে কাঁপুনি । ফলে, জ্বর আরও বাড়বে। সাধারণ তাপ মাত্রার পানিতে গোসল করাই যেখানে মানা, বরফ শীতল পানিতে গোসলের কথা সেখানে অবান্তর।

দ্বিগুন ওষুধ সেবনঃ
দ্রুত জ্বর থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসকের দেওয়া ঔষধ দ্বিগুন পরিমাণে সেবন কিংবা একই সঙ্গে দুই ধরনের ঔষধ সেবন কোনো উপকারে আসবে না। বরং তা হতে পারে জ্বরের থেকেও বিপদজনক। বেশি ঔষধ খেলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে না। তবে এমনটা করলে শরীরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে, বিশেষতঃ বৃক্কের।

শিশুদের ক্ষেত্রে যখন চিকিৎসা জরুরিঃ
১) শিশুর তিন মাস বয়সের মধ্যে জ্বর হলে তাপামাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলেই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

২) বয়স তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে হলে জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পার হয়ে গেলে এবং শিশু ঘুমকাতুরে কিংবা অত্যন্ত কান্না- কাটি করলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

৩) ছয় থেকে ২৪ মাস বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে এবং তা একদিনের বেশি স্থায়ী হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বরের সঙ্গে ডায়রিয়া, বমি এবং ত্বকের ‘র‌্যাশ’ হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
জ্বর আসছে মনে হলেই আগে
প্যারাসিটামল খেয়ে নিন।
তবে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
আবহাওয়া পরিবর্তনের রেশ এখন প্রবল। তাপমাত্রা উঠানামার ফলে গরমে জ্বর-মাথা ব্যথার প্রবণতা দেখা যায়। মাথাব্যথা ও জ্বরের আক্রমণ থেকে দ্রুতই নিরাময়ের চেষ্টা করে আক্রান্ত ব্যক্তি। কেননা জ্বর ও মাথা ব্যথার কারণে কোনো মানুষই স্বাভাবিক কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। এছাড়া অস্বাভাবিক জীবনযাপন ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রায়ই মাথাব্যথা ও সাধারণ জ্বরের সমস্যায় ভুগতে হয়। অনেকেই জ্বর ও মাথা ব্যথা হলে ঔষধের শরণাপন্ন হয়। ঘরোয়া এমন কিছু টোটকা রয়েছে যাতে করে সেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। জেনে নিন কীভাবে অল্প সময়ে জ্বর ও মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

বিশ্রামঃ
অসুস্থ অবস্থায় যত বেশি সক্রিয় থাকবেন ততই আপনার শরীরের তাপমাত্রা বাড়বে। তাই বিশ্রামে থাকলে তাপমাত্রা কমবে এবং রোগমুক্তি হবে দ্রুত। মৌসুমি সর্দি-কাশি, জ্বর সারাতে ঔষধ সবসময় প্রয়োজন না হলেও জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া নিরাপদ। জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে থাকা, বমি ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

আকুপ্রেশারঃ
বহু বছর ধরে মাথা ব্যথা দূর করতে অনেকেই আকুপ্রেশার পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছেন। এই ছোট্ট ঘরোয়া পদ্ধতিটি আপনাকে এক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা সারাতে সাহায্য করবে। বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনির মাঝখানের অংশে অন্য হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনি দিয়ে চাপ দিন এবং ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসেজ করুন। একইভাবে ডান হাতেও করুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আশা করা যায় এতে এক মিনিটেই মাথা ব্যথা সারবে।

লবঙ্গঃ
কিছু লবঙ্গ তাওয়ার মধ্যে গরম করে নিন। গরম লবঙ্গ একটি রুমালের মধ্যে নিন। এক মিনিট এর ঘ্রাণ নিন এবং দেখুন মাথা ব্যথা চলে গেছে।

লবণযুক্ত আপেলঃ
ব্যথা যদি বেশি হয় তবে এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন । এক টুকরো আপেল চিবুতে পারেন তবে এতে একটু লবণ ছিটিয়ে নেবেন। এটা দ্রুত ব্যথা মুক্ত করতে সাহায্য করবে।

আদাঃ
এক পিস টাটকা আদা চিবুতে পারেন এতে ৬০ সেকেন্ডে মাথা ব্যথা দূর হবে। আদা একটু বাজে গন্ধের হলেও পদ্ধতিটি কাজের।

পুদিনা পাতার ব্যবহারঃ
অস্বস্তিকর মাথা ব্যথা কমানোর জন্য একটি অন্যতম ঘরোয়া উপাদান হলো পুদিনা পাতার রস। পুদিনা পাতার মধ্যে থাকা ম্যানথল ও ম্যানথল জাতীয় উপাদান গুলি মাথা ব্যথা দূরীকরণে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। এছাড়াও এটি শরীরে এক ধরনের আরামদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, যার ফলে মাথা ব্যথা থেকে খানিক রেহাই পাওয়া যায়। একমুঠো পুদিনা পাতা নিয়ে সেটি পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার পর জল থেকে তুলে পুদিনা পাতা টাকে বেটে নিন। এবার এই মিশ্রণটি সরাসরি আপনার কপালে লাগান, যেখানে ব্যথার প্রবণতা বেশি। কিছুক্ষণ পরে দেখবেন এক ধরনের স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে।

অ্যাপেল সাইডার ও হলুদ চাঃ
চায়ে অ্যাপেল সাইডার যোগ করলে ওই চা অতিরিক্ত শ্মেষ্মা দূর করতে সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে হলুদ ও আদা দুটিরই রোগ প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে । আর যোগ করুন কালো গোলমরিচ, যা প্রাকৃতিক ব্যথা মুক্তির টোটকা হিসেবে কাজ করে। আর এসব উপাদান মাথা ব্যথা সারাতে কাজ করে। আদা, হলুদ, লেবুর রস, অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার, গোলমরিচ দিয়ে ৫ থেকে ৮ মিনিট পানি ফোটান ভালোভাবে । এরপর এই ভেষজ চা পরিবেশন করুন যা আপনার মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি দেবে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানঃ
জ্বর ও মাথা ব্যথায় শরীরের শক্তি পুনরায় ফেরাতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি। খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন-জাতীয় খাবার রাখুন। এমন খাবার বেছে নিন যেটি সহজে হজম হবে। এই সময় চিকেন স্যুপও খেতে পারেন। এটি শরীরকে ঠিকঠাক করতে বেশ কাজ দেবে। খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি-জাতীয় খাবার রাখুন। ভিটামিনগুলো শরীর পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে এবং রোগ নিরাময়েও বেশ উপকারী।

Similar Posts

  • মার্ক জুকারবার্গ

    জুকারবার্গ ফেসবুকের উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন ।  মার্ক জুকারবার্গ সবচেয়ে কম বয়সে বিলিয়নিয়ার হওয়া মানুষ দের মধ্যে একজন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৩০ বিলিয়ন ডলার।  ছোট পরিসরে তার কলেজের ক্যাম্পাসে তিনি ফেসবুক চালু করেন। এখন  ফেসবুক  বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হয়ে গিয়েছে। Facebook CEO মার্ক জুকারবার্গ এর জীবনী – (Mark Zuckerberg Biography) মার্ক জুকারবার্গ-এর জীবনী এবং সফল-…

  • সেনসেটিভ দাঁতের ব্যথায় কী করবেন? দাঁতের সমস্যা দেখা দিলে দারুন বিপাকে পড়তে হয়। আর দাঁতের সমস্যাটি যদি হয়, সেনসেটিভ দাঁতের ব্যথা, তবে ভুগতে হয় অনেক বেশি। কেন দেখা দেয় সেনসেটিভ দাঁতের সমস্যা? সেনসেটিভ কিংবা সংবেদন শীল দাঁতের সমস্যাটি দেখা দিতে পারে, বেশ কিছু কারণে। তার মাঝে অন্যতম কয়েকটি কারণ হলো- ১. দাঁতের এনামেল ক্ষতি গ্রস্থ…

  • হেনরি ফোর্ড

    সফল ব্যক্তিদের ব্যর্থতার গল্প –  ফোর্ড মোটর কোম্পানির নাম কমবেশি সকলেই শুনে থাকবেন।হেনরি ফোর্ড এই অটোমোবাইল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ।অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, হেনরি ফোর্ড একজন কৃষকের সন্তানছিলেন । স্কুলের গন্ডি পেরোনোর আগেই ঝরেপড়া এই মানুষটিই বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শিল্পপতি এবং আধুনিক অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এমনকি জার্মান নাৎসি বাহিনীর প্রধান, হিটলারও হেনরি…

  • ঘরে ব্যায়াম করার নিয়মাবলী

    ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজঃ ঘরের বারান্দায় কিংবা ছাদে এ ব্যায়ামটি খুব সহজে করা যায় । বিশেষ করে রাতের খাবারের পর ১০ মিনিট হাঁটা হাঁটি করে এবং অন্তত ৩০ মিনিট পর ঘুমাতে যাওয়া উচিতে। এতে যেমন খাবার হজমে সুবিধা হয় তেমন শরীরের পেশীগুলো সচল হয় । হার্ট সুস্থ রাখার জন্য জগিং খুব ভালো ব্যায়াম। বাড়ির যে কোনো…

  • স্ট্রোক কী? স্ট্রোক হলে কী করবেন?

    স্ট্রোক হল মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি রোগ। সেই রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া অথবা ব্লক হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের কারণ। অতএব স্ট্রোক দু’ধরনের১. রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলে।২. রক্তনালি ব্লক হয়ে গিয়ে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত না যাওয়া এবং মস্তিষ্ক শুকিয়ে যাওয়া, একে বলে ইস্কেমিক স্ট্রোক।কেন স্ট্রোক হয়?সাধারণতঃ কিছু ক্ষেত্রে অনেকদিন ধরে ধীরে ধীরে বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি।…

  • আমাশয়

    অন্ত্রে সংক্রমনের কারণে আমাশয়  (Dysentery) প্রদাহজনিত পেট ব্যাথা ও শ্লেষ্মা বা রক্তসহ পাতলা পায়খানা সৃষ্টিকারী রোগ। প্রধানতঃ আমাশয় দুই প্রকার – অ্যামিবিয় আমাশয় বা অ্যামিবিয়াসিসআর ব্যাসিলারি আমাশয় বা শিগেলোসিস।অ্যামিবীয় আমাশয় (Amoebic dysentery, Amoebiasis) Entamoeba histolytica নামক এককোষী পরজীবীঘটিত আমাশয়। এ এককোষী জীবাণু অন্ত্রের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি আক্রমণ করে এবং রোগ শুরু হলে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির স্থানে স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *