পোলিও কেন হয়

ভাইরাসের মাধ্যমে পোলিও রোগ ছড়ায়। এই ভাইরাস শুধুমাত্র মানুষের শরীরে বেঁচে থাকতে পারে।

পোলিও রোগের ভাইরাস পায়ু পথে অথবা মুখের সাহায্যে শরীরে প্রবেশ করে।
অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা স্থানে এই ভাইরাস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পোলিওতে আক্রান্ত ব্যক্তির মল-মুত্র থেকে পোলিও ভাইরাস ছড়াতে পারে।
পোলিও ভাইরাস আছে এমন খাবার, পানি ইত্যাদি গ্রহণের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পরে।

পোলিও রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কিছু বিষয়ঃ

কোন স্থানে পোলিও ব্যাপকহারে দেখা দিলে সে সকল স্থানে যাওয়া যাবে না।
পোলিও ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুর সাথে এক সাথে বসবাস করলে।

অন্য কোন রোগের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে।

টনসিল অপারেশন করে কেটে ফেললে।
প্রচণ্ড কাজের চাপ অথবা অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকা।

পোলিও ভাইরাস স্নায়ুতন্ত্রের কোন অংশ আক্রমণ করল অন্যান্য লক্ষণ তার ওপর নির্ভর করেঃ

স্পাইনাল টাইপ পোলিওতে শিশুর হাত-পা অবশ হয়ে যায়, শিশু দাঁড়াতে চায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুটি পা, কখনও দুটি হাত, আবার কখনও কখনও এক হাত কিংবা এক পা অবশ হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভাইরাস দ্রুত বাড়তে থাকে এবং মটর নিউরন বা স্নায়ু কোষের সন্ধি সমূহে প্রবেশ করে যা মাংস পেশির সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে।

বালবার টাইপ পোলিওতে স্নায়ু তন্ত্রের সেই সব কেন্দ্র সমূহ আক্রান্ত হয়, যে সমস্ত কেন্দ্র শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃৎস্পন্দন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে শিশুর শ্বাস কষ্ট হয়, রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে না এবং খেতে অসুবিধা হয়।

স্পাইনো বালবার টাইপ পোলিওতে স্পাইনো এবং বালবার দু’ধরনের লক্ষণ একত্রে দেখা যেতে পারে আবার কখনও কখনও বিভিন্ন নার্ভ আক্রান্ত হওয়ায় ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমন- গলার স্বর বসে যাওয়া, পানি খেতে গেলে তা নাক দিয়ে বের হয়ে আসা ইত্যাদি।

এনকেপালাইটিস টাইপ পোলিওতে শিশুর মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয় এবং শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

পোলিও আক্রান্ত শিশুর মধ্যে শত করা মাত্র ০১ থেকে ০২ ভাগ স্পাইনো, স্পাইনো বালবার, এনকেপালাইটিস ইত্যাদি মারাত্মক ধরনের স্নায়ু তন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত হয়। বেশিরভাগ সময়েই সাধারণ জ্বর, বমি কিংবা পায়খানা ইত্যাদি উপসর্গের পর এমনিতেই সুস্থ্য হয়ে যায়।
কেন আপনার শিশুকে পোলিও টিকা দিবেন?

পোলিও একটি ভাইরাস বাহিত রোগ। তাই খুব দ্রুতই এক জন থেকে অন্য জনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পোলিও রোগের কোন চিকিৎসা না থাকার কারনে সময়মত পোলিও টিকা দেওয়া ছাড়া পোলিও মুক্ত থাকার কিংবা পোলিও থেকে মুক্ত হওয়ার আর কোন উপায় নেই।

দেশ থেকে পোলিও নির্মূল এবং সব শিশুর সুরক্ষার জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে পাঁচ বছরের নিচের সকল শিশুকে পোলিও টিকা খাওয়ানো হয়। আপনার শিশুর বয়স ০৫ বছরের নিচে হলে অবশ্যই সময়মত পোলিও টিকা খাওয়ান।

কখন পোলিও টিকা দিবেন?

পোলিও রোগ থেকে শিশুকে রক্ষার জন্য উন্নত প্রতিষেধক ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুর বয়স ০৬ সপ্তাহ হলে প্রতিবার ডিপিটির সঙ্গে দু’ফোঁটা করে পোলিও ভ্যাকসিন এক মাস পর পর তিন ডোজ শিশুকে খাওয়ানো হলে ও ৪র্থ ডোজ শিশুর ৯ মাস বয়সে হামের টিকার সাথে খাওয়ানো হলে তা শিশুকে পোলিওর হাত থেকে রক্ষা করে।

আবার, সুযোগ থাকলে জন্মের পরপর এক ডোজ ও পি ভি অর্থাৎ ওরাল পোলিও নব জাতককে খাওয়ালে ভাল। তবে এটা অবশ্যই ৪ ডোজের মধ্যে গণ্য হবে না। তাকে ৪র্থ ডোজ অবশ্যই পরবর্তী সময়ে ৯ মাস বয়সে হামের টিকার সঙ্গে খাওয়াতে হবে।

চিকিৎসাঃ

পোলিও রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়ে কোন শিশু অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। আবার শ্বাস কষ্ট দেখা দিলে মুখের ফেনা পরিষ্কার করা, সাকশান দিয়ে অক্সিজেন দেয়া ইত্যাদি প্রয়োজন হতে পারে।

রোগীর রক্ত চাপ, হৃৎস্পন্দন সব সময় নজরে রাখতে হবে। কয়েক সপ্তাহ পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ হয়ে যাওয়া হাত, পা এবং অন্য অঙ্গ সমূহের ব্যায়াম করাতে হবে অথবা ফিজিও থেরাপি
দিতে হবে।

পোলিও আক্রান্ত শিশুর মলমূত্র ০৬ থেকে ০৮ সপ্তাহ পর্যন্ত যথাযথ ভাবে পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে হবে, কারন- পোলিও জীবাণু কোনভাবে খাবার কিংবা পানিতে মিশে গেলে তা থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিশেষ করে অন্য কোন শিশুর পোলিও হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পোলিও’র টিকা অনেক দেশে শিশুদের দেয় না। ভাইরাস সম্পুর্ণ ধ্বংস করা এক কঠিন কাজ । অনুকূল পরিবেশ পেলে আবার জেগে উঠে । টিকা দেয়া বন্ধ করা যাবে না।

Similar Posts

  • লিভার ভালো রাখতে এড়িয়ে চলবেন যেসব খাবার

    শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের নাম লিভার। আমাদের পাচন প্রক্রিয়ায় এই অঙ্গটিই বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। লিভার ভালো না থাকলে ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগ, দীর্ঘ সময় ক্লান্তি অনুভব করা, হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি ইত্যাদি সহ নানা জটিল রোগ বাসা বাঁধতে পারে। মূলতঃ খাদ্যাভ্যাস থেকেই সমস্যা দেখা দেয় লিভারে। তাই লিভার ভালো রাখতে কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। আনতে…

  • পোলিওমুক্ত বাংলাদেশ

    ২৭ মার্চ ২০১৪ তারিখে “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা” বাংলাদেশকে পোলিওমুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এই সংস্থাটির দিল্লী কার্যালয় থেকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে পোলিও মুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০৬ সালের ২২ নভেম্বর এ দেশে সর্ব শেষ পোলিও রোগী পাওয়া যায়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে বাংলাদেশকে তখন পোলিও মুক্ত ঘোষণা করা হয়নি।…

  • গুরুত্বপূর্ণ হরমোন (টেস্টোস্টেরন) সমস্যা ও সমাধান

    পুরুষের দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন হলো টেস্টো-স্টেরন। এই হরমোনের ওপরই নির্ভর করে পুরুষের শারীরিক উর্বরতা। নারী দেহেও সামান্য পরিমাণে এই হরমোন দেখা যায়। পুরুষের শরীরে এই হরমোন কমে গেলে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়— ১. অবসাদঃ দুপুরের খাবারের পর অনেকেরই দুর্বল ভাব চলে আসে। অফিসের টেবিলে প্রায়ই উদ্দীপনা হারিয়ে যায়। যে কোনো উদ্যমী কাজে…

  • দাদ রোগ কীভাবে ছড়ায়

    দাদ একটি সংক্রামক রোগ। ইহা ট্রাইকোফাইটন, মাইক্রোস্পোরাম ও এপিডার্মোফাইটন প্রকারের ফাঙ্গাস জাতীয় জীবাণুর মাধ্যমে সংক্রামণ ঘটায়। ইহা মূলত তিন ভাবে ছড়ায়— আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা তার ব্যবহার্য জিনিসের সংস্পর্শ থেকে। যেমন: চিরুনি, তোয়ালে ও বিছানার চাদর। দাদ আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে।যেমন: কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল ও ঘোড়া দাদ রোগের জীবাণু আছে এমন পরিবেশ, বিশেষ করে স্যাঁতস্যাঁতে…

  • টেস্টো-স্টেরনের সমস্যা ও সমাধান

      পুরুষের দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন হলো টেস্টো-স্টেরন। এই হরমোনের ওপরই নির্ভর করে পুরুষের শারীরিক উর্বরতা। নারী দেহেও সামান্য পরিমাণে এই হরমোন দেখা যায়।  পুরুষের শরীরে এই হরমোন কমে গেলে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়— ১. অবসাদঃ দুপুরের খাবারের পর অনেকেরই দুর্বল ভাব চলে আসে। অফিসের টেবিলে প্রায়ই উদ্দীপনা হারিয়ে যায়। যে কোনো উদ্যমী কাজে উৎসাহ মেলে না।…

  • যে দশটি রোগ প্রাণঘাতী হতে পারে

    নিপাহ ভাইরাসের উৎস হতে পারে বাদুড়। মধ্য আফ্রিকায় সাম্প্রতিক সময়ে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর দক্ষিণ ভারতে আরেকটি প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে, আর সেটি হলো নিপাহ ভাইরাস। দুটি ভাইরাসই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব হতে পারে এমন প্রাণ ঘাতী রোগের তালিকায় আছে। ২০১৫ সাল থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অগ্রাধিকারে থাকা প্রাণ ঘাতী রোগ গুলোর একটি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *