ফ্রি ও প্রফেশনাল ব্লগ তৈরি করার নিয়ম ও আয় করার উপায়

ব্লগ কি?

ব্লগ হচ্ছে এক ধরণের ওয়েবসাইট যেখানে বিভিন্ন ব্লগাররা লিখেন। যারা ব্লগে লিখেন তারাই হলেন ব্লগার। এই ধরণের সাইটে পাঠকরা তাদের মন্তব্য করতে পারেন।

ব্লগ সাধারণত ২ ধরণের হয়ে থাকে।

ক) ফ্রী ব্লগ ও

খ) পেইড প্রফেশনাল ব্লগ।

দুই ধরণের ব্লগ থেকেই ইনকাম করা যায়। কিভাবে একটি ফ্রী ও পেইড ব্লগ খুলবেন সেটা জেনে নেওয়া যাক।

ফ্রি ব্লগ তৈরি করার নিয়ম:

খুব সহজেই একটি ফ্রি ব্লগ তৈরি করা যায়। এটি খুব সহজ ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তৈরি করতে পারবেন। সবচেয়ে জনপ্রিয় ২ টি ফ্রি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হলোঃ

ব্লগার (Blogger)

ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম (WordPress.com)

২ টি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ব্লগারই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে ইনকাম করাও সহজ। তাই এই ২ টি ফ্রি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে আমরা ব্লগারকেই রিকমেন্ড করবো। জেনে নেওয়া যাক ব্লগারে কিভাবে একটি খুববেন।

ব্লগার (Blogger)

blogger.com এ যান।

আপনার gmail দিয়ে সাইন ইন করুন।

Create new blog এ ক্লিক করুন।

ব্লগের টাইটেল অর্থাৎ নাম ও এড্রেস দিন।

একই ফর্ম থেকে একটি টেমপ্লেট সিলেক্ট করুন। (ইহা পরবর্তীতে পরিবর্তন করা যাবে)

Create blog বাটনে ক্লিক করে ব্লগ তৈরি সম্পন্ন করুন।

আপনার ফ্রি ব্লগ তৈরি সম্পন্ন। এবার ব্লগে পোস্ট করা শুরু করুন। যদি কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন।

ফ্রি ব্লগ তৈরি পার্ট-১

প্রফেশনাল ব্লগ তৈরি করার নিয়ম:

একটি পেইড ব্লগ তৈরি করার জন্য আপনার কিছু জিনিসের দরকার হবে। তার মধ্যে হোস্টিং ও ডোমেইন অন্যতম।

ডোমেইন কি?

এক কথায় ডোমেইন হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগের নাম। যেমন আমাদের ব্লগের নাম TrickBlogBD.com । ডোমেইন বিভিন্ন নামের হতে পারে। যেমনঃ .com, .net, .info, .mobi, .org, .edu, .gov ইত্যাদি।

হোস্টিং কি?

একটি ব্লগ তৈরি করার জন্য আরেকটি প্রয়োজনীয় জিনিস হচ্ছে হোস্টিং। আপনার ব্লগের কন্টেন্ট বা ফাইলগুলো যেখানে জমা থাকবে তাকেই হোস্টিং বলে। ইহা আমাদের কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক বা মোবাইলের মেমোরি কার্ডের মতো কাজ করে।

কম দামে ভালো ডোমেইন ও হোস্টিং কিনলে অর্ধেক কাজ শেষ। এরপর কাজ হচ্ছে ওয়েবসাইট ডিজাইনিং বা ওয়েব ডেভেলপিং।

ব্লগ ডিজাইন বা ডেভেলপমেন্ট:

বর্তমানে আপনি কোনো প্রকার কোডিং ছাড়াই একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ ডিজাইন করতে পারবেন। এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েব ডেভেলপিং ও পাবলিশিং টুলস হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস।

ওয়ার্ডপ্রেস কি?

ওয়েব মাস্টারদের কাছে ওয়ার্ডপ্রেস একটি ওয়েব পাবলিশিং টুলস নামে পরিচিত। এই টুলসের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই একটি থিম আপলোডের মাধ্যমে ১-২ মিনিটেই একটি ব্লগ তৈরি করে ফেলতে পারবেন। আপনার হোস্টিং এর cPanel থেকেই ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে পারবেন।

এরজন্য আপনার কোনো প্রকার কোডিং জ্ঞান দরকার হবেনা। ওয়ার্ডপ্রেস মূলত ব্লগ সাইট তৈরির জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু ইহা এতই জনপ্রিয়তা পায় যে এখন অনেক ই কমার্স সাইটেও ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা হয়।

ব্লগ তৈরি করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস থিম কোথায় পাব?

আমরা ইতোমধ্যেই জেনেছি যে, একটি ব্লগ তৈরি করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস থিম দরকার। ওয়ার্ডপ্রেস প্রিমিয়াম থিম কিনতে পাওয়া যায়। আপনি চাইলেই নিজের পছন্দমতো ডিজাইনের থিম কিনতে পারেন। এছাড়াও আপনার ব্লগের থিম অপশনে গেলে হাজার হাজার ফ্রী থিম পাবেন।

ফ্রী থিম গুলোও যথেষ্ঠ ভালো মানের। এই পোস্ট লেখার সময় আমাদের ব্লগে যেই থিমটা আছে ঐটাও ফ্রী থিম। তাই আপনিও ফ্রী থিম ব্যবহার করতে পারেন। ফ্রী থিম ডাউনলোড করেও আপলোড করা যায়।

ব্লগে থিম ইন্সটল করার নিয়ম:

ব্লগ তৈরি করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস থিম কিনার ওয়েবসাইট।

থিম কিনার অনেক ওয়েবসাইট আছে। তারমধ্যে কিছু জনপ্রিয় সাইটের লিস্ট নিচে দেওয়া হলো।

থিম ফরেস্ট

বিডি থিমস

থিমস বাজার

ইনভাটো

ব্লগ তৈরি করে আয় করার নিয়ম:

একটি ভালো ব্লগ মানে একটি টাকার গাছ। আপনি এতক্ষণ ব্লগ তৈরি করার নিয়ম কানুন শিখলেন। এবার শিখুন কীভাবে ব্লগ থেকে টাকা আয় করা যায়।

আরো পড়তে পারেন-ইভেন্ট ব্লগিং কি? কিভাবে শুরু করবেন? (A-Z Guide)

ব্লগ থেকে বিভিন্ন উপায়ে টাকা আয় করা যায়। নিচে কিছু জনপ্রিয় উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

গুগল এডসেন্স এড,

অন্যান্য কোম্পানির এড বা বিজ্ঞাপন,

স্পনসরশীপ,

অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং,

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয়।

বাংলাদেশের ব্লগারদের আয় করার প্রথম মাধ্যম হচ্ছে গুগল এডসেন্স। এডসেন্স হচ্ছে টেক জায়ান্ট গুগল এর বিজ্ঞাপন কোম্পানি। ইহা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন বিজ্ঞাপন মাধ্যম।

গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হয়। আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ কিছু নিয়ম ফলো করলেই আপনি এডসেন্স পাবেন। অনেকেই এডসেন্সকে সোনার হরিণ মনে করেন।

অনেক ব্লগার এডসেন্স এর জন্য দিনরাত একাকার করে ফেলছেন। কিন্তু এডসেন্স এপ্রুভ হচ্ছেনা। ফলে তারা ব্লগিং থেকে ফিরে যাচ্ছেন। আসলে তারা কিছু কমন ভুল করে থাকেন।

আমার মতে এডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়া খুবই সহজ। আপনিও কিছু নিয়ম মেনে চললে সহজেই এডসেন্স পেয়ে যাবেন। আর এরপর টাকা আয় করতে পারবেন।

এডসেন্স কি? এবং সহজে এডসেন্স পাওয়ার নিয়ম কানুন নিয়ে আমি ব্লগে লিখেছি। সেই লেখাটি পড়ে আসুন।

অন্যান্য কোম্পানির এডের মাধ্যমে ব্লগ থেকে টাকা আয়।

এডসেন্স ছাড়াও বিশ্বে আরো অনেক এডভার্টাইজ কোম্পানি আছে। আপনি তাদের এড আপনার সাইটে দেখিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন। এ রকম কিছু সাইটের লিস্ট নিচে দেওয়া হলো।

গ্রীণ রেড,

ক্লিকসোর,

এডব্রাইট,

বিডভার্টাইজার,

ইনফোলিংকস।

অবশ্যই পড়ুনঃ অনলাইনে ইনকাম করার ১০ টি গোপন ট্রিক

স্পনসরশীপ থেকে টাকা আয়:

আপনি বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন পণ্যের জন্য স্পনসরশীপ নিতে পারেন। তাদের পণ্যের ব্র‍্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারবেন।

পেইড গেস্ট পোস্ট করা :

ব্লগে গেস্ট পোস্টিং করে আপনি আয় করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দুই ধরনের গেস্ট পোস্টিং হতে পারে। একটি হচ্ছে আপনি কারো থেকে টাকা নিয়ে সেই অনুযায়ী গেস্ট পোস্ট করবেন। আরেকটি হচ্ছে কেউ একজন আপনাকে টাকা দিবে এবং আপনার ওয়েবসাইটে সে নিজে লিখবে।

এই দুই ভাবে টাকা ইনকাম করা যায়। এ ক্ষেত্রে যিনি পোস্ট করবেন তিনি তার বা তার ক্লায়েন্টের ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক নিয়ে থাকেন।

আপনার যদি ওয়েবসাইটের Domain authority অনেক ভালো থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ব্লগ থেকে টাকা আয়:

বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য একটা বিশেষ লিংকের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়াই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। বিভিন্ন অনলাইন শপ ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আছে।

তাদের বিভিন্ন পণ্য বা সেবা আপনার অ্যাফিলিয়েট লিং বা রেফারেল লিংকের মাধ্যমে সেল বা বিক্রি করে দিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন।

এজন্য প্রত্যেক সেলে ২-১৫% পর্যন্তও কমিশন পাওয়া যায়। ১০% কমিশন হলে, ১০০০ টাকার ১০ টি পণ্য বিক্রি করে দিতে পারলে আপনি ১০০০ টাকা কমিশন পেয়ে যাবেন।

আপনার ভালো একটি ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেল থাকলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা অনায়াসে আয় করা সম্ভব। কেউ কেউ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে মাসে ১ লক্ষ টাকাও আয় করছেন।

Similar Posts

  • ফেসবুক থেকে অর্থ উপার্জনের ৬ উপায়

    মনে রাখবেন, ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২৯০ কোটি। যেখানে ইনস্টাগ্রামের ১৩০ কোটি, টিক টকের ১০০ কোটি এবং টুইটারের ৩৯ কোটি ৬০ লাখ। অর্থাৎ অন্যান্য সব প্লাটফর্মের তুলনায় ফেসবুকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা অবিশ্বাস্য রকম বেশি ।ফেসবুক ব্যবহারকারীরা অর্থ উপার্জনের জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকেন। সে গুলোর মধ্যে রয়েছে- ফেসবুকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, মেসেঞ্জারে বিজ্ঞাপন…

  • কিভাবে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করবেন :

    সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্টে , একটি কার্যকরী ই-কমার্স ওয়েবসাইট নির্মাণের জন্য প্রযুক্তি, নকশা এবং বাণিজ্যিক দক্ষতার একটি ন্যায়সঙ্গত সমন্বয় প্রয়োজন । যদিও ঐতিহ্যগত উন্নয়ন পদ্ধতির মধ্যে একটি উপযুক্ত প্রযুক্তি স্ট্যাক এবং ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নির্বাচন করা জড়িত । no-code এবং ওয়েবসাইট বিল্ডার প্ল্যাটফর্মের আবির্ভাব প্রক্রিয়াটিকে গণতান্ত্রিক করেছে, প্রযুক্তিগত দক্ষতাহীন ব্যক্তিদের নিজস্ব ই-কমার্স সমাধান তৈরি করতে ক্ষমতায়ন করেছে। শপিফাই, উইক্স এবং AppMaster মতো প্ল্যাটফর্মগুলি…

  • কীভাবে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করবেন :

    আপনাদের মধ্যে যদি কেউ অনলাইনে পণ্য বিক্রি করার কথা ভাবছেন, তাহলে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করা আপনার জন্য একটি দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত। আজকাল, যে কোনো ব্যবসা, ব্র্যান্ড, পণ্য বা পরিষেবা অনলাইনে খুব দ্রুত এবং সহজে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আপনি যদি অনলাইনে আপনার পরিষেবা বা পণ্য বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন, অনলাইন সম্পর্কে কিছু সঠিক উপায় ব্যবহার করতে পারেন তবে আপনি দ্রুত গ্রাহক…

  • ফ্রিল্যান্সিং এ ১০ টি সহজ কাজ যা করে সফল হওয়া যায় :

    1. ফ্রিলান্সিং কী? 2. ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ কিভাবে করতে হয় 3. আসুন জেনে নিই ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি? 4. ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস 5. যে ১০ টি ফ্রিল্যান্সিং কাজের চাহিদা বেশি আমাদের আজকের বিষয় ফ্রিলান্সিং কি এবং ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায়? ফ্রিলান্সিং: বর্তমান সময়ে জন সংখ্যার দ্রুত বিষ্ফোরণের কারণে মানবজীবনে প্রতিনিয়ত নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।যার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো বেকারত্ব…

  • Squarespace Commerce কি?

    স্কয়ারস্পেস কমার্স বলতে বিশেষভাবে ইকমার্সের জন্য ডিজাইন করা দুটি স্কয়ারস্পেস প্ল্যান বোঝায়।  উভয় বেসিক ($27/মাস) এবং অ্যাডভান্সড ($49/মাস) প্ল্যান আপনাকে সীমাহীন পণ্য বিক্রি করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সরঞ্জাম সহ একটি সম্পূর্ণ ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে দেয়। কমার্স বেসিক আপনাকে সম্পূর্ণ ই-কমার্স ক্ষমতা দেয়, যখন কমার্স অ্যাডভান্সড-এর অনেকগুলি উন্নত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। Squarespace একটি ভাল ইকমার্স বিকল্প ? Squarespace…

  • ইন্টারনেট ঝুঁকি সম্পর্কে বাড়াতে হবে সচেতনতাঃ

    শুরু হলো ই-অ্যাওয়ারনেস অলিম্পিয়াড – রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে ই-অ্যাওয়ারনেস অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ – সমকাল তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, একে ঘিরে তত অপরাধও বাড়ছে। এ জন্য ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফেক নিউজের সঙ্গেও এক ধরনের…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *