ইউটিউব ভিডিও মার্কেটিং টিউটোরিয়ালঃইউটিউব থেকে আয় / ইনকাম করার সেরা উপায়

–> ০১) ইউটিউব অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট এপ্রুভ লাগবে ? খুব সহজেই নিয়ে নিন

Basic Steps:

১. প্রথমেই আপনার একটি Gmail Account লাগবে। আপনার সঠিক ইনফর্মেশন দিয়ে একটি Gmail Account তৈরি করে নিন।

২. ইউটিউব.কম এ গেলে আপনার জিমেইল এর নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি হয়ে যাবে। এখন প্রথম কাজ শেষ।

এখন পরের কাজ-

Advance:

  1. Click On Your Avatar>Creator Studio>Channel>Advanced এ যান। আপনার Country বাংলাদেশ থেকে ইউনাইটেড স্টেট্‌স এ পরিবর্তন করুন।
  2. Channel>Status and Features এ আপনার চ্যানেল ভেরিফাই করুন।
  3. Enable Monetization. স্টেপসগুলো অবলম্বন করে Enable করে নিন।
  4. ১৫ মিনিটের দীর্ঘ ভিডিও আপলোড করার জন্য Longer Videos Enable করে নিতে পারেন।
  5. Channel>Monetization>How will be i get paid এ ক্লিক করুন। স্টেপসগুলো অবলম্বন করুন এবং আপনার সঠিক বেক্তিগত ইনফর্মেশন দিয়ে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিন।

এখন আপনার নিজের ভিডিও বানান এবং তা মনেটাইজ করে ইউটিউব থেকে ইনকাম করুন।

বিঃদ্রঃ অ্যাডসেন্স এ অ্যাপ্লাই করার আগে ২-৩টা Unique ভিডিও আপলোড করে নিলে আপনার আপ্প্রভ পেতে কোন সমস্যা হবে না।

–> ০২) যারা ইউটিউবকে প্রফেসনালি নিতে চান তাদের জন্য একটু আলাদা আটটি ভিডিও ক্রিয়েসন আইডিয়া:

আমরা স্বভাবত ভিডিও তৈরির জন্য যে সব আইডিয়ার ভিডিও বানাই তা সাধারনত টিউটোরিয়াল, প্রাঙ্ক ভিডিও অথবা অন্যের ভিডিওর ভেতরে সিমাবদ্ধ থাকে।

আবার নতুনদের তো প্রথমেই মনে হয় ভিডিও বানানো হয়তো বেশ শ্রম এবং ব্যায়সাধ্য ব্যাপার।

 কিচ্ছু বল্লাম না আর। অন্যের ভিডিওরে হাজার দিক থেকে এডিট করে সেটা ইউটিউবে ছাড়ার জন্য পরিশ্রম আরো বেশি যায়।

তো বলুন কি করতে পারি ? –

একটু ভাবুন আপনি কোন জিনিসটা ভালো পারেন। নাচ,গান, ছবি আকা, মাইক্রোকন্টোলিং, রান্নাবান্না, সাজগোজ, সাইকেল স্টান্ট, অথবা ডেইলি মুভি, নিউজ, খেলাধুলার আপডেট।

এ সবের ভেতর কোন না কোন একটা জিনিসে আপনার অবশ্যই আগ্রহ আছে। আপনি সেটিকে বেছে নিয়ে সেটির উপরে ভিডিও বানাতে পারেন।

প্রশ্ন করতেই পারেন এতে করে লাভ কি?

ভাই ! ঘুরে ফিরে সেই এক কথাই আসলো। আপনি যদি আপনার আগ্রহের বিষয়টিকে আপনার চ্যানেলের নিশ করে নিন তাহলে নিঃসন্দেহে ভিডিও ক্রিয়েশনটা ভালো হবে।

প্রতিদিন ভিডিও আপলোড করার দরকার নেই। সপ্তাহে একটা অথবা মাসে দুইটা করে ভালো ভিডিও আপলোড করুন। এসইও করুন। মাস ছয়েক পরে সাবস্ক্রাইবারের অভাব হবে না।

এবার আসুন কাজের কথাতে। আপনাদের কাছে আমার দৃষ্টি কোন হতে নতুন এবং অভিজ্ঞ ইউটিউবারদের জন্য আটটি আলাদা রকম ভিডিও ক্রিয়েশন আইডিয়া উপস্থাপন করবো।

এবং মজার ব্যপার হচ্ছে ভিডিও রেকর্ড এনাবেল একটি স্মার্ট ফোন এবং ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ছাড়া কোন খরচই লাগবে না এই আইডিয়া গুলো নিয়ে কাজ করতে।শুধু হাই সিপিসি দেখে আর কতো ভিডিও বানাবেন ?

তো চলুন শুরু করা যাক…..

১. অরিগামি টাইপের জিনিসের উপর ভিডিও –

অরিগামি মানে কাগজকে টুকরা না করে শুধু মাত্র ভাজ করে সেটি দিয়ে পাখি, নৌকা, ফুল এই টাইপের জিনিস বানানো।

এছাড়া ফেলনা জিনিসকে (প্লাস্টিকের বোতল, পুরাতন কলম, পন্য বহনকারি কার্টুন, ফেলে দেওয়া বাক্স) কাজে লাগিয়ে কি করে ব্যবহার যোগ্য জিনিস বানানো যায় তার উপরে অসংখ্য ক্রিয়েটিভ ভিডিও বানাতে পারেন।

২. ‎ঘরোয়া কাজের উপর ভিডিও বানাতে পারেন –

যেমন বই বাধাই করা, ঘোলা আয়না কি করে পরিষ্কার করা যায়, রান্নাবান্না, সেলাই, বাগান পরিচর্যা এসব টপিকের উপর ভিডিও বানাতে পারেন।

এসব জিনিস অনেকেই খুজে ইউটিউবে। তার মানে বেশ ভালো অঙ্কের সাবস্ক্রাইবার পাবেন।

৩. পেইন্টিং –

পেন্টিং মানে ছবি আকা না। পেইন্টিং মানে বিশাল একটা বিষয়। আপনি যদি ভালো আঁকতে পারেন তাহলে আপনি আপনার ইউটিব চ্যানেলে থ্রিডি পেইন্ট, ইলিউসন পেইন্ট, ফর্মাল পেইন্ট, এসবের উপর নিজের বানানো ভিডিও আপলোড করতে পারেন।

এই ভিডিও গুলো যদি ক্রিয়েটিভ এবং সহজ কিছু স্টেপের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন তাহলে এটিই হতে পারে আপনার মুল কাজের এবং আয়ের ক্ষেত্র।

৪. ‎মাইক্রোকন্টোলিং নিয়ে ভিডিও –

জিনিসদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। রোবট, সার্কিট, ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে গ্রুপের এক জন একটা চ্যানেল করা উচিত।

নিজের বানানো অথবা অন্যের আইডিয়া থেকে বানানো প্রজেক্ট গুলো নিয়ে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করে ভিডিও বানানো যেতে পারে (কেউ সাবস্ক্রাইব না করলেও আমি করবো)।

তাছাড়া আপনি চ্যানেলে আরো কিছু ভিডিও রাখতে পারেন যেমন নষ্ট রিমোট, টর্চ, ক্যালকুলেটর, প্রয়োজনিয় ইলেক্টনিক্স জিনিসপত্র কি করে ঠিক করা যায় তার উপর। এক বন্যা শেয়ার পেতেও পারেন।

৫. ‎হয়ে যেতে পারেন শিক্ষক –

আপনি হয়তো পিয়ানো, গীটার, তবলা বাজাতে পারেন। অথবা আপনি অনেক ভালো নাচতে পারেন। এখন আপনার মোবাইল ফোনটি ব্যাবহার করুন।

ইউটিউবএ আমাদের বাংলাদেশি এখনো কোন চ্যানেল নাই যেখানে পিয়ানো, গীটার, নাচ অথবা গান শিখানো হয়। আপনি পারলে আপনিও শুরু করতে পারেন। বেশ সাড়া পাবেন।

৬. খেলাধুলার উপর কিছু করতে পারেন –

হয়তো আপনি অনেক ভালো সাইকেল চালাতে পারেন অথবা ভালো ক্রিকেট, ফুটবল খেলতে পারেন।

আপনি আপনার চ্যানেলে বিভিন্ন রকম ক্রিকেটের ভালো শর্ট খেলার কৌশল, ভালো ফুটবল খেলার কৌশল, সাইকেলের হরেক রকম স্টান্ট, শেয়ার করতে পারেন। এই রকম বাংলা ভিডিওর অনেক অভাব আছে।

৭.নিজেকে ভালো করে উপস্থাপন করতে পারেন –

সেই দিন ফেসবুকে এক ভাইের সাথে কথা হল। সে ভালো আরজে হতে পারতো। হয়তো ভাগ্যের জন্য হতে পারে নাই। আপনারও হয়তো সেই মেধা আছে।

সুন্দর করে আপনি মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড অন করে আপনি সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনাকে মজার কিছু ভঙ্গিমাতে উপস্থাপন করতে পারেন।

পারলে বন্ধুদের হেল্প নিতে পারেন। মনে রাখবেন মানুষ অধিকাংশ সময় বিনোদনের জন্যই ইউটিউবে যায়। আপনি যদি আপনার এই রকম বিনোদন মুলক চ্যানেলের মাধ্যমে যুক্তি-যুক্ত কিছু তুলে ধরতে পারেন তাহলে সাবস্ক্রাইবার তর তর করে বেড়ে যাবে।

তাছাড়া আপনি যদি নিজেকে আর ভালো করে উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে আপনি পাঠ্য বইের কিছু বিশ্রী সমস্যার সহজ এবং সাবলীল সমাধান দিতে পারেন আপনার ভিডিওতে।

যেমন পিথাগোরাসের সেই উপপাদ্য, নিউটনের দাঁতভাঙ্গা প্রস্তাবনার সমাধান, গাণিতিক বিখ্যাত সমস্যা গুলোর সমাধান। আর অবশ্যই ভিডিও আপলোড করার পরে এসইও করার কথা ভুলবেন না।

‎৮. নতুন আপডেট হতে পারে একটি চ্যানেল আইডিয়া –

এই আইডিয়া কতটা কার্যকর জানি না। তবে আমি বিদেশি কিছু নামি চ্যানেলে দেখেছি এটা।

ওদের কাজ হল ওরা তাদের চ্যানেলের মাধ্যমে সাম্প্রতিক হয়ে যাওয়া ঘটনা, দুর্ঘটনা, খেলার গুরুত্বপূর্ণ হাইলাইট, এসব উপস্থাপন করে।

আপনিও কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন। তবে ভিডিও কপি করা থেকে দূরে থাকবেন। নিজে উপস্থাপন করবেন। লাগলে কিছু ছবি এড করতে পারেন। সরাসরি কপি করবেন না।

একটু আলাদা করে ভাবুন। দেখবেন ভিডিও ক্রিয়েসন আইডিয়ার অভাব পরবে না। আমার থেকেও হয়তো অনেক ভালো ক্রিয়েসন আইডিয়া আপনার আছে।

সবকিছুর পরে ওই ২টা কথা আবার মনে করিয়ে দেই

কপি করা থেকে বিরত থাকুন ,

এসইও এর কোন বিকল্প নাই ।

–> ০৩) Youtube Monetization Problems থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

YouTube Video Monetize করতে গিয়ে বেশিরভাগ ইউটিউবারদের অনেক কষ্ট করতে হয়। তার মধ্য আবার অনেক ধরনের monetization problems এ ভুগতে হয়।

ইউটিউবের বর্তমানের অন্যতম সমস্যা Under Review এবং Monitoring For Possible Review এ থাকা ভিডিও। কপিরাইটেড ভিডিও আপলোড করলে এই দুটি সমস্যা প্রায় বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় কিন্তু কিছু কিছু সময় নিজের বানানো ভিডিও আপলোড করলেও ভিডিওতে Under review অথবা monitoring for possible review এর চিহ্ন উঠে থাকে।

কিছু সময় এই চিহ্ন ৩ দিনের মধ্যেই চলে যায় এবং ভিডিও মনেটাইজ হয়ে যায়।

কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিডিও ১ সপ্তাহ, ১ মাস কিংবা আজীবনও Under Review এই থেকে যায়। Monitoring For Possible Review এর অনেকটা একই রকম অবস্থা।

Youtube Monetization পাঁচটি কারণে এই দুটি সমস্যা হয়ে থাকে:

১. যখন ভিডিও এর কোন মিউজিক অন্য কোন চ্যানেলের সাথে মিলে যায় কিন্তু ঐ চ্যানেলের ভিডিও Content ID সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত না হয়।

২. ইউটিউব ভিডিও Processing না করতে পারলে।

৩. অতি দীর্ঘ Video Title।

৪. অধিক বড় ভিডিও।

৫. Edited Copyrighted Footage।

এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই আপনাদের কিছু পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

সমাধানঃ

১. Under Review দেখানোর পড়ে, ভিডিওটি Demonetize করুন।

২. Edit অপশনে গিয়ে ভিডিও এর Simple একটি Title দিন। টাইটেলটি ২-৩ শব্দের মধ্যে হতে হবে। যেমনঃ Video 1 অথবা Tutorial Video 1 অথবা 1st May ইত্যাদি।

৩. Video Description এ ৫-৬ শব্দের একটি ছোট ব্যাখ্যা দিন।

৪. Keywords এর অংশটি ফাঁকা রাখুন।

৫. এবার ভিডিওটি পুনরায় Monetize করুন। এখন ভিডিওটি মনেটাইজ হয়ে যাবে।

এখনো না হলে ভিডিও এর অন্য কোন কোন ছোট শর্ট টাইটেল দিন। এছাড়া চাইলে ভিডিওটির বাড়তি কিছু অংশ এডিট করে নিতে পারেন। আশা করি হয়ে যাবে।

অনন্য সমস্যাগুলোঃ Commercial Use Rights, Disapproved Video, No Monetization Icon

Commercial Use Rights:

১. এরকম দেখালে প্রথমে আপনার ভিডিওটি ডাউনলোড করে নিন অথবা আপলোড করা ভিডিওটি আপনার কম্পিউটার থেকে বের করুন।

২. ভিডিও এর ফরমেট পরিবর্তন করে AVI এ রুপান্তরিত করুন। এক্ষেত্রে আপনি Format Factory ব্যবহার করতে পারেন।

৩. আগের ভিডিও ডিলিট করুন ও AVI Format এর ভিডিওটি আপলোড করুন।

এবার আর আপনার ভিডিও এর Commercial Use Rights ইউটিউব চাইবে না।

Disapproved Video:

ভিডিও এর ব্যাপারে ১০০ ভাগ নিশ্চয়তা ছাড়া কখনও Commercial Proof Rights সাবমিট করবেন না।

তা হলেই আপনার ভিডিও Disapprove করা হবে। অতঃপর ভিডিও ডিলিট করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

No Monetization Icon:

ভিডিও যদি কোন Third Party মিউজিক, মুভি অথবা ভিডিও এর সাথে match খায়, তবে আপনার ভিডিওতে কোন Monetization Icon show করবে না। এগুলো থেকে বাঁচার জন্য কপিরাইট এড়িয়ে চলুন।

ছোট খাটো অংশের জন্য যদি শুধু কপিরাইট ধরে তাহলে ভিডিও কোন Video Editing Software দিয়ে এডিট করে দেখতে পারেন।

আর যদি সাউন্ড match খায় তবে Audacity দিয়ে এডিট করে দেখতে পারেন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *