ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য সেরা ৫টি সাইট :

ফ্রিল্যান্সিং সাইট বা মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে জানা থাকলে নতুন ফ্রিল্যান্সাররা খুব সহজেই এই খাত থেকে আয় করতে পারেন।

তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরিচিত বা অজনপ্রিয় সাইটগুলোতে প্রবেশের ফলে অভিজ্ঞতার ভিড়ে নতুনরা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগেই হারিয়ে যান।

নতুন ফ্রিল্যান্সারদের সেরা ৫টি সাইট।
ঘরে বসে টাকা আয় করার জন্য এখন সবচাইতে জনপ্রিয় মাধ্যম ফ্রিল্যান্সিং।

যে কোনো বয়সের মানুষের জন্য কোনো আলাদা বিনিয়োগ ছাড়াই এই আয় বর্তমান সময়ে অনেকটা স্বস্তির।

তবে যে হারে এখন ফ্রিল্যান্সার এবং ফ্রিল্যান্সিং সাইট তৈরি হয়েছে, তাতে নতুনদের জন্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

আপওয়ার্ক, ফাইভার, ফ্রিল্যান্সার ডট কম, পিপল পার আওয়ার এবং গুরু ডট কম এমন ৫টি ফ্রিল্যান্সিং সাইট যা নতুনদের জন্য মার্কেটপ্লেস হিসেবে খুবই উপযুক্ত।

নির্ভরতার দিক থেকে এবং সেবার মানের জন্য অধিকাংশ অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সাররা এই ৫টি সাইটকে নতুনদের ব্যবহারের উপযোগী বলে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

০১) আপওয়ার্ক

আপওয়ার্কে মূলত দুই ধরনের কাজ পাওয়া যায়। ঘন্টা ভিত্তিক এবং মূল্য ভিত্তিকভাবে এই কাজগুলোর কন্ট্রাক্ট হয়ে থাকে।

এই সাইটে কেউ কোনো কাজ ঘন্টা ভিত্তিকভাবে করলে ক্লায়েন্ট প্রতি ঘন্টার নির্দিষ্ট রেট অনুযায়ী কাজের জন্য অর্থ পরিশোধ করে থাকেন।

আর মূল্য ভিত্তিক হলে কাজের জন্য নির্দিষ্ট চুক্তি অনুযায়ী ক্লায়েন্ট অর্থ পরিশোধ করেন।

তবে এক্ষেত্রে কোনো একটি জব বিড-এর জন্য আপওয়ার্ক নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা ফি নিয়ে থাকে।

এছাড়াও পেমেন্টের ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ এই সাইটকে ফি দিতে হয়।

তবে বিনা ঝামেলায় ব্যাংক ট্রান্সফার, পেপাল, পেওনিয়ার, ডিরেক্ট ডিপোজিট ইত্যাদির মাধ্যমে ফি ছাড়া পেমেন্টের টাকা উত্তোলন করতে পারেন ফ্রিল্যান্সাররা।

মাইক্রোসফট থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন নামী দামী প্রতিষ্ঠানও আপওয়ার্কের ফ্রিল্যান্সার দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে থাকে।

আপওয়ার্কের কাজের পরিমাণ অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

তাই দক্ষতা থাকলে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এখানে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার থেকে শুরু করে কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখানে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

আপওয়ার্ক মূলত ওডেক্সের পূর্বসূরী। ওডেক্স ১৯৯৮ সালে সর্বপ্রথম কোনো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস হিসেবে বিশ্বে হাজির হয়।

২০১৫ সালে ওডেক্স পরিবর্তিত নামে বাজারে আসে আপওয়ার্ক হিসেবে।

০২) ফাইভার :

অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের মতো যে কোনো কাজে বিড করার জন্য ফাইভারকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয় না।

তাই একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের জন্য খুবই দারুণ এবং সুবিধাজনক একটি সাইট এটি।

কন্টেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডিজাইন থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেরই ছোট-বড় কাজের সুবিধা রয়েছে এতে।

নতুনদের জন্য ফাইভারকে উপযুক্ত ভাবার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই সাইটে সাধারণত ক্লায়েন্টরা সস্তায় কাজ করিয়ে থাকেন।

তাই নতুনদের এইখানে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

২০১০ সাল থেকে বাজারে ফাইভার বায়ার এবং ফ্রিল্যান্সারদের, বিশেষ করে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সব চাইতে জনপ্রিয় সাইট হয়ে দাঁড়ায়।

ফাইভ ডলার বা পাঁচ ডলার ব্যয়েও এখান থেকে যে কোনো কাজ করিয়ে নেয়া যায় এমন তত্ত্বে এই সাইটের উৎপত্তি হয়।

০৩) ফ্রিল্যান্সার ডট কম

সফটওয়ার, মোবাইল ডেভেলপমেন্ট, ডিজাইন থেকে শুরু করে কপিরাইটিংসহ নতুনদের জন্য অপ্রতুল কাজ রয়েছে এই সাইটে।

আপওয়ার্কের মতো ঘন্টা ভিত্তিক ও চুক্তি ভিত্তিক কাজের পাশাপাশি এখানে রয়েছে প্রতিযোগিতা ভিত্তিক কাজ। এই কাজের পদ্ধতি নতুনদের জন্য চমকপ্রদ।

ক্লায়েন্ট একটি নির্দিষ্ট অর্থ পুরষ্কার ঘোষণা করে কাজ ছেড়ে দেয় মার্কেটে।

সব ফ্রিল্যান্সার তাদের কাজগুলো নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে জমা দেয়ার সেখান থেকে সবচেয়ে ভালো কাজকে বাছাই করে পেমেন্ট বা অর্থ পুরস্কার দেন ক্লায়েন্ট।

২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠানটি বায়ার এবং ফ্রিল্যান্সার উভয়ের কাছেই বেশ গ্রহণযোগ্যতা পায়।

বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ লক্ষাধিক ফ্রিল্যান্সার এই সাইটে কাজ করে থাকেন।

০৪)  পিপল পার আওয়ার :

এই সাইটে ডিজাইন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং থেকে শুরু করে বিজনেস সাপোর্টের সব ধরনের কাজ করা যায়।

মার্কেট প্লেসটিতে কাজ বিড করার পাশাপাশি সার্ভিস সেল করেও কাজ পাওয়া যায়।

সার্ভিস সেল হচ্ছে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ওপর নিজের ব্যাপারে পোষ্ট করা।

পোষ্টের মধ্যে যে কোনো কাজের জন্য কাঙ্ক্ষিত অর্থ মূল্যও নির্ধারণ করে দেয়া যায়।

এই মার্কেটপ্লেসে কাজের রেট অনেক বেশি, তাই অনেকেই এখন কম সময়ে বেশি আয় এবং সুযোগ- সুবিধার ওপর নির্ভর করে এই মার্কেটপ্লেসকে বেছে নেন।

২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক এই মার্কেটপ্লেসটি।

০৫) গুরু ডট কম :

এই সাইটের ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণত নির্ধারিত ক্ষেত্রে বেশি কাজ করে।

কারণ সাইটটিতে প্রোগ্রামিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড আর্কিটেকচার, সেলস এন্ড মার্কেটিং গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, রাইটিং এই জাতীয় ক্ষেত্রের চাহিদা বেশি।

সেই সঙ্গে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও বিষয়ক কাজের চাহিদা এবং পরিমাণ অন্যসব সাইটের তুলনায় অনেক বেশি।

এই সাইটে ফ্রিল্যান্সররা গ্রুপ হয়ে কাজ করতে পারেন। সাধারণত বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রজেক্ট এইখানে পাওয়া যায়; ফলে বিভিন্ন বিশ্ব বিদ্যালয়ের বন্ধু-বান্ধবরা একসঙ্গে কাজ করে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গে ১৯৯৮ সালে মুনলাইটার ডট কম নামে যাত্রা শুরু করে এই ফ্রিল্যান্সিং সাইটটি।

ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং সাইট

আপওয়ার্ক

ফাইভার

ফ্রিল্যান্সার ডট কম

পিপল পার আওয়ার

গুরু ডট কম।

Similar Posts

  • খোদার সকাশে চাই

    লোকদের টকিয়ে থাকে যেবিশ্বাসে নেইতো সে কাহারোমানুষের মধ্যে তো অধম সে ! পৃথিবীর সুখ করে নাই ভোগতাই পরের আনন্দ ও উল্লাসদেখলে মনে লাগে তার দু:খ ! যেথায় কোনোও বিজয়ী লোকশত ত্যাগ তিতিক্ষা সে করেছেফলে দেখে না আর কষ্টের মুখ ! যেই করিতেছে সহ্য মনের দু:খসরল সঠিক সৎ রাস্তায় চললেআল্লাহ পাক দিতে পারেন সুখ ! বিরলে…

  • ডিজিটাল প্রতারক

    প্রতারকচক্র ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করেফেসবুক ইউটিউবসহ বিভিন্ন রকম সোশ্যালমাধ্যম কাজে লাগিয়েই কৌশলের পথ ধরে। অপরাধীদের লোভের ফাঁদে ও হচ্ছেন নিঃস্বঅজস্র ও অসংখ্য আবার এমন পরিস্থিতিরশিকার হয়ে হারাচ্ছেন কত মানুষেরই সর্বস্ব। প্রতিকার চাইতে অনেকে লোকলজ্জার ভয়েআইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হন না তারাতাঁদের কাছে অভিযোগ রয়েছে শয়ে শয়ে। প্রায়ই ডিজিটাল অপরাধী যারা ধরা পড়ছেএরপরও কমছে না অপরাধের…

  • জ্যোৎস্না পাগল

    আকাশে চাঁদ ওঠে থালার মতোকোত্থেকে যে এক ঝটকা ঠান্ডাবাতাস এসেই গায়ে লাগে যতো। একজন বাল্য বন্দুর নাম তমালসে মেসেঞ্জারেই মেসেজ পাঠায়আজকে চাঁদটা দেখেছ কামাল। তৎক্ষনাৎ কামালও রিপ্লাই দেয়চাঁদের দিকেই তাকিয়ে আজকেআকাশে চাঁদ উঠেছে কি তমাল ? তমাল কতোও জ্যোৎস্না পাগলনিজের ফেসবুক প্রোফাইলেরইবায়োতে লিখা যা সাড়া জাগল! জ্যোৎস্না নিয়েই মাথা ব্যথা নেইলিখেছে ভারাক্রান্ত মনে আমিওআপনমনে গম্ভীরও…

  • বিয়োগ ব্যথা !

    মানুষ হারানো কতো যে বেশি কষ্টযাঁদের আর কখনো ফিরে পাওয়ানাহি যায় সে জন্যে মন রয়নি তুষ্ট। তাঁদের মিস করার কষ্ট সবাই বুঝেবিয়োগ হলে সে শূন্যতা পূর্ণ হয়নিআর কখনো পাওয়া যায়নি খুঁজে। কতোটা যেন কষ্টের অপেক্ষা করাআসবে না জেনেও কারোর জন্যেশতো কষ্টই বুঝে অপেক্ষমান যারা। আমার কান্না তোমাকে বুঝতে যেনমনে রেখো ইহা শুধু মাত্র যে একটাকোনো…

  • প্রকৃতিতে ঠাঁই

    প্রকৃতি জোগায় খাবারপোষাক পরিচ্ছদ সবার। রোগে ঔষধ দেয় কতউপশম ও হয় শত শত। শোকে সান্ত্বনার আলোতাই আছি কত ভালো। মাথা গোঁজার দেয় ঠাঁইপ্রকৃতিতে সুবিধা পাই। অগ্রগতির উৎসাহ দেয়অলসতা কাড়িয়ে নেয়। যোগায় মনেরই প্রশান্তিদূরে যায় অসংখ্য ক্লান্তি।

  • চৈত্র সংক্রান্তি

    চৈত্র মাসের শেষ দিনটিতে সংক্রান্তি হয়প্রতি বছর এর উদযাপনও ঐ দিনে রয়। চৈত্র সংক্রান্তি বাঙালির জীবনে আসেকত লোক নির্ধারিত স্থানে গিয়েও মিশে। আনন্দ উল্লাস করে যতোই শিশুদের দলএকত্রিত হয় সকল আরো রয় কোলাহল। কয়েক গ্রাম মিলে একস্থানে বাজার চলেসেথায় অনেক কিছু আরো কিনতে মিলে। হিন্দু সম্প্রদায় পালন করে নিজেদের মতচৈত্র সংক্রান্তির দিনে তারা ফুর্তি করে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *