প্লেগ কি? এর লক্ষণ, বিস্তার ও প্রতিকার। What is Plague in Bengali
প্লেগ একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। Yersinia Pestis নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। ইঁদুরের মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে। এ রোগের বাহক হচ্ছে Rat flea (Tatera indica) নামক এক প্রকার মাছি।
প্লেগ তিন ধরনের হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে:
১. বিউবোনিক প্লেগ;
২. নিউমোনিক প্লেগ ও
৩. সেফটিসেমিক প্লেগ।
এর মধ্যে প্রথম প্রকারের প্লেগই সব চেয়ে বেশি দেখা যায়।
প্লেগ রোগের লক্ষণঃ
১. উচ্চ তাপে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে;
২. কাশি ও হাঁচির সাথে রক্ত মিশ্রিত শ্লেষ্মা আসে;
৩. রোগীর চোখ-মুখ ফোলে এবং লাল হয়;
৪. প্রচণ্ড মাথাব্যথা করা;
৫. ত্বক শুষ্ক মনে হয়;
৬. নাড়ির স্পন্দন বেড়ে যায় কিন্তু রক্তচাপ কমে যায়;
৭. রোগী খুব দুর্বল হয়ে পড়ে;
৮. কুঁচকি ও কানের কাছের লসিকা গ্রন্থি হঠাৎ ফুলে যায় এবং ব্যথা হয় ইত্যাদি।
প্লেগ রোগের জন্য দায়ী জীবাণু কোনটি? এই রোগের চিকিৎসা কী?
প্লেগ একটি জীবন ঘাতী রোগ যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট। এই ব্যাকটেরিয়াটি ফ্রান্স-সুইস ব্যাকটেরিও- লজিস্ট আলেকজেন্ডার ইরসিন কর্তৃক আবিস্কৃত। ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ইহা বিশ্বের ভয়ংকর প্রাণঘাতী তিনটি রোগের একটি হিসেবে চিহ্নিত ছিলো।
উপসর্গ বা লক্ষণঃ
হঠাৎ জ্বর হয়। রোগী অত্যন্ত অসুস্থ ও দূর্বলতা বোধ করে।
এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে রোগীর লিম্ফনোডগুলো ব্লক হয়ে ফুলে উঠে। এ ধরনের প্লেগকে বুবনিক প্লেগ বলে।
বুবনিক প্লেগ দেহে ছড়িয়ে পড়লে পরবর্তীতে নিউমোনিয়া দেখা দেয়। একে নিউমোনিয়া প্লেগ বলে।
Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি । অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয় তাই ব্যাপক প্রাণ সংহারকারী বা অনিস্টকর কোন পরিস্তিতি বর্ণনায় ‘প্লেগ’ শব্দের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। প্লেগ অতি প্রাচীনকালীন এক ব্যাধি, প্রায় ৩০০০ বছর পূর্বে এর অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। ইতিহাস সূত্রে জানা যায় মধ্য যুগে বহু রাজ্য এ রোগ দ্বারা ধ্বংসাত্মক পরিণতির শিকার হয়েছে।