ব্যায়ামঃ যে কারণে মনকে ঠিক রাখতে প্রয়োজন

নিয়মিত ব্যায়াম করার মাধ্যমে যে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া যায়, বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা যায়।

এ ছাড়া পেশি, হাড়, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুসসহ, আমাদের বিভিন্ন অঙ্গকে সুস্থ রাখা যায়; এসব কথা বর্তমানে কম-বেশি সবাই জানেন।

তবে, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম যে আমাদের মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে।

আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ভূমিকা পালন করে, এই বিষয়ে খুব কমই আলোচনা হয়।

এই লেখাতে সে বিষয়েই আলোকপাত করেছি। চলুন, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম কীভাবে উপকারী ভূমিকা রাখে সে সম্পর্কে জানা যাক।

মস্তিষ্কের ওপর ব্যায়ামের প্রভাবঃ

আমাদের মস্তিষ্কের ওপর কায়িক শ্রমের গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ নিয়মিত হাঁটাচলা করেন, দৌড়ান কিংবা জিমে যান, তাদের মস্তিষ্ক থেকে এন্ডোরফিন, এন্ডোক্যানাবিনয়ড, সেরেটোনিন, ডোপামিনসহ বিভিন্ন পদার্থ নিঃসৃত হয়।

আর এই পদার্থগুলো আমাদের সুখের অনুভূতি, হাসি-খুশি কিংবা প্রসন্ন থাকার সাথে সংযুক্ত। 

শরীরে এই পদার্থগুলোর বৃদ্ধি আমাদের মন শান্ত রাখে, রাগ কমায়, বিষণ্ণতা কমায়।

এ ছাড়া আমাদের খিদে, স্মৃতিশক্তি, চিন্তা করার ক্ষমতা, মনোযোগ ইত্যাদি বাড়িয়ে দেয়।

এর ফলে আমাদের আত্মসম্মান কিংবা আত্মমর্যাদাও বৃদ্ধি পায়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের মস্তিষ্কে দ্রুত রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ হতে সহযোগিতা করে।

এর ফলে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারা অ্যালঝেইমার, স্কিৎসোফ্রেনিয়া, ডিমেন- শিয়াসহ ইত্যাদি মস্তিষ্কের রোগ ও স্ট্রোকের কম ঝুঁকিতে থাকেন।

মানসিক সুস্থতায় ব্যায়ামের ভূমিকাঃ

ব্যায়াম আমাদের মনের ওপর দৈনন্দিন অন্যান্য কাজের চাপ কিংবা ক্লান্তি দূর করে উৎফুল্ল হতে সহায়তা করে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে, নিজের শরীর ও মন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে সহায়তা করে। 

ব্যায়াম আমাদের নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা থেকে দূরে রাখে এবং সবসময় ইতিবাচক থাকতে সহায়তা করে। 

ব্যায়ামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতাটি হলো নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের ভালো ঘুমে সহায়তা করে।

আর পর্যান্ত ভালো ঘুম আমাদের মস্তিষ্ককে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেয়, মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বাড়ায়।

আমাদের নানা ধরনের মানসিক চাপ বা সমস্যা থেকে মুক্ত রাখে।

এছাড়া একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যায়াম–ডিপ্রেশন, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, ওসিডি সিনড্রোম, পিটিএসডি সিনড্রোম;

বাইপোলার ডিজর্ডার, এডিএইচডি সিনড্রোমসহ ইত্যাদি মানসিক রোগের প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। 

একজন সুস্থ-সবল, সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সাধারণ ব্যায়াম করা-ই পর্যাপ্ত।

তবে আপনি যদি ওজন কমানো কিংবা ওজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যায়াম করেন, সেক্ষেত্রে কম-বেশি হতে পারে।

আপনাকে অবশ্যই ব্যায়াম শুরুর আগে অভিজ্ঞ চিকিৎসক কিংবা ফিটনেস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

Similar Posts

  • ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে যেসব খাবার খাবেন

    ক্যালসিয়াম শরীরের অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। এই খনিজ উপাদানটি আমাদের হাড় ও দাঁত শক্ত করে, ক্ষয় রোধ করে। স্নায়ু, হৃদস্পন্দন, মাংসপেশির কাজেও লাগে। কৈশোরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে ক্যালসিয়ামের ঘাটতিজনিত সমস্যাগুলো কম হবে।সাধারণতঃ দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের মধ্য দিয়েই মানব দেহের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়। কিন্তু অনেক মানুষ ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট। অর্থাৎ,…

  • চোখের সমস্যা

    চোখে ও দেখায় সমস্যা। চোখের মৌলিক পরিচর্যা। চোখের জরুরী অবস্থা এবং আঘাত। লাল চোখ ও ব্যথাযুক্ত চোখ। সাধারণ চোখের সমস্যা। চোখের ক্ষতি করতে পারে এমন অসুস্থ্যতা। ক্ষীণ দৃষ্টি এবং চশমা। ঔষধ। ছানি। লেন্স হলো চোখের মধ্যে একটি স্বচ্ছ অংশ যা বাইরে থেকে আলোকে কেন্দ্রীভূত করে, যাতে চোখ দেখতে পায়। মানুষ বৃদ্ধ হতে থাকলে এই লেন্সটি…

  • শারীরিক সুস্থতা

    শারীরিক সুস্থতা ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার পরে বেঁচে থাকার হারের উন্নতির সাথে সম্পর্কিত। ব্যায়াম হল শারীরিক কার্যকলাপের শ্রেণীবিভাগ যা কাঠামোগত, পরিকল্পিত এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আন্দোলন এর সাথে জড়িত। অনকোলজির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যায়ামগুলিকে নিরাপদ এবং সম্ভাব্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে । অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি ক্যান্সারের চিকিৎসার সময় এবং পরে রোগীদের জীবনযাত্রার মান…

  • ল্যারি এলিসন

    ৯। ল্যারি এলিসনঃ ল্যারি এলিসন ১০১ বিলিয়ন ডলার নিয়ে বিশ্বের নবম ধনী মানুষ হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন । ল্যারি এলিসন সফটওয়্যার কোম্পানি ওরাকলের নির্মাতা ও প্রাক্তন সি ই ও। তাঁর কোম্পানি অনেক সফটওয়্যার বানিয়ে বিশ্বকে টেকনোলজির দিক থেকে অনেক দূরে নিয়ে এসেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি আই এর ডাটাবেজও এলিসনের তৈরি করা। তিনি একজন বড়…

  • লিভার সিরোসিস

    লিভার সিরোসিস রোগ সম্পর্কে অনেকেরই অল্পবিস্তর জানা আছে। এটা যকৃতের জটিল একটি রোগ। এ রোগ একবার হয়ে গেলে নিরাময় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে-এর অনেকটা প্রতিরোধ করা সম্ভব।যকৃতের কাজ কীঃমানুষের পেটের ওপরের অংশের ডান দিকে যকৃতের অবস্থান, যা মানবদেহে বিপাক ক্রিয়া সম্পাদন করে থাকে।খাদ্যের অতিরিক্ত গ্লুকোজ যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে, যা পরবর্তী সময়ে…

  • মেদ কমাতে

    নিয়ন্ত্রিত খাবার খাচ্ছেন ও নিয়মিত ব্যায়াম করছেন । দিনরাত হাঁটা হাঁটিও কম করছেন না। নিয়মিত ওষুধও খাচ্ছেন। তাতে ওজন একটু একটু করে কমলেও পেটের মেদ কমছে না। মুখ থাকে শুকনো, পেট থাকে অতিরিক্ত বড়। যা চোখে দেখতে বেমানান । ফলে নিশ্চয় আপনি এ নিয়ে ভীষণ বিব্রত অবস্থায় আছেন। যারা দিনরাত কসরত করেও মেদ কমাতে পারছেন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *