প্লেগের উৎপত্তি কোথায়, জানালেন বিজ্ঞানীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২২

ব্ল্যাক ডেথ নামে পরিচিত প্লেগ রোগের উৎপত্তি স্থল আবিষ্কার করা গেছে বলে বিশ্বাস করছেন গবেষকরা । ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকায় রোগটি কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটানোর ছয়শ’ বছরের বেশি সময় পর এই তথ্য জানতে পারার কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা।

চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝা মাঝির এই স্বাস্থ্য বিপর্যয়কে মানব ইতিহাসের সব চেয়ে তাৎপর্য পূর্ণ স্বাস্থ্য বিপর্যয় বলে মনে করা হয়। কিন্তু বছরের পর বছর গবেষণা চালিয়েও বিজ্ঞানীরা বুবোনিক প্লেগের উৎপত্তি কোথায় তা জানাতে পারছিলেন না।
কিন্তু এবার বিশ্লেষণে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তানে ১৩৩০ এর দশকে এই রোগের উদ্ভব।

স্কটল্যান্ডের স্টারলিং ইউনিভার্সিটি, জার্মানির ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট এবং ইউনিভার্সিটি অব তুবিনজেন এর এক দল গবেষক কিরগিজস্তানের ইসিক কুল লেকের কাছের একটি কবরস্থান থেকে সংগ্রহ করা কংকালের ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন । ১৩৩৮ এবং ১৩৩৯ সালে সেখানে দাফনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় লক্ষ্য করার পরে তারা এলাকাটি বেছে নেন।

ইউনিভার্সিটি অব তুবিনজেন এর গবেষক ড. মারিয়া স্পাইরো জানান, গবেষক দলটি সাতটি কংকালের ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষকরা এসব কংকালের দাঁত বিশ্লেষণ করেছেন কারণ এতে অনেক রক্ত নালী রয়েছে এবং গবেষকদের ‘রক্ত বাহিত রোগ জীবাণু শনাক্ত করার উচ্চ সম্ভাবনা জাগায় যা ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে’। গবেষক দলটি তিনটি কংকালে প্লেগ ব্যাকটেরিয়া, ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছেন।

স্টারলিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ড. ফিলিপ স্লাভিন আবিষ্কারটি সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের গবেষণা ইতিহাসের সব চেয়ে বড় এবং সব চেয়ে আকর্ষণীয় প্রশ্ন গুলোর মধ্যে একটির অবসান ঘটিয়েছে। এবং কোথায় মানুষের একক সব চেয়ে কুখ্যাত এবং ভয়ঙ্কর হত্যাকারী (রোগ) কখন ও কোথায় শুরু হয়েছিল তা নির্ধারণ করেছে’।

গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর একটি হচ্ছে কম সংখ্যক নমুনা। নিউজি- ল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওটাগোর ড. মাইকেল ক্নাপ ওই গবেষণায় জড়িত না থেকেও একে ‘সত্যিই মূল্যবান’ আখ্যা দিয়েছেন।

গবেষণা কাজটি ন্যাচার জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে । এর শিরোনাম ‘চতুর্দশ শতাব্দীতে মধ্য ইউরো এশিয়ায় ব্ল্যাক ডেথের উৎস’।

বুবোনিক প্লেগ কী?

প্লেগ একটি সম্ভাব্য প্রাণ ঘাতী সংক্রামক রোগ যা ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্টি হয়। প্রধানতঃ ইঁদুর সহ কিছু প্রাণী এবং সে গুলোর বাহকে এই ব্যাকটেরিয়ার বাস।

বুবোনিক প্লেগ এই রোগের সব চেয়ে সাধারণ রূপ যা মানুষকে আক্রান্ত করে। রোগের লক্ষণ থেকে এই নাম এসেছে। আক্রান্তদের চামড়া ফুলে যাওয়া বা কুঁচকি কিংবা বগলে ‘বুবোস’ দেখা যায়।

২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৩ হাজার ২৪৮ জনের এই রোগে আক্রান্তের তথ্য পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ৫৮৪ জনের মৃত্যু হয়।

ঐতিহাসিকভাবে ইহাকে ব্ল্যাক ডেথ নামেও ডাকা হতো। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন আঙ্গুল এবং পায়ের আঙ্গুল কালো হয়ে যাওয়া এবং শেষে মৃত্যু এই রোগকে ভয়ঙ্কর করে তোলে।

Similar Posts

  • স্ট্রোক কি স্ট্রোক কত প্রকার

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সারা বিশ্বে স্ট্রোকে মৃত্যুর হার দ্বিতীয় । প্রতি ৬ জনে একজন স্ট্রোক করে । যে কোন বয়সে, যে কেউ এই স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে । ল্যানসেটের গবেষনা অনুযায়ী বাংলাদেশে  মৃত্যুর অন্যতম কারণ স্ট্রোক । সব চেয়ে প্রতি বন্ধিতার কারণও স্ট্রোক । স্ট্রোক কিঃ  ব্রেইনের রক্ত সরবরাহ কোন কারনে বিঘ্নিত হলে রক্তের…

  • নতুন পোলিও টিকা নবজাতকের রোগ পতিরোধে সক্ষম

    মুখে খাওয়ার নতুন পোলিও টিকা ‘এনওপি- ভি -২’ নবজাতকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম বলে জানিয়েছে আন্ত- র্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। আইসিডিডিআরবি ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে গত বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চাঁদপুরের মতলব হেলথ রিসার্চ সেন্টারে একটি র্যান্ডমাইজড (বাছবিচার – হীনভাবে), ডাবল-ব্লাইন্ড, কন্ট্রোল্ড (নিয়ন্ত্রিত) ও ফেজ – ২ ট্রায়াল চালায়। গবেষকরা…

  • ফলগুলো রীতিমতো বিষে পরিণত হয়

    ফল গাছে থাকা পর্যায় থেকে বাজারে বিক্রি করা মুহূর্ত পর্যন্ত এক একটি ফলে ছয় দফা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। মূলতঃ গ্যাস জাতীয় ইথাইলিন ও হরমোন জাতীয় ইথ- রিল অতিমাত্রায় স্প্রে করে ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করার কারণেই ফলগুলো রীতিমতো বিষে পরিণত হয়। ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতেই ফলমূলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো হয়। অন্যদিকে ফলমূল…

  • গলায় সমস্যা? থাইরয়েড ক্যান্সার নয় তো?

    প্রাণঘাতী রোগ ক্যান্সার নীরবে আক্রমণ করে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই টের পেতে দেরী হয়ে যায়। থাইর-য়েডের সমস্যা এখন প্রায় ঘরে ঘরে। শুধু থাইর-য়েডের বৃদ্ধিতেই, আর এই সমস্যা সীমাবদ্ধ নেই। এটি রুপ নিতে পারে প্রাণ ঘাতী ক্যান্সারে! জেনে নিতে হবে থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যান্সারের লক্ষণ আর রিস্ক ফ্যাক্টর গুলো। নইলে সঠিক চিকিৎসা করা মুশকিল হয়ে পড়বে। থাইর-য়েড ক্যান্সার…

  • থাইরয়েড হরমোন-এর কাজ

    থাইরয়েড হরমোন-এর কাজ দেহের এক অপরিহার্য উপাদান এটি কমবেশি হলে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। প্রত্যেক মানুষের দেহে, নির্দিষ্ট মাত্রায় থাইরয়েড হরমোন থাকা জরুরি। এর হেরফের হলেই নানা জটিলতা দেখা দেয়। থাইরয়েড কী? থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হয় থাইরয়েড নামের গ্রন্থি থেকে। এই গ্রন্থি গলার সামনের উঁচু হাড়ের পেছনের দিকে, ট্রাকিয়া বা শ্বাস নালিকে পেঁচিয়ে থাকে। এই গ্রন্থির…

  • স্ট্রোক হলে

    হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায়ও যেমন স্ট্রোক হতে পারে, তেমনই শরীরের কোনো অংশ ধীরে ধীরে দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া, মুখ একদিকে বাঁকিয়ে যাওয়া, মুখ থেকে খাবার ও পানি গড়িয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেমন-চিনতে না পারা অপ্রাসঙ্গিক বা আজেবাজে কথা বলা, অকারণে বিরক্ত হয়ে হইচই করা, একদম…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *