দাদ রোগ

মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীরের যে কোনো জায়গায় দাদ হতে পারে। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নিলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

দাদ রোগ একটি পরিচিত চর্মরোগ। এই ছোঁয়াচে রোগটি ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারণে ঘটে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীরের যে কোনো জায়গায় দাদ হতে পারে। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নিলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

দাদ রোগের লক্ষণঃ

দাদের প্রধান উপসর্গ হলো ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ। এই র‍্যাশ দেখতে সাধারণতঃ আংটির মতো গোল হয়ে থাকে। রঙ হয় লালচে। তবে রোগীর ত্বকের বর্ণ ভেদে ইহা রূপালি দেখাতে পারে। আবার আশে পাশের ত্বকের চেয়ে গাঢ় বর্ণও ধারণ করতে পারে।

দাদ রোগের লক্ষণঃ

দাদ রোগে ত্বকের বর্ণ পরিবর্তনের পাশা পাশি র‍্যাশের উপরিভাগে ছোটো ছোটো আঁইশ থাকতে পারে। এ ছাড়া আক্রান্ত স্থানে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে—

ত্বক কিছুটা খসখসে বা শুকনো হয়ে যাওয়া;

স্থানটি ফুলে যাওয়া;

চুলকানি হওয়া;

আক্রান্ত ত্বকের ওপরে চুল অথবা লোম থাকলে সেগুলো পড়ে যাওয়া। 

শরীরের কোন কোন স্থানে দাদ রোগ হয়?

আমাদের শরীরের যে কোনো অংশে দাদ দেখা দিতে পারে। যেমন: কুঁচকি, মাথার ত্বক, হাত, পা, পায়ের পাতা, এমনকি হাত-পায়ের নখ।

আক্রান্ত স্থান ভেদে দাদের লক্ষণেও ভিন্নতা আসতে পারে। যেমন, র‍্যাশের আকারে ভিন্নতা থাকতে পারে। দাদের র‍্যাশ আস্তে আস্তে বড় হয়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। আবার কখনো কখনো একাধিক র‍্যাশ দেখা দিতে পারে।

নিচে শরীরের বিশেষ কিছু স্থানের দাদ রোগ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হয়েছে

মাথার ত্বক। 

মাথার ত্বকে দাদ রোগঃ

মাথার ত্বকে দাদ দেখা দিলে সাধারণতঃ আক্রান্ত অংশের চুল পড়ে টাক সৃষ্টি হয়। টাক পড়া অংশে লালচে, গোলাকার ও ছোটো ছোটো আঁইশযুক্ত র‍্যাশ তৈরি হয়। এতে চুলকানি থাকতে পারে।

ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়লে টাক পড়া অংশের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে এবং মাথার ত্বকে দাদ রোগের একাধিক র‍্যাশ তৈরি হতে পারে।

মাথার ত্বকের দাদ রোগ প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

পা ও পায়ের আংগুলের ফাঁকেঃ

এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানটি লাল হয়ে ফুলে ওঠে এবং সেখান থেকে চামড়া উঠে যেতে থাকে। সেই সাথে পায়ের আঙ্গুলগুলোর ফাঁকে ফাঁকে চুলকানি হয়। বিশেষ করে পায়ের সব চেয়ে ছোটো আঙুল দুটির মাঝখানের অংশে চুলকানি হয়ে থাকে।

পায়ে দাদ হলে পায়ের পাতা ও গোড়ালিও আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি গুরতর ক্ষেত্রে পায়ের ত্বকে ফোস্কা পড়তে পারে। 

কুঁচকিঃ

কুঁচকিতে দাদ হলে সেটি সাধারণতঃ ঊরুর ভেতরের দিকের ভাঁজে লাল লাল র‍্যাশ হিসেবে দেখা যায়। র‍্যাশে আঁইশ থাকে এবং চুলকানি হয়।

দাঁড়িঃ

গাল, চিবুক ও গলার ওপরের অংশে এই ধরনের দাদ দেখা দেয়। ইহাও লাল লাল র‍্যাশ হিসেবে দেখা যায়, যাতে আঁইশ থাকে এবং চুলকানি হয়। দাঁড়িতে দাদ হলে অনেক সময় র‍্যাশের ওপরে চলটা পড়ে।

আবার ভেতরে পুঁজও জমতে পারে। একই সাথে আক্রান্ত অংশের চুল পড়ে যেতে পারে।

যেসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের কাছে যাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণঃ

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ত্বকে অ্যান্টি ফাঙ্গাল ঔষধ ব্যবহারের পরেও অবস্থার উন্নতি না হলে ;

কোনো কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে। যেমন: কেমো থেরাপি কিংবা স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহার ও ডায়াবেটিস ;

মাথার ত্বকের দাদ হলে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ১–৩ মাস পর্যন্ত মুখে খাওয়ার ঔষধ ব্যবহার করতে হয়। পাশাপাশি শ্যাম্পু ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়ে থাকে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *