স্ট্রোক কী? স্ট্রোক হলে কী করবেন?

স্ট্রোক হল মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি রোগ। সেই রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া অথবা ব্লক হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের কারণ। 
অতএব স্ট্রোক দু’ধরনের
১. রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলে।
২. রক্তনালি ব্লক হয়ে গিয়ে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত না যাওয়া এবং মস্তিষ্ক শুকিয়ে যাওয়া, একে বলে ইস্কেমিক স্ট্রোক।
কেন স্ট্রোক হয়?
সাধারণতঃ কিছু ক্ষেত্রে অনেকদিন ধরে ধীরে ধীরে বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাই-প্রেসার,হাই-কোলেস্টেরল, ধূমপান, পারিবারিক স্ট্রোকের ইতিহাস, হার্টের অসুখ যেমন- অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, রক্তজমাট বাঁধা অসুখ, ক্যান্সার ইত্যাদি আরও অনেক কারণ রয়েছে স্ট্রোকের। 
আবার অনেক সময় কোনো পূর্ব রোগ ছাড়াও হঠাৎ করেই হতে পারে স্ট্রোক। এক্ষেত্রে হঠাৎ উত্তেজিত হওয়া, জন্মগত রক্তনালির গঠনগত সমস্যা, জন্মগত এনজাইমের সমস্যা, মেটাবলিক সমস্যা ইত্যাদি রয়েছে। 
ইহা শুধু বয়স্কদের জন্য নয়, একেবারে তরুণদের মধ্যেও স্ট্রোক হতে দেখা যায়।
স্ট্রোকের লক্ষণ কী?
সবসময় সবধরনের স্ট্রোকের একই রকম লক্ষণ হয় না। কী ধরনের স্ট্রোক, কী কারণে হল, মস্তিষ্কের কোন অংশে হল তার ওপর ভিত্তি করে লক্ষণও হতে পারে ভিন্ন। 
হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায়ও যেমন স্ট্রোক হতে পারে, তেমনই শরীরের কোনো অংশ ধীরে ধীরে দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া, মুখ একদিকে বাঁকিয়ে যাওয়া, মুখ থেকে খাবার ও পানি গড়িয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেমন- চিনতে না পারা, অপ্রাসঙ্গিক বা আজেবাজে কথা বলা, অকারণে বিরক্ত হয়ে হইচই করা, একদম চুপচাপ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। 
এগুলো হওয়া মানেই যে স্ট্রোক- এমনটি নয়। আরও অনেক কারণেই এমন হতে পারে। তবে এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্ট্রোক হলে কী করণীয়?
পরিবারের কারো এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ভয় ও উদ্বিগ্ন লাগাটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আপনার প্রথম ও প্রধান করণীয় রোগীকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব অ্যাম্বুলেন্স ডাকা ও হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা। 
কোনো ধরনের ওষুধপত্র নিজ থেকে দিবেন না। কারণ স্ট্রোকটি হেমোরেজিক না ইস্কেমিক আপনি জানেন না, ওষুধ প্রদানে উল্টা তার ক্ষতি হতে পারে। মুখে কিছু খাওয়াতে যাবেন না, এমনকি পানিও। 
এ খাবার ও পানি তার শ্বাসনালিতে গিয়ে আটকে যেতে পারে ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে অথবা ইনফেকশন করতে পারে, যা এ অবস্থায় তার জন্য খুবই ক্ষতিকর।
সময় মতো স্ট্রোকের চিকিৎসা করলে মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। স্ট্রোক একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা এবং দ্রুত এর চিকিৎসা শুরু করা না গেলে রোগীকে পঙ্গুত্ব বরণের পাশাপাশি তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া গেলে রোগীর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত ।
স্ট্রোক কিভাবে বুঝবেন?
স্ট্রোকের সাথে অনেকে হার্ট অ্যাটাককে তুলনা দিয়ে ফেলেন। কিন্তু দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। স্ট্রোক মূলতঃ মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত হানে। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের কোন অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মস্তিষ্কের কোষগুলো মরে গেলে স্ট্রোক হয়।
সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীরের প্রতিটি কোষে রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন। কারণ এই রক্তের মাধ্যমেই শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেন পৌঁছায়। কোন কারণে মস্তিষ্কের কোষে যদি রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায় বা ছিঁড়ে যায় তখনই স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। সাধারণতঃ ৬০-বছরের বেশি বয়সী রোগীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকলেও ইদানীং তরুণ এমনকি শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে নারীদের তুলনায় পুরুষদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
স্ট্রোক তিন ধরনের হয়ে থাকে। মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক।
মাইল্ড স্ট্রোকে রোগীর মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ সাময়িক বন্ধ হয়ে আবারও চালু হয়। এটি মূলত বড় ধরণের স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ।
ইসকেমিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের ও শরীরের অন্যান্য স্থানের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধে।
হেমোরেজিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিঁড়ে রক্তপাত হয়।
স্ট্রোক, মস্তিষ্কে কতোটা ক্ষতি করবে এটা নির্ভর করে এটি মস্তিষ্কের কোথায় ঘটেছে এবং কতোটা জায়গা জুড়ে হয়েছে, তার ওপর।
তবে এখানে সবচেয়ে জরুরি হল ‘সময়’। যদি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয় তাহলে মৃত্যুমুখ থেকে রোগীকে স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। চিকিৎসকরা বলছেন, রোগী যতো দ্রুত চিকিৎসা পাবে, ক্ষতির আশঙ্কা ততোই কমবে। বাংলাদেশে গত ১০/১২ বছরে ৪০ বছরের নিচে অনেকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে । স্ট্রোকের লক্ষণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম হয়। অনেকে স্ট্রোক হওয়ার কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে যান। এ কারণে আর চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
কারও মধ্যে স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে বিন্দুমাত্র সময় ক্ষেপণ না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
স্ট্রোকের সাধারণ কিছু লক্ষণ হলঃ
আচমকা হাত, পা বা শরীরের কোনও একটা দিক অবশ হয়ে যাওয়া। হাত ওপরে তুলতে না পারা।
চোখে ঝাপসা/ অন্ধকার দেখা।
কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।
ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া।
জিহ্বা অসাড় হয়ে, মুখ বেঁকে যাওয়া।
শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যাওয়া/জ্ঞান হারানো।
হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাজ পড়ার মতো তীব্র মাথাব্যথা।
বমি বমি ভাব, বমি, খিঁচুনি হওয়া।
লক্ষণ ও পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে চিকিৎসকরা একটি শব্দ মাথায় রাখতে বলেছেন। সেটা হল: FAST
এখানে F = Face মুখ বেঁকে যাওয়া, A = Arm হাত অবশ হয়ে আসা, S = Speech কথা জড়িয়ে যাওয়া এবং T = Time যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।
এ ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে বিছানায় বা মেঝেতে কাত করে শুইয়ে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে, না হলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
রোগীকে বাতাস করতে হবে, অথবা আলো বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হবে। রোগীর আশেপাশে ভিড় করে কান্নাকাটি করা যাবে না। গায়ে থাকা কাপড় ঢিলেঢালা করে দিতে হবে যেমন: টাই, বেল্ট, স্কার্ফ, অন্তর্বাসের বাঁধন খুলে দিতে হবে যেন রোগী শ্বাস নিতে পারেন।রোগী জ্ঞান হারালে তার মুখ খুলে দেখতে হবে কিছু আটকে আছে কিনা। ভেজা কাপড় দিয়ে মুখে জমে থাকা লালা, খাবারের অংশ বা বমি পরিষ্কার করে দিতে হবে। এ সময় রোগীকে পানি, খাবার বা কোন ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। কারণ একেক ধরণের স্ট্রোকের ওষুধ একেক রকম। রোগীকে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে ।
রোগীকে আগে যে হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডাক্তারের নিকট নেওয়া হয়েছিল, যাওয়ার সময় রোগীর চিকিৎসার ফাইলপত্র সাথে নিয়ে যাবেন।

স্ট্রোক কী? স্ট্রোক হলে কী করবেন?

স্ট্রোক হল মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি রোগ। সেই রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া অথবা ব্লক হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের কারণ। 
অতএব স্ট্রোক দু’ধরনের
১. রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলে।
২. রক্তনালি ব্লক হয়ে গিয়ে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত না যাওয়া এবং মস্তিষ্ক শুকিয়ে যাওয়া, একে বলে ইস্কেমিক স্ট্রোক।
কেন স্ট্রোক হয়?
সাধারণতঃ কিছু ক্ষেত্রে অনেকদিন ধরে ধীরে ধীরে বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাই-প্রেসার,হাই-কোলেস্টেরল, ধূমপান, পারিবারিক স্ট্রোকের ইতিহাস, হার্টের অসুখ যেমন- অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, রক্তজমাট বাঁধা অসুখ, ক্যান্সার ইত্যাদি আরও অনেক কারণ রয়েছে স্ট্রোকের। 
আবার অনেক সময় কোনো পূর্ব রোগ ছাড়াও হঠাৎ করেই হতে পারে স্ট্রোক। এক্ষেত্রে হঠাৎ উত্তেজিত হওয়া, জন্মগত রক্তনালির গঠনগত সমস্যা, জন্মগত এনজাইমের সমস্যা, মেটাবলিক সমস্যা ইত্যাদি রয়েছে। 
ইহা শুধু বয়স্কদের জন্য নয়, একেবারে তরুণদের মধ্যেও স্ট্রোক হতে দেখা যায়।
স্ট্রোকের লক্ষণ কী?
সবসময় সবধরনের স্ট্রোকের একই রকম লক্ষণ হয় না। কী ধরনের স্ট্রোক, কী কারণে হল, মস্তিষ্কের কোন অংশে হল তার ওপর ভিত্তি করে লক্ষণও হতে পারে ভিন্ন। 
হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায়ও যেমন স্ট্রোক হতে পারে, তেমনই শরীরের কোনো অংশ ধীরে ধীরে দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া, মুখ একদিকে বাঁকিয়ে যাওয়া, মুখ থেকে খাবার ও পানি গড়িয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেমন- চিনতে না পারা, অপ্রাসঙ্গিক বা আজেবাজে কথা বলা, অকারণে বিরক্ত হয়ে হইচই করা, একদম চুপচাপ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। 
এগুলো হওয়া মানেই যে স্ট্রোক- এমনটি নয়। আরও অনেক কারণেই এমন হতে পারে। তবে এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্ট্রোক হলে কী করণীয়?
পরিবারের কারো এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ভয় ও উদ্বিগ্ন লাগাটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আপনার প্রথম ও প্রধান করণীয় রোগীকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব অ্যাম্বুলেন্স ডাকা ও হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা। 
কোনো ধরনের ওষুধপত্র নিজ থেকে দিবেন না। কারণ স্ট্রোকটি হেমোরেজিক না ইস্কেমিক আপনি জানেন না, ওষুধ প্রদানে উল্টা তার ক্ষতি হতে পারে। মুখে কিছু খাওয়াতে যাবেন না, এমনকি পানিও। 
এ খাবার ও পানি তার শ্বাসনালিতে গিয়ে আটকে যেতে পারে ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে অথবা ইনফেকশন করতে পারে, যা এ অবস্থায় তার জন্য খুবই ক্ষতিকর।
সময় মতো স্ট্রোকের চিকিৎসা করলে মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। স্ট্রোক একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা এবং দ্রুত এর চিকিৎসা শুরু করা না গেলে রোগীকে পঙ্গুত্ব বরণের পাশাপাশি তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া গেলে রোগীর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত ।
স্ট্রোক কিভাবে বুঝবেন?
স্ট্রোকের সাথে অনেকে হার্ট অ্যাটাককে তুলনা দিয়ে ফেলেন। কিন্তু দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। স্ট্রোক মূলতঃ মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত হানে। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের কোন অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মস্তিষ্কের কোষগুলো মরে গেলে স্ট্রোক হয়।
সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীরের প্রতিটি কোষে রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন। কারণ এই রক্তের মাধ্যমেই শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেন পৌঁছায়। কোন কারণে মস্তিষ্কের কোষে যদি রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায় বা ছিঁড়ে যায় তখনই স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। সাধারণতঃ ৬০-বছরের বেশি বয়সী রোগীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকলেও ইদানীং তরুণ এমনকি শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে নারীদের তুলনায় পুরুষদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
স্ট্রোক তিন ধরনের হয়ে থাকে। মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক।
মাইল্ড স্ট্রোকে রোগীর মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ সাময়িক বন্ধ হয়ে আবারও চালু হয়। এটি মূলত বড় ধরণের স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ।
ইসকেমিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের ও শরীরের অন্যান্য স্থানের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধে।
হেমোরেজিক স্ট্রোকে মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিঁড়ে রক্তপাত হয়।
স্ট্রোক, মস্তিষ্কে কতোটা ক্ষতি করবে এটা নির্ভর করে এটি মস্তিষ্কের কোথায় ঘটেছে এবং কতোটা জায়গা জুড়ে হয়েছে, তার ওপর।
তবে এখানে সবচেয়ে জরুরি হল ‘সময়’। যদি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয় তাহলে মৃত্যুমুখ থেকে রোগীকে স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। চিকিৎসকরা বলছেন, রোগী যতো দ্রুত চিকিৎসা পাবে, ক্ষতির আশঙ্কা ততোই কমবে। বাংলাদেশে গত ১০/১২ বছরে ৪০ বছরের নিচে অনেকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে । স্ট্রোকের লক্ষণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম হয়। অনেকে স্ট্রোক হওয়ার কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে যান। এ কারণে আর চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
কারও মধ্যে স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে বিন্দুমাত্র সময় ক্ষেপণ না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
স্ট্রোকের সাধারণ কিছু লক্ষণ হলঃ
আচমকা হাত, পা বা শরীরের কোনও একটা দিক অবশ হয়ে যাওয়া। হাত ওপরে তুলতে না পারা।
চোখে ঝাপসা/ অন্ধকার দেখা।
কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।
ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া।
জিহ্বা অসাড় হয়ে, মুখ বেঁকে যাওয়া।
শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যাওয়া/জ্ঞান হারানো।
হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাজ পড়ার মতো তীব্র মাথাব্যথা।
বমি বমি ভাব, বমি, খিঁচুনি হওয়া।
লক্ষণ ও পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে চিকিৎসকরা একটি শব্দ মাথায় রাখতে বলেছেন। সেটা হল: FAST
এখানে F = Face মুখ বেঁকে যাওয়া, A = Arm হাত অবশ হয়ে আসা, S = Speech কথা জড়িয়ে যাওয়া এবং T = Time যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।
এ ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে বিছানায় বা মেঝেতে কাত করে শুইয়ে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে, না হলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
রোগীকে বাতাস করতে হবে, অথবা আলো বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হবে। রোগীর আশেপাশে ভিড় করে কান্নাকাটি করা যাবে না। গায়ে থাকা কাপড় ঢিলেঢালা করে দিতে হবে যেমন: টাই, বেল্ট, স্কার্ফ, অন্তর্বাসের বাঁধন খুলে দিতে হবে যেন রোগী শ্বাস নিতে পারেন।রোগী জ্ঞান হারালে তার মুখ খুলে দেখতে হবে কিছু আটকে আছে কিনা। ভেজা কাপড় দিয়ে মুখে জমে থাকা লালা, খাবারের অংশ বা বমি পরিষ্কার করে দিতে হবে। এ সময় রোগীকে পানি, খাবার বা কোন ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। কারণ একেক ধরণের স্ট্রোকের ওষুধ একেক রকম। রোগীকে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে ।
রোগীকে আগে যে হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডাক্তারের নিকট নেওয়া হয়েছিল, যাওয়ার সময় রোগীর চিকিৎসার ফাইলপত্র সাথে নিয়ে যাবেন।

Similar Posts

  • সিঁধেল চোর !

    এত ত্রস্তে যাচ্ছ ভাইদীর্ঘ দিন অতিবাহিতহয়ে গেলো কিন্তু এরমধ্যে আর দেখা নাই। সে বলে দিসনে জ্বালাএলাকায় এক ঘটনারফলে অশান্তির জন্যেচলছে কতো ঝামেলা! একটি চোর ঢুকে ঘরেমালামাল চুরির মুহুর্তেগৃহকর্তার নিদ্রা ভেংগেগেলে ঐ চোরকে ধরে! চিৎকার চলে যা জোরেআশ পাশ বাড়ির সদস্যমিলে বেশ আঘাত করেশেষে চোরটি গেল মরে! এ সংবাদটি বিস্তৃত হয়সাধারণ আরো সকলনিরীহ জনতা পুলিশেরকঠোর নির্যাতন…

  • সহযাত্রা

    চল, চল, চলরে তোরা ,একসাথে যাইরে মোরা।এখন নাইরে কোন বৃষ্টি ,পথ চারীরা দিল দৃ্ষ্টি।হাঁসগুলো দিঘির জলে ,সাঁতার কাটছে মনের বলে।রাস্তায় চলছে ঘোড়ার গাড়ি ,জন-মানব দিচ্ছে পাড়ি।হাট বাজার করছে যারা ,কোলাহলে পড়ছে তারা।দলে দলে গল্প জোটের ,বিকি দিচ্ছে বাদাম বুটের।সায়াহ্নে সব ফিরছে বাড়ি ,কেউ বা যাচ্ছে দিয়ে গাড়ি।রঙ্গ বেরঙ্গের সবকিছু ই ,ভোগ করেছি মোরা।প্রার্থনা ও নৈশভোজ…

  • স্বপ্নের মধ্যে যতো

    এই স্নেহের চুম্বন নিনঠিক ললাটের উপরএখন আপনার কাছথেকে বিচ্ছেদে বলিএতটুকুই ফেরত দিন! আপনি ভুলোনা কভুযারাও এরুপ করেনমনে আমার দিনগুলিস্বপ্ন ছিল এক আশাযদি উড়েও যায় তবু! দিনে হউক বা রাতেএকটি দর্শনে অথবানয় কোন টিরোই এরমধ্যে যে কোন সময়েইহা চলে গেছে সাথে! যা দেখি বা মনে হয়মোরা বিভোর স্বপ্নেরমধ্যেই কতো মুগ্ধকরস্বপ্ন আরোও গর্জনেরমধ্যে যা দাঁড়িয়ে রয়! স্রেফ…

  • কতো স্নেহ ছিলো !

    অনেকের জীবন বদলে যায়স্বগতিতে চলতে থাকে নীরবনিস্তব্ধভাবে আনন্দ সুখ পায়! আমরা এখন যত বদলে গেছিপাড়া পড়শী ছোটো বড়োদেরআগে সবাই কতো খবর নিছি! স্নেহ আর মমতা অনেক ছিলোযাহা কালের বিবর্তনে মানুষেরএসব কিছুও লোপ পেয়ে গেল! সবাই আগের মতো যদি হতোঐকান্তিক সৌহার্দপূর্ণ ভাবেতেযথাযথ সুন্দর থাকতো কতো! জানতে ইচ্ছে করে যতো সবজিজ্ঞাসা করার মতোই সাহসসঞ্চার না করায় থাকেনি…

  • সে কতো একা

    আদর সোহাগের নাতনী দু’টিএকটি আছে আমাদের সাথেছোট নাতনীটি দীর্ঘদিন হলোবিদেশে চলে গেছে ওরা দুজনছিল সব সময়ের খেলার জুটি। উভয়েরই বয়স কমি বেশি হয়ছোটটি মোর এখন নেই দেশেপ্রতিদিন মোবাইলে কথা বলিকখনো একটু আধটু কয় আরযতো দৌড়াদৌড়িতে ব্যস্ত রয়। কথা বলার ফাঁকেই সে খোঁজেতার বড়ো আপুকে ওরা তখনমনের মতো কতো কথা বলতেথাকে কখনো ব্যস্ততায়ই কাটেপুতুলদের রং রুপ…

  • স্বাস্থ্য রক্ষায় হাসি

    মানুষ একে অন্যের সাথে মিশেভালো অবস্থায় আনন্দ উল্লাসআর ফুর্তিতে যখন তারা থাকেমনের কালিমা টা দুরিভূত হলেসাধারণত: প্রায়ই সকলে হাসে। আমাদের মনে যেই আনন্দ রয়কোন দু:খ বেদনা অন্তরে যখনপ্রকাশ পায়না আরো আবেগটাআছে সেটার একটা তাৎক্ষণিকবহিঃপ্রকাশ হাসির মাধ্যমে হয়। যখন কাউকে প্রায় হাসতে দেখিতখন বলা যায় যে সে কত ই যেভালো আছে যারা সবসময় হাসেতাদের শারীরিক আরো…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *