ব্লগ থেকে আয় করার উপায় (Ways to make money from blogs) 

এক যুগ আগেও লেখালেখি করে আয় করা ছিল কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

কিন্তু, বর্তমানে লেখালেখি করে আয় করা খুবই সহজ হয়ে গিয়েছে।

কারণ, এখন ঘরে বসে ব্লগিং করে আয় করা যায় খুব সহজেই।

আপনি চাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে লেখালেখি করে বিভিন্ন উপায়ে আয় করতে পারবেন।

আপনি যদি লেখালেখি করে অনলাইনের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে চান, তাহলে ব্লগিং হতে পারে আপনার জন্য সেরা অপশন।

কারণ, বর্তমানে ব্লগিং করে বিপুল পরিমাণ টাকা ইনকাম করছে মানুষ।

ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করতে চাইলে, ব্লগ সম্পর্কে knowledge থাকতে হবে।

আপনি যে বিষয়ে ব্লগিং করবেন, সেই বিষয়ে পুরোপুরি ধারণা রাখবেন।

নিচে ধাপে ধাপে ব্লগ থেকে কি ধরনের আয় হয় এবং ব্লগ থেকে আয় করার উপায় উল্লেখ করা হলো।

Google adsense থেকে টাকা ইনকাম :

ব্লগ থেকে টাকা ইনকামের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো Google adsense. 

আপনার ব্লগের লেখার মধ্যে advertisement দেওয়াকে Google adsense বলা হয়।

Google community ওয়েবসাইটে add display করে টাকা ইনকাম করার সুযোগ করে দিয়েছে।

এখন যদি জানতে চান, advertisements গুলো কি রকমের হতে পারে?

তাহলে শুনুন advertisements গুলো অনেক রকমের হতে পারে। যেমনঃ video advertisement, image advertisement and link advertisement.

যখন আপনার ব্লগ পড়তে এসে ট্রাফিক advertisement/বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে, তখন আপনার dashboard এ ডলার জমা হতে থাকবে।

আপনার ব্লগ সাইটে ১০০ ডলার জমা হওয়ার পর আপনার ব্যাংক একাউন্টে Google community 
টাকা পাঠিয়ে দিবে।

টাকা withdraw করার জন্য ব্লগ সাইটের dashboard এ ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত করতে হবে।

ব্লগ সাইট থেকে Google adsense এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার জন্য Google adsense approve আবদেন হয়।

Google adsense approved হলে ব্লগ থেকে adsense এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 
Google adsense থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য আপনার ব্লগ সাইটে কোয়ালিটি কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে।

ব্লগ সাইটে কোয়ালিটি কন্টেন্ট দিয়ে ভিজিটর বাড়াতে হবে।

আপনার সাইটে যত বেশি ট্রাফিক আনতে পারবেন, adsense এর মাধ্যমে তত বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

Sponsor  থেকে টাকা ইনকাম :

ব্লগ থেকে টাকা ইনকামের আরেকটি সহজ মাধ্যম হলো Sponsor. যখন আপনার ব্লগ সাইটে ট্রাফিক বাড়তে থাকবে, তখন sponsor এর মাধ্যমে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ব্লগ সাইটে বেশি ট্রাফিক আসলে বিভিন্ন কোম্পানি আপনার লেখার উপরে sponsor দিবে।

কোম্পানির ম্যানেজাররা আপনার সাথে যোগাযোগ করবে স্পনসর দেওয়ার জন্য।

তখন আপনি তাদের সাথে চুক্তি করে আপনার সাইটে তাদের কোম্পানি স্পনসর দিবেন।

Affiliate marketing  থেকে টাকা ইনকাম :

ব্লগ সাইট থেকে Affiliate marketing করে টাকা ইনকাম করা এখন অনেক সহজ।

ভাবছেন, Affiliate marketing কি? অনলাইনে অন্য কোম্পানির প্রডাক্ট সেল করে কমিশন নিয়ে ইনকাম করাকেই এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে।

যেমনঃ Amazon কোম্পানির প্রডাক্ট এর লিংক আপনার সাইটে প্রচার করে বিক্রি করা।

আপনি তাদের কোম্পানির প্রডাক্ট বিক্রি করতে পারলে তারা আপনাকে কমিশন দিবে৷

ওই কমিশন পেয়ে ইনকাম করাই মূলত এফিলিয়েট মার্কেটিং।

আপনি আপনার সাইটে তাদের প্রডাক্ট প্রচার প্রচারণা করে যত বেশি বিক্রি করতে পারবেন, তত বেশি ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

আশা করি এতোক্ষনে ব্লগ থেকে আয় করার উপায় জেনে গেছেন।

এখন নিচে দেওয়া ব্লগ থেকে কি ধরনের আয় হয় জেনে নিন।

আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে চান তবে লিঙ্ক টিতে ক্লিক করুন।

ব্লগ থেকে কি ধরনের আয় হয় (What is the income from blog?)

অনেকেই জানতে চেয়েছেন ব্লগ থেকে কি ধরনের আয় হয়?

শুনুন ব্লগ থেকে কি ধরনের আয় হয় সেটা সম্পুর্ণ ব্লগারের উপর নির্ভর করে।

কেননা, ব্লগের পিছনে আপনি যত বেশি সময় দিতে পারবেন, তত বেশি টাকা আয় করতে পারবেন।

আপনি ব্লগ সাইটে যত বেশি কোয়ালিটি কন্টেন্ট দিতে পারবেন, আপনার সাইটে তত বেশি ট্রাফিক আসবে।

বিশেষ করে, সাইটের ট্রাফিক এর উপর আপনার ইনকাম নির্ভর করে।

আপনি যদি বাহিরের দেশের ট্রাফিক টার্গেট করে কোয়ালিটি কন্টেন্ট তৈরি করেন, তাহলে অল্প ট্রাফিক দিয়েও মাসে ৪০০/৫০০ ডলার ইনকাম করতে পারবেন।

আর যদি বাংলাদেশি ট্রাফিক টার্গেট করে কন্টেন্ট তৈরি করেন, তাহলে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ হাজার ট্রাফিকে ৩০০ থেকে ৬০০ ডলার ইনকাম করতে পারবেন।

আগেই বলেছি ব্লগ থেকে ইনকাম করা নির্ভর করে ব্লগারের উপর।

ব্লগে যত বেশি এফোর্ট দেওয়া যায়, তত বেশি টাকা ইনকাম করা যায়।

আশা করি, ব্লগ থেকে কি ধরনের আয় হয় সেটা ইতিমধ্যেই জেনে গেছেন।

ব্লগিং শুরু করবেন কিভাবে?

ব্লগিং শুরু করার আগে প্রথমেই আপনাকে অনেকগুলো ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে।

প্রথমেই নিস অথবা ক্যাটাগোরি নির্বাচন করতে হবে। নিস সিলেক্ট করা গুরুত্বপূর্ণ।

এখন এই সেক্টরটি অনেক প্রতিযোগিতামূলক হয়ে গেছে। এজন্য  আপনাকে খুব ভেবে চিন্তে এমন কোন বিষয় নিয়ে লিখতে হবে যে সম্পর্কে আপনার অত্যন্ত ভালো ধারণা রয়েছে।

অবশ্যই চেষ্টা করবেন যে কোন নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের উপর লেখালেখি করতে।

এজন্য সেই বিষয়টির উপর আপনাকে কি-ওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে যেটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

এর পরপরই আপনার ওয়েবসাইট্টিকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে একটি আকর্ষণীয় ওয়েব ডিজাইন করতে হবে।

ব্যাস, এখান থেকেই শুরু করে দিন আপনার নতুন ওয়েবসাইটের অগ্রযাত্রা।

তারপর কন্টেন্ট লিখে আপনার ওয়েবসাইটের টেকনিকাল, অন-পেইজ এবং অফ-পেইজ এসইও বা লিঙ্ক বিল্ডিং এর কাজ করবেন।

ধীরে ধীরে ব্লগ সাইট টিতে ভিজিটর বাড়বে এবং ইনকাম শুরু হবে।

আমাদের শেষ কথাঃ

যে কোন কাজে ভালো করতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

পরিশ্রম ছাড়া সফলতা আশা করা বোকামি ছাড়া কিছুই না।

তাই ব্লগ থেকে টাকা ইনকামের জন্য, আপনাকে ধৈর্য ধরে কাজ করে যেতে হবে। তবেই সফলতা নিশ্চিত।

এতক্ষণ আমরা, ব্লগ কি? ব্লগ পোস্ট কি? ব্লগ থেকে আয় করার উপায়, ব্লগের মূল চালিকাশক্তি কি? এবং ব্লগ থেকে কি ধরনের আয় হয়, এসব টপিক নিয়ে আলোচনা করেছি।

আশা করি ব্লগ থেকে কি ধরনের আয় হয় এবং ব্লগ থেকে আয় করার উপায় জেনে গেছেন।

দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

যদি লিখাটি পড়ে আপনার বিন্দু পরিমানও উপকার করতে পারি তবেই আমাদের সার্থকতা।

অবশ্যই আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের জন্য আমরা অপেক্ষা করব।

তথ্যসূত্রঃ

https://www.wix.com/blog/how-to-start-a-blog

Similar Posts

  • একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট কি ?

    একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট, এটির মূলে, একটি অত্যাধুনিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যা ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে পণ্য বা পরিষেবা ক্রয় এবং বিক্রয়কে সহজ করে। এই ভার্চুয়াল মার্কেটপ্লেসগুলি পণ্য আবিষ্কার থেকে নিরাপদ অর্থ প্রদান প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত সমগ্র কেনা কাটার অভিজ্ঞতাকে স্ট্রীমলাইন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলি প্রায়শই একটি আকর্ষক এবং দক্ষ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা তৈরি করতে এআই-চালিত সুপারিশ…

  • Astra Theme

    সবচেয়ে জনপ্রিয় থিম, দ্রুততম, লাইটওয়েট এবং অত্যন্ত কাস্টমাইজযোগ্য ওয়ার্ডপ্রেস থিমAstra PRO প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত বৈশিষ্ট্য। প্রাক-নির্মিত ওয়েবসাইট আমাদের স্টার্টার টেমপ্লেটের লাইব্রেরি থেকে ওয়েবসাইট ডেমো ব্যবহারের জন্য পিক্সেল নিখুঁত প্রস্তুত ব্যবহার করে ওয়েবসাইট ডিজাইনের সময় হ্রাস করুন।  কোড ছাড়াই কাস্টমাইজ করুন। ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজারে বিভিন্ন বিকল্পের মাধ্যমে ডিজাইন পরিবর্তন করুন। কোন কোডিং জ্ঞান প্রয়োজন!  পৃষ্ঠা নির্মাতাদের জন্য তৈরি…

  • Upwork কিভাবে কাজ করব 2023 | Upwork এ কাজ করার নিয়ম

    যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং কাজ শুরু করছেন তাদের মধ্যে অনেক জানতে চেয়েছেন Upwork কিভাবে কাজ করব? তাদের প্রশ্নের সকল উত্তর আজকের এই আর্টিকেলে দিবো। নতুন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে কাজ শেখার পরে একজন ফ্রিল্যান্সের কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়া। অনেকে আছেন যারা ক্লায়েন্ট খুঁজে না পেয়ে কাজ ছেড়ে দিয়েছে। আপওয়ার্ক হলো এমন একটি…

  • কীভাবে ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করবেন :

    আপনি আপনার ডিজিটাল পণ্যগুলির জন্য স্টোরফ্রন্ট রাখবেন না, তবে আপনাকে একটি সীমিত জায়ও পরিচালনা করতে হবে না। তাহলে কেন Shopify বিক্রি? কারণ এটি অতি স্কেলযোগ্য এবং বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ। যদি আপনি এমন গতিতে ডিজিটাল পণ্যগুলি সরিয়ে নিয়ে থাকেন যা আপনার তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতার চেয়ে আপনার সাইট থেকে সরাসরি বিক্রয় করা প্রয়োজন Etsy মত ওয়েবসাইট এবং অ্যামাজন, তারপরে Shopify…

  • গুগল প্লে স্টোর থেকে আয় কিভাবে করবেন ? (step by step):

    নিচে দেওয়া স্টেপ গুলি ফলো করে আপনারা google play store থেকে apps এর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। ০১. সবচে আগেই আপনার ভাবতে  হবে, app এর বিষয় নিয়ে। মানে, কোন subject বা topic নিয়ে app তৈরি করবেন, সেটা ঠিক করতে হবে। ০২. এখন আপনার তৈরি করতে হবে একটি android application. এন্ড্রয়েড এপস তৈরি করার ফ্রি ওয়েবসাইট…

  • ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম ও ভিডিও তৈরি করার গাইডলাইন

    বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করেন এমন যে কেউ-ই জানেন ইউটিউব কী। যে কোনো ধরণের ভিডিও দেখার কথা বললেই প্রথমে যে ওয়েব সাইটটিরকথা মনে হয় তা হলো: ইউটিউব। ইন্টারনেট ব্যবহার কারীদের এক চতুর্থাংশ প্রতি সপ্তাহে ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে  ইউটিউব ভিডিও দেখেন। তবে ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানেন। তাই এই…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *