কিডনি সুস্থ রাখার উপায়

শরীরের অন্যতম একটি গুরুত্ব পূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে কিডনি।

এই অঙ্গটি ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব। এটি শরীরের তরল নিয়ন্ত্রণ করে,

এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত বর্জ্য ও পানি অপসারণ করে,

শরীরের রাসায়নিকের স্থিতিশীল ভারসাম্য বজায় রাখে।

এই অঙ্গটির কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হলে বা এটি অসুস্থ হলে,

তা শরীরে অনেক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

আর কিডনির রোগকে নীরব ঘাতকও বলা হয়।

কারণ কিডনির সমস্যা হলে তা প্রথম অবস্থাতে ধরা পড়ে না।

পরে সমস্যা অনেক বেশি হয়ে গেলে তখন ধরা পড়ে।

তাই আগে থেকেই কিডনি সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সবার।

এ জন্য জানুন কিডনি সুস্থ রাখতে সাত কার্যকরী উপায়—

১. হাইড্রেটেড থাকা

কিডনিকে সুস্থ রাখতে প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে –

শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা বা শরীরে পর্যাপ্ত তরল রাখা।

কারণ পানি আপনার কিডনিতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে সাহায্য করে,

এবং প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে বর্জ্য বের করে দেয়।

এর জন্য প্রতিদিন অন্তত দুই লিটাব বা চার গ্লাস পানি পান করা উচিত।

তবে এ পরিমাণটি জলবায়ু ও শরীরের অবস্থার ওপরে নির্ভর করে।

২. রক্ত চাপঃ

উচ্চ রক্ত চাপের কারণে আপনার কিডনির রোগ হতে পারে।

বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলে- স্টেরল,

ও কার্ডিও-ভাস-কুলার রোগ থেকেও কিডনির সমস্যা শুরু হতে পারে।

তাই আপনার উচ্চ রক্ত চাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য,

চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

৩. ব্যায়াম করাঃ

ব্যায়াম শরীরের জন্য অনেক গুরুত্ব পূর্ণ। ইহা আপনার শরীরের,

ওজন নিয়ন্ত্রণ করার পাশা পাশি রক্ত চাপ কমাতে,

এবং দীর্ঘ স্থায়ী কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তবে মনে রাখবেন—

অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে তা আবার কিডনির সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

আর ব্যায়ামের সময় অবশ্যই শরীরকে হাইড্রে-টেড রাখতে হবে।

৪. ব্যথা নাশক ঔষধ না খাওয়া, অতি মাত্রায় ব্যথা নাশক ঔষধ খাওয়ার,

কারণে তা কিডনির ক্ষতি করতে পারে। তাই দীর্ঘ মেয়াদি ব্যথা নাশক ঔষধ খাওয়ার,

বিষয়ে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

৫. নিয়ন্ত্রিত খাবারঃ

নিয়ন্ত্রিত খাবার গ্রহণ করা আমাদের সবার জন্যই অনেক গুরুত্ব পূর্ণ।

কারণ অনিয়ন্ত্রিত খাবার কিডনিসহ আপনার শরীরের,

বিভিন্ন অঙ্গের ওপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এর জন্য আপনি অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত খাবার, অতিরিক্ত দুগ্ধ জাত খাবার,

বেশি পরিমাণে লবণ ও চিনি খেলে তা কিডনির ক্ষতি করতে পারে।

৬. অ্যাল-কোহল ত্যাগঃ

অ্যাল-কোহল কিডনির অনেক ক্ষতি করে। এটির কারণে অনেকের কিডনি নষ্ট হয়ে,

যাওয়ারও ঘটনা ঘটে। তাই আপনার কিডনিকে,

সুস্থ রাখতে চাইলে অ্যাল-কোহল পরিহার করতে হবে।

৭. ধূমপান পরিহার করাঃ

আমরা অনেকেই জানি যে কিডনি হার্টের ক্ষতি করে।

কিন্তু এটি আমরা অনেকেই জানি না যে ইহা কিডনিরও অনেক ক্ষতি করে।

ধূমপান আমাদের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত প্রবাহকে ধীর করে দেয়।

আর রক্ত যখন কিডনিতে পৌঁছায়, তখন তাদের,

স্বাভা-বিক-ভাবে কাজ করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

এ কারণে কিডনি ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।

Similar Posts

  • গলায় ক্যান্সারঃ যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি

    যে কোনো ক্যান্সারই শরীরের জন্য অনেক মারাত্মক একটি রোগ। সে গুলোর মধ্যে গলায় ক্যান্সারও অন্যতম। আর এটি হচ্ছে— এক ধরনের টিউমার জাতীয় রোগ।এই ক্যান্সার গলার কোষ থেকে শুরু হয়ে থাকে। আর মারাত্মক এ রোগটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই, হয়ে থাকে মদ ও ধূমপান করার কারণে। তবে এর বাইরেও বেশ কিছু কারণে, গলায় ক্যান্সার হতে পারে। যেমন—…

  • স্ট্রোক হলে

    হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায়ও যেমন স্ট্রোক হতে পারে, তেমনই শরীরের কোনো অংশ ধীরে ধীরে দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া, মুখ একদিকে বাঁকিয়ে যাওয়া, মুখ থেকে খাবার ও পানি গড়িয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেমন-চিনতে না পারা অপ্রাসঙ্গিক বা আজেবাজে কথা বলা, অকারণে বিরক্ত হয়ে হইচই করা, একদম…

  • কী কী কারণ লিভার প্রতিস্থাপনকে নষ্ট করে দিতে পারে

    রুগির যে-সমস্যার জন্য লিভার প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন হয়, সেই সমস্যাটাই প্রতিস্থাপিত লিভারের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অপারেশনের আগেই যদি রুগি হেপাটাইটিস সি-র দ্বারা সংক্রামিত হয়ে থাকেব, তাহলে সেটাও প্রতিস্থাপিত লিভারকে নষ্ট করতে পারে। অন্যান্য কিছু সমস্যার মধ্যে রয়েছে লিভারের মধ্যে যাওয়া এবং লিভার থেকে বের হওয়া রক্তনালী বুজে যাওয়া অন্ত্রে পিত্ত নিয়ে যাওয়া নালী…

  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কী খাবেন, কী খাবেন না

    কোষ্ঠকাঠিন্য একটি বিরক্তিকর ও যন্ত্রণা দায়ক সমস্যা।  এক দিনে বা হঠাৎ করে কোষ্ঠ-কাঠিন্য হয় না।  অনেকের টয়লেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, কিন্তু পেট পরিষ্কার হয় না।  অস্বাস্থ্যকর এবং বাজে খাদ্যাভ্যাস, অপুষ্টিকর খাবার ইত্যাদির কারণে কোষ্ঠ কাঠিন্যর মতো অস্বস্তিকর সমস্যায় পড়ে থাকেন অনেকেই। কোষ্ঠকাঠিন্যটা কী?  এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো- এন্টারোলজী বিভাগের…

  • থ্যালাসেমিয়া কেন হয়

    বাবা ও মা দুজনই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।জেনেটিক কারণেও থ্যালাসেমিয়া হতে পারেমানবদেহে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।  প্রতি জোড়ার অর্ধেক মায়ের আর বাকি অর্ধেক বাবার থেকে আসে। ১৬নং ক্রোমোজোমে থাকে আলফা জিন আর ১১নং ক্রোমোজোমে থাকে বিটা জিন। আলফা ও বিটা জিনদ্বয় আলফা ও বিটা গ্লোবিন নামক প্রোটিন…

  • জলাতঙ্ক সম্পর্কে যা জানা জরুরি

    জলাতঙ্কঃ একে হাইড্রোফোবিয়া কিংবা পাগলা রোগও বলা হয়। আক্রান্ত রোগী পানি দেখে বা পানির কথা মনে পড়লে প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বলে এই রোগের নাম হয়েছে জলা তঙ্ক। এটি প্রাণি বাহিত র‌্যাবিস ভাইরাসঘটিত রোগ, রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর আক্রান্ত রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে এক জন এবং…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *