১০ বছর আগে থেকেই হার্ট অ্যাটাকের যে লক্ষণ দেখা দেয়

হার্ট অ্যাটাক হলো আকস্মিক মৃত্যুর অন্য- তম প্রধান কারণ। ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে পরিচিত হার্ট অ্যাটাক সতর্কতা ছাড়াই ঘটে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এন- জিনা পেক্টোরিস নামক একটি অবস্থা হার্ট অ্যাটাকের এক দশক আগ থেকেই দেখা দিতে পারে।

এনজাইনা পেক্টোরিস কি?

মায়ো ক্লিনিকের মতে, এনজিনা পেক্টোরিস হলো করোনারি ধমনী রোগের একটি উপ- সর্গ । প্রায়ই বুকে চাপ ধরা, ভারী হওয়া, বুকে আঁটসাঁট বা ব্যথা হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায় এ ক্ষেত্রে ।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য (এএইচএ) অনুসারে, ৪ ধরনের এনজাইনা পেক্টোরিস আছে । যথা- স্থিতিশীল এন- জাইনা , অস্থির এনজিনা, মাইক্রোভাস- কুলার এনজাইনা ও ভাসোস্পাস্টিক বা বৈকল্পিক এনজিনা।

গবেষণা কী বলছে?

এএইচএ জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্র- তিক গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ১০ বছর আগে এনজিনা পেক্টোরিস হতে পারে।

‘এনআইএইচআর অ্যাপ্লাইড রিসার্চ কোলা- বরেশন ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস’ ২০০২-২০১৮ সালের মধ্যে জিপি, হাসপাতাল ও মৃত্যুর ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষণাটি করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, অস্বাভাবিক বুকে ব্যথাসহ রোগীদের প্রথম বছরে হার্ট অ্যাটা- কের ঝুঁকি ১৫ শতাংশ বেশি ছিল।গবেষণায় আরও পাওয়া গেছে, কার্ডিওভাসকুলার রোগের জন্য শীর্ষ ঝুঁকিতে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে লিপিড-হ্রাসকারী ঔষধ শুধু ৩০ শতাংশ রোগীকে দেওয়া হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, যাদের অব্যক্ত বুকে ব্যথা ও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ প্রোফাইল তাদের আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত, যাতে ভবি- ষ্যতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো যায়।

গবেষণা প্রকাশের সময়, প্রফেসর কেলভিন জর্ডান, প্রজেক্ট লিড ও কিল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের বায়োস্ট্যাটিস্টিকসের অধ্যাপক বলেন, বুকে ব্যথার অনেক সম্ভাব্য কারণ আছে। তবে বেশিরভাগ রোগীই বুকে ব্যথার কারণ নির্ণয় করতে দেরি করে ফেলেন।

এনআইএইচআর লিসেস্টার বায়োমেডি- কাল রিসার্চ সেন্টারের ডিরেক্টর প্রফেসর মেলানি ডেভিসের মতে, এই গবেষণা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য একটি সম্ভাব্য নতুন পথ নির্দেশ করে।

এএইচএ’র তথ্য অনুযায়ী হার্ট অ্যাটাকের কিছু সতর্কতা লক্ষণের মধ্যে আছে-

১. বুকে অস্বস্তি;

২. শরীরের উপরের অংশে অস্বস্তি;

৩. নিঃশ্বাসের দুর্বলতা;

৪. বমি বমি ভাব;

৫. ঠান্ডা ঘাম;

৬. মাথা ঘোরা বা হালকা মাথাব্যথা;

৭. দুশ্চিন্তা বা ক্লান্তি;

৮. কাশি;

৯. শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি।

হার্ট অ্যাটাক নাকি গ্যাস্টিকের সমস্যা পার্থক্য করবেন যেভাবে?

হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং বলেছে, বুকের হাড় থেকে শুরু হওয়া বুকের ব্যথা গ্যাস্ট্রিকের লক্ষণ হতে পারে।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, বেশিরভাগ হার্ট অ্যাটাকের মধ্যে বুকের মাঝ খানে অস্বস্তি থাকে, যা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়।

কখনো কখনো এই ব্যথা চলে যায় আবার ফেরতও আসতে পারে । এ ক্ষেত্রে বুকে ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে চাপ ও অস্বস্তি হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক নাকি গ্যাস্টিকের সমস্যার কারণে বুকে অস্বস্তি হওয়ার বিষয়টি আলাদা করা অনেকের জন্যই কঠিন হতে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কিত অন্যান্য উপসর্গগুলোতে মনোযোগ দিতে হবে।

বুক জ্বালা পোড়ার সঙ্গে প্রায়ই বুক জ্বালা পোড়া, মুখে তিক্ত বা অম্লীয় স্বাদ অথবা শুয়ে থাকা বা বাঁকানোর সময় ব্যথা আরও খারাপ হয়।

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথার সঙ্গে শ্বাস কষ্টের সমস্যা, চোয়াল, ঘাড়ে, পিঠে, বাহুতে বা কাঁধে ব্যথা বা অস্বস্তিসহ বুকের ব্যথার লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।

যারা হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন বিশেষজ্ঞরা তাদেরকে পরামর্শ দেন নিয়মিত হার্টের পরীক্ষা ও স্ক্রিনিংয়ের জন্য।

Similar Posts

  • থাইরয়েড

    থাইরয়েড হল একটি প্রজাপতির আকৃতির গ্রন্থি, যা ঘাড়ের শ্বাস নালীর (বায়ু প্রবাহ) সামনে থাকে। থাইরয়েডের কাজ হল হরমোন সিক্রেট করা যা, শরীরের কাজকে পরিবর্তন করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরক্সিন (T4) এবং Triiodothyronine (T3) হল থাইরয়েড হরমোন। এই হরমোন গুলি থাইরয়েড গ্রন্থি দ্বারাসরা সরি, রক্তে সিক্রেটেড হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ভ্রমণ করে। এই হরমোন গুলি…

  • খাদ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ

    খাবার নষ্ট হওয়ার কারণ আর তা খেয়ে অসুস্থ হওয়ার বিভিন্ন লক্ষণ রয়েছে। খাদ্যবাহী রোগ বা ‘ফুড পয়জনিং’ ঘটে মূলত সংক্রমিত অথবা নষ্ট হওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণের পর তা হজম করতে না পারার কারণে। খাবার রান্না কিংবা প্রক্রিয়াজাত করার সময় কিংবা সংরক্ষণের ভুল থেকে তাতে ভাই- রাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান সংক্রমণ ঘটায়। খাবার…

  • কিডনির অসুখ

    কিডনি’র প্রধান কাজ রক্ত পরিশোধন করা। কিডনি’র অসুখে চোখের নিচে, পায়ের গোড়ালিতে পানি জমে। কারণ ছাড়াই সব সময় ক্লান্তি ভাব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় কিডনি ইন্সটিটিউট এবং, হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজল নাসের বলেছেন, একদম প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনির অসুখের তেমন কোন লক্ষণ থাকে না। কারণ শরীর কিডনি’র পরিবর্তনের সাথে শুরুতে মানিয়ে নিতে…

  • লিভার ফেইলিউর রোধে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণ জরুরি

    লিভার ফেইলিউরের ভয়াবহতা, চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে লিভারের কার্য- ক্ষমতা যখন কমে যায় অথবাশরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী যখনই ইহা কাজ করতে পারে না তখনই ইহাকে লিভার ফেইলিউর বলা হয়।  একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়ঃ  এক. আকস্মিক ফেইলিউর,  দুই. দীর্ঘমেয়াদি ফেইলিউর,  তিন. দীর্ঘমেয়াদি আকস্মিক ফেইলিউর। আর ভয়াবহের মধ্যে যদি আমরা ভাগ করি তাহলে…

  • স্ট্রোক হলে

    হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায়ও যেমন স্ট্রোক হতে পারে, তেমনই শরীরের কোনো অংশ ধীরে ধীরে দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া, মুখ একদিকে বাঁকিয়ে যাওয়া, মুখ থেকে খাবার ও পানি গড়িয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেমন-চিনতে না পারা অপ্রাসঙ্গিক বা আজেবাজে কথা বলা, অকারণে বিরক্ত হয়ে হইচই করা, একদম…

  • ইতিহাসের সাক্ষী: পোলিওর টিকা নিয়ে আমেরিকায় যেভাবে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল কয়েকশ শিশু

    পোলিও মহামারির টিকা আবিষ্কার ছিল একটা যুগান্তকারী ঘটনা। উদ্ভাবক জোনাস স্যল্ক এই টিকার সফল পরীক্ষা চালান। পোলিও মহামারি ঠেকাতে পঞ্চাশের দশকে একটি কোম্পানির তৈরি ভুল প্রতিষেধক টিকা নিয়ে সারা জীবনের মত পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল আমেরিকার কয়েকশ শিশু। ভ্যাকসিন তৈরিতে কীভাবে ঘটেছিল মারাত্মক ওই ভুল? আমেরিকায় ১৯৫০এর দশকে শিশুদের মধ্যে সব চেয়ে সংক্রামক একটি রোগ হিসাবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *