গর্ভ ধারণে সমস্যা কেন হচ্ছে

গর্ভ ধারণে সমস্যার নানা কারণ রয়েছে।স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের সমস্যা হতে পারে,

হতে পারে যে কোন এক জনের। আমরা জেনে নেই,

কি কি কারণ হতে পারে গর্ভ ধারণে 
সমস্যা —
 
পুরুষের ক্ষেত্রে  কারণ সমূহঃ

০১) শুক্রাণু কম উৎপন্ন হলে,

০২) শুক্রাণু পুরো মাত্রায় নির্দিষ্ট বেগে গতিশীল না হলে,

০৩)  স্পার্ম বা শুক্রাণুর আকৃতি স্বাভাবিক না হলে,

০৪)  যৌন বাহিত রোগের কারণে স্পার্ম বা শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতি-শীলতা কমে গেলে।

০৫)  বয়স জনিত কারনে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে গেলে।

 ০৬) কিছু বিশেষ ঔষধ সেবন এবং রাসা- য়নিক,

 দ্রব্যের প্রভাবে অন্ড কোষের কর্ম ক্ষমতা কমে গেলে। অন্ড কোষে আঘাত লাগলে।

০৭)  রেডিয়েশন বা বিকিরণের জন্যেও শুক্রাণুর উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেলে।

০৮)  পিটুই-টারী গ্রন্থির কোন সমস্যা হলে।

০৯)  থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য হলে।

১০)  বহুমূত্র রোগ বা উচ্চ-রক্ত-চাপ থাকলে।

১১)  অন্ড কোষের পুং হরমোন তৈরীর কোষ
 লেডিগ সেল, 

এবং শুক্রাণু তৈরীর কোষ সারটোলি সেলের ত্রুটি থাকলে।

১২)  কোন সংক্রমণ বা আঘাতের ফলে শুক্রাণু বের হবার পথ বন্ধ হয়ে গেলে।

১৩)  উশৃঙ্খল জীবন যাপন,যেমন- ধূমপান,  মদ্য পান করলে।

১৪)  পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব হলে।

১৫)  গরমে এক নাগাড়ে কাজ করলে, টাইট আন্ডার ওয়্যার পরলে।

১৬)  মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা করলে।

১৭) নিয়মিত বিষন্নতার ঔষধ সেবন করলে।

১৮) অতিরিক্ত ওজন হলে।
 
 নারীর ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের কারণ সমূহঃ
 
০১)  ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের না হলে বা বের হলেও, তাদের আকৃতি স্বাভাবিক না হলে।

০২)  ডিম্বাণু নিঃসরণের আগে ও পরে কিছু কিছু,

হরমোন নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী নিঃসৃত না হলে।

০৩)  ডিম্ব-নালীর গঠনে সমস্যা থাকলে।

০৪)  জরায়ুর মধ্যের আস্তরণ জরায়ুর ভিতরের অংশ ছেড়ে ডিম্ব-নালী, 

ডিম্বা-শয় বা জরায়ুর পিছন দিকে ছড়িয়ে গেলে।

০৫)  যৌনাঙ্গে যক্ষা হলে।

০৬)  জরায়ুতে টিউমার হলে।

০৭)  জন্ম-গত-ভাবে জরায়ুতে ত্রুটি থাকলে।

০৮)  অকালে রজঃ নিবৃত্তি বা মেনোপজ হলে।

০৯)  যোনির মুখ পথে সমস্যা থাকলে।

১০)  ডায়াবেটিস বা বহু মূত্র রোগ থাকলে।

১১)  পিটুই-টারী গ্রন্থির কোন সমস্যা হলে।

১২)  থাই-রয়েড হরমোনের তারতম্য হলে।

১৩)  উচ্চ-রক্ত-চাপ থাকলে।

১৪)  কোন সংক্রমণ বা আঘাতের ফলে
 শুক্রাণু বের হবার পথ বন্ধ হয়ে গেলে।

১৫)  উশৃঙ্খল জীবন যাপন, ধূম পান,  মদ্য পান করলে।

১৬)  পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব হলে।

১৭)  নিয়মিত বিষন্ন-তার ঔষধ সেবন করলে।

১৮)  অতিরিক্ত ওজন হলে
 
যৌথ কারণঃ

০১)  সঠিক পদ্ধতিতে সহবাস এবং উর্বর সময়ে সহবাস করার জ্ঞানের অভাব।

০২)  মারাত্মক পুষ্টি-হীণ-তার কারণে অনেক সময় গর্ভ সঞ্চার হয় না।

বন্ধ্যাত্বের কারণ গুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, 

৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্ত্রী, ৩৫ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বামী এবং ১০-২০ শতাংশ ক্ষেত্রে, 

স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ত্রুটির জন্য গর্ভ ধারণ হয় না।

বাকি ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে অনুর্বরতার কোনো সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

যদিও আমাদের দেশে এখনো গর্ভ ধারণ না করার জন্য, 

প্রথমেই মেয়েদের দায়ি করা হয়। কিন্তু গর্ভ ধারণ না করার জন্য, 

শুধু মাত্র সব সময় নারীদের সমস্যা নয়
নারী পুরুষ,

 উভয়ের সমস্যাই বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে।
 

Similar Posts

  • পোলিও কি

    ভূমিকা: পোলিও একটি ভাইরাসজনিত রোগ। বাংলাদেশ পোলিও রোগ নির্মূলের জন্য ১৯৯৫ সাল থেকে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে জাতীয় টিকা দিবস পালন করে আসছে। এই সফলতার ধারাবাহিকতায় ২৭ মার্চ ২০১৪ তারিখে বাংলাদেশকে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’ পোলিওমুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার ও জাতীয় টিকা দিবস সফলভাবে পালন করার ফলে ২২ নভেম্বর ২০০৬ সালেরপর থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশ…

  • ইউরিক এসিড কি, কেনো হয়, করণীয়

    উচ্চমাত্রার ইউরিক অ্যাসিডের কারণে গেঁটে বাত বা গিরায় গিরায় ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি অকেজো হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের প্রতিদিনের খাবারের মধ্যে কিছু আছে যে গুলোতে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি । আবার কিছু পুষ্টিকর খাবার আছে যে গুলো ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে ঔষধের মত কাজ করে। বেশি পরিমাণে প্রোটিন বা আমিষ খেলে অথবা অ্যালকোহল…

  • মাংসপেশিতে টান পড়লে কী করবেন

    মাংসপেশিতে টান পড়তে পারে নানা কারণে। মাংসপেশিতে টান পড়া বা শরীরের কোন অংশ মচকানো বেশ সাধারণ একটি সমস্যা। যাকে বিশেষজ্ঞের ভাষায় মাসল পুল, মাসল সোরনেস, স্ট্রেইন, স্প্রেইন, ক্র্যাম্প, স্প্যাজম ইত্যাদি বলা হয়ে থাকে। মাসল পুল কেন হয়, কাদের হয়:মাংসপেশিতে অতিরিক্ত টান খেলে বা টিস্যু ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে এমনটা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. রেজওয়ানা…

  • জলাতঙ্ক সম্পর্কে যা জানা জরুরি

    জলাতঙ্কঃ একে হাইড্রোফোবিয়া কিংবা পাগলা রোগও বলা হয়। আক্রান্ত রোগী পানি দেখে বা পানির কথা মনে পড়লে প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বলে এই রোগের নাম হয়েছে জলা তঙ্ক। এটি প্রাণি বাহিত র‌্যাবিস ভাইরাসঘটিত রোগ, রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর আক্রান্ত রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে এক জন এবং…

  • প্লেগ রোগ কি

    প্লেগ রোগ একটি প্রচন্ড ছোঁয়াচে ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ যেটা মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্য পায়ী প্রাণীদের আক্রমণ করে। মধ্য যুগে ইউরোপে এক সময় এই ব্যাধির জন্য হাজার হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল। এই মড়ক কালো মৃত্যু নামে পরিচিত। বর্তমানে, মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে এক ভাবে মানুষের প্লেগ হতে থাকে, কিন্তু ইহা আফ্রিকা এবং এশিয়ার দূরবর্তী ভাগে সব থেকে…

  • কিডনি সুস্থ রাখার উপায়

    শরীরের অন্যতম একটি গুরুত্ব পূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে কিডনি। এই অঙ্গটি ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব। এটি শরীরের তরল নিয়ন্ত্রণ করে, এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত বর্জ্য ও পানি অপসারণ করে, শরীরের রাসায়নিকের স্থিতিশীল ভারসাম্য বজায় রাখে। এই অঙ্গটির কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হলে বা এটি অসুস্থ হলে, তা শরীরে অনেক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। আর কিডনির রোগকে নীরব…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *