ইউরিক এসিড কি, কেনো হয়, করণীয়

উচ্চমাত্রার ইউরিক অ্যাসিডের কারণে গেঁটে বাত বা গিরায় গিরায় ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি অকেজো হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের প্রতিদিনের খাবারের মধ্যে কিছু আছে যে গুলোতে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি । আবার কিছু পুষ্টিকর খাবার আছে যে গুলো ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে ঔষধের মত কাজ করে।

বেশি পরিমাণে প্রোটিন বা আমিষ খেলে অথবা অ্যালকোহল জাতীয় খাবার বেশি খেলে দেহে পিউরিন নামক নন এসেন- সিয়াল এমাইনো এসিড তৈরি হয়। এই পিউরিন থেকেই ইউরিক এসিড তৈরি হয়। এই ইউরিক এসিড প্রথমে রক্তে চলে যায়। সেখান থেকে কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সঙ্গে দেহ থেকে বের হয়ে যায়।

রক্তে যদি ইউরিক এসিডের মাত্রা স্বাভা- বিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায় এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপারইউরিসেমিয়া।

ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়াটাকে মেটাব- লিক সিনড্রোমের অংশ বলা হয়। তাই উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল ট্রাই- গ্লিসারাইড এবং ডায়াবেটিস থাকলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। তার উপরে যদি নিকট আত্মীয়দের কারও এই সমস্যা বা কিডনি স্টোন, গাউটের সমস্যা থাকে, তাহলে সেই রোগীর ইউরিক অ্যাসিড জনিত সমস্যা অধিক মাত্রায় হতে দেখা যায়।

ইউরিক অ্যাসিড কন্ট্রোলে আনে ৫ ফল, ঔষধও হয়তো খেতে হবে নাঃ

Fruits For Uric Acid: ইউরিক অ্যাসিড কমাতে ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে এমন অনেক ফল রয়েছে । এতে পিউরিনের পরিমাণ কম থাকে এবং এ গুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো বলে প্রমাণিত হয়।

কিছু ফল ইউরিক অ্যাসিড কমায়

Uric Acid Diet: সুস্থ জীবন যাপনের জন্য শরীরকে রোগমুক্ত রাখা প্রয়োজন। ইউরিক অ্যাসিডের বৃদ্ধি এমন একটি সমস্যা যাতে শরীর অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড শোষণ করতে পারে না এবং এটি স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। শরীরে পিউরিনের পরিমাণ বেশি হলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও বেড়ে যায়।

একই সময়ে, জয়েন্ট গুলিতে ইউরিক অ্যাসিডের স্ফটিক বা ক্রিস্টাল  জমা হয়, যার ফলে হাঁটু ও হাত এবং পায়ের আঙ্গুল গুলিতে ব্যথা হয়। এখানে এমন কিছু ফলের কথা বলা হচ্ছে যা রক্তে ইউরিক অ্যাসিড দ্রবীভূত করতে সাহায্য করবে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ইউরিক বের করে দিতেও প্রভাব ফেলবে। 

ইউরিক এসিড কমায় এই ফলঃ

চেরি ঃ

যে অ্যান্টি-অক্সি-ডেন্ট-গুলি চেরিকে তাদের উজ্জ্বল লাল রঙ দেয় তা শরীরের প্রদাহ কমাতে কার্যকর । ইউরিক অ্যাসিড কমাতে চেরি খাওয়া যেতে পারে।

এ গুলিকে সাধারণ ভাবে খাওয়া যেতে পারে বা এগুলি স্মুদি এবং শেক তৈরি করে খাওয়া যায়। 

কিউইঃ
 
কিউই খেলে স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার পাওয়া যায়, এটি শুধু ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, শরীরকে বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত করে। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ফোলেট এবং পটাশিয়ামও ভালো পরিমাণে পাওয়া যায়।

এটি একটি দামি ফলও। আপনি যদি ইহাকে আপনার খাদ্যের অংশ করে তোলেন তবে আপনার স্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব স্পষ্ট- ভাবে দৃশ্যমান হবে। 

কলাঃ

পিউরিন বাড়লে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণও বেড়ে যায় । কলা এমন একটি ফল যা শরীরে পিউরিনের পরিমাণ কমাতে ভালো প্রভাব দেখায়।

গেঁটে বাত, বিশেষ করে ইউরিক অ্যাসিডে আক্রান্তদের জন্য কলা  উপকারী প্রমাণিত হয়। 

আপেলঃ
 
ইউরিক অ্যাসিড থেকে মুক্তি পেতে ফাইবার সমৃদ্ধ আপেল খাওয়া যেতে পারে। ফাইবার ইউরিক অ্যাসিড কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ ছাড়া অ্যাপেল ভিনেগারকেও ডায়েটের অংশ করা যেতে পারে। আপেল প্লেইন খেতে পারেন বা এক গ্লাস জলে এক চামচ আপেল ভিনেগার মিশিয়ে পান করতে পারেন। 

কমলাঃ
 
বেশিরভাগ সাইট্রাস ফল ইউরিক অ্যাসিড কমাতে কার্যকর প্রমাণিত, কমলাও সেই ফলগুলির মধ্যে একটি। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সহায়ক।

এর প্রভাব ইউরিক অ্যাসিড কমাতেও দেখা যায়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কমলা খাওয়ার পাশাপাশি এর জুসকেও ডায়েটের অংশ করতে পারেন। 

Disclaimer: এই বিষয়বস্তু শুধুমাত্র পরামর্শ সহ সাধারণ তথ্য প্রদান করে। ইহা কোনো ভাবেই যোগ্য চিকিৎসা মতামতের বিকল্প নয়।

আরও বিস্তারিত জানার জন্য সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞ বা আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

Similar Posts

  • বিষক্রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসায় করণীয়

    ডা. সজল আশফাক ১০:৪৪, ০৭ আগস্ট ২০১৮ ইমার্জেন্সি স্কোয়াডের ব্যবস্থা না থাকলে আপনি নিজেই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। কেউ বিষপান করলে কিংবা বিষক্রিয়া ঘটলে প্রথমেই উচিত তাকে ধারে কাছের হাসপাতালে পাঠানো । তবে তার আগে জানতে হবে, রোগী বিষ বলে যা খেয়েছে তা আসলে কী? সে বমি করেছে কি না? তার বমির সঙ্গে পাতলা…

  • দাঁতে গর্ত হলে

    দাঁতে গর্ত এবং মাঝে মধ্যেই ব্যথা হলে ;দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। ফেলে রাখলেই ছড়িয়ে যায় দাঁতে সংক্রমণ। যা প্রাণ সংশয়ও ডেকে আনতে পারে। এমনিতেই দীর্ঘ দিন ধরে দাঁতের সমস্যা ফেলে রাখলে অনেক বিপত্তি।  তাই যদি ডাক্তার বলেন দাঁত তোলা কিংবা রুট ক্যানাল (Root Canal Treatment),করা ছাড়া কোনও উপায় নেই তাহলে দেরি করা মানে জেনে বুঝে বিপদ ডেকে…

  • জেনে নিন হেপাটাইটিস রোগের ৫টি লক্ষণ

    হেপাটাইটিস হলো লিভারের একটি প্রদাহ। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাই- টিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। হেপাটাইটিসের ভাইরাস প্রাথমিক অবস্থায় শরীরে কোনো উপসর্গ প্রকাশ না করলেও ধীরে ধীরে মারাত্মক হয়ে ওঠে। যদিও এই রোগ ছোঁয়াচে নয়। হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্তের ফলে লিভারের কার্য ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। প্রতি বছর লিভারের এই…

  • যে কারণে দাঁতের ক্ষতি হয়

    এমন সুন্দর হাসির জন্য দাঁতের যত্ন নিতে হবে। অনেকেই হয়তো জানি না, প্রতি দিনের কী কী ভুলের কারণে, মূল্যবান দাঁত গুলো অকালে হারিয়ে ফেলছি। দাঁতের ক্ষতি প্রতিরোধের সহজ নিয়ম গুলো না মানার কারণে একটি দাঁতকে, চিকিৎসা করে বাঁচাতে কয়েক হাজার টাকা খরচ করি। দাঁতের যত্নে বিশেষ কয়েকটি ভুল সংশোধন করে , সময় মতো সঠিক ভাবে…

  • অস্টিয়ো-পোরো-সিসে ভুগছেন

    বয়স বাড়লে বা অন্যান্য শারীরিক কারণে হাড়ের ক্যালশিয়াম-সহ অন্যান্য উপাদান, কমে গেলে হাড় ক্ষয়ে যায়, ফলে সামান্য চোট বা আঘাতে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ‘অস্টি-য়োপো-রোসিস’ বশে আসবে মাত্র ২৫ মিনিটে।  বয়স বাড়লে হাড়ে ঘুণ ধরবেই, যদি না আগে থেকে তা প্রতিরোধ করা হয়। প্রতি দিন ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত, ভিটামিন ডি হাড়ের এই ঘুণ…

  • রাতে পা কামড়ানোর কারণ ও প্রতিকার

    সারারাত পা ‘কামড়ায়’। ফলে ঘুম হয় না ঠিক মতো। এ রকম হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। রাতে পায়ের ‘কাফ’ বা পেছনের পেশিতে এবং পায়ের পাতায় প্রচণ্ড ব্যথায় নির্ঘুম রাত কাটান কিছু মানুষ। সারাদিন কোনো ব্যথা নেই, রাতে হলেই এই ব্যথা হানা দেয়। মাঝে মধ্যে ব্যথা উরুতেও উঠে আসে। কখনও ব্যথার তীব্রতা এতই বেড়ে যায়…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *