প্রশ্ন: চিকেন পক্স হলে কীভাবে বোঝা যাবে
উত্তর: ক্লিনিক্যালি দুই-একটি র্যাশ না বের হওয়া পর্যন্ত সাধারণভাবে দেখে বোঝা যায় না। ওই র্যাশের রস সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সব সময় তা করার দরকার হয় না। প্রাথমিকভাবে র্যাশের প্রকৃতি ও ধরন দেখেই রোগ নির্ণয় করা হয়।
প্রশ্ন: এর চিকিৎসা কী ভাবে করা হয়?
উত্তর: ইহা কোনো জটিল রোগ নয় । তবে অ্যান্টি ভাইরাল ঔষধ আছে । র্যাশ বের হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রয়োগ করতে পারলে শরীরে অনেক কম র্যাশ বের হয় বা জ্বালা, যন্ত্রণা থেকে উপশম পাওয়া যায়। ঝুঁকিও কম থাকে।
কিন্তু গর্ভবতী মা, সদ্য- জাত বা ইমিউনো কম্প্রোমাইজড ব্যক্তিরা আক্রান্ত হলে অবশ্যই চিকিৎসা করাতে হয়। তা না হলে, সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে । এছাড়া, উপসর্গ দেখে চিকিৎসা করা হয় । যেমন, জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল বা বেশি চুলকানি হলে তা কমানোর জন্যেও ঔষধ দেওয়া হয় । এর সঙ্গে শরীরের দুর্বলতা কাটাতে ভিটামিন ঔষধ দেওয়া হয়। প্রোটিন যুক্ত খাবার খেতে বলা হয়। প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে বলা হয়।
প্রশ্ন: রোগীর পরিচর্যা কেমন ভাবে করা উচিত?
উত্তর: রোগীকে ঠান্ডা লাগতে দেওয়া যাবে না। সহজ পাচ্য খাবার দিতে হবে । বিশেষ করে উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার বেশি করে খেতে দিতে হবে । যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য কারও মধ্যে রোগটি না ছড়িয়ে পরে, সেভাবে ঘরের মধ্যে রাখতে হবে । র্যাশের খোসা না-ওঠা পর্যন্ত ঘরের মধ্যেই থাকতে হবে। বেশি করে জল পান করতে হবে । নিয়মিত অল্প গরম জলে হালকা ভাবে শরীর মোছাতে হবে, যাতে ফোস্কা না গলে যায় । তবে শরীরে তেল দেওয়া যাবে না।
প্রশ্ন: এ রোগটি প্রতিরোধের উপায় কী?
উত্তর: আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকাই একমাত্র উপায়। তাই কেউ আক্রান্ত হলে তাকে বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু অনেক সময়েই দেখা যায় একটি এলাকাই এই রোগটি বেশি ছড়াচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আগে থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টি ভাইরাল ঔষধ খাওয়া যেতে পারে।
প্রশ্ন: এই রোগ প্রতিরোধে টিকা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ আছে । যাঁরা চিকেন পক্সে আক্রান্ত হননি, তাদের টিকা দেওয়া যেতে পারে । ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের এই টিকা দেওয়া হয় । তবে, বেশি বয়সের ব্যক্তিরাও এই টিকা নিতে পারেন।
প্রশ্ন: এই রোগে আক্রান্ত হলে দেখা যায় খাবারের ব্যাপারে নানা বিধিনিষেধ মানার প্রথা রয়েছে। ইহা কতটা বিজ্ঞানসম্মত?
উত্তর: ইহা বিজ্ঞানসম্মত তো নয়ই, বরং অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর আর বিপজ্জনক । পরিস্কার করে বললে ইহা এক ধরনের কুসংস্কার। এই সময় রোগীর শরীরে দুর্বলতা তৈরি হয় । তাই রোগীকে উচ্চ প্রাণীজ প্রোটিন সম্বৃদ্ধ খাবার দেওয়া উচিত । বিশেষ করে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি প্রাণীজ প্রোটিন জাতীয় খাবার দিতে হয় । তবে অবশ্যই তা সহজপাচ্য হতে হবে।
প্রশ্ন: কারও এক বার চিকেন পক্স হয়ে গেলে তার কি ফের ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে?
উত্তর: না। কারণ, যার এক বার চিকেন পক্স হয়েছে, তার শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে যায় । তাই পুনরায় ওই রোগে হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
প্রশ্ন: টানা বৃষ্টি এই রোগে কোনো প্রভাব পড়তে পারে কী?
উত্তর: না। ইহা ভাইরাস ঘটিত রোগ। তাই ইহা বৃষ্টিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।