বিষক্রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসায় করণীয়

ডা. সজল আশফাক

১০:৪৪, ০৭ আগস্ট ২০১৮

ইমার্জেন্সি স্কোয়াডের ব্যবস্থা না থাকলে আপনি নিজেই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

কেউ বিষপান করলে কিংবা বিষক্রিয়া ঘটলে প্রথমেই উচিত তাকে ধারে কাছের হাসপাতালে পাঠানো । তবে তার আগে জানতে হবে, রোগী বিষ বলে যা খেয়েছে তা আসলে কী? সে বমি করেছে কি না? তার বমির সঙ্গে পাতলা পায়খানা হয়েছে কি না?
মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম কিংবা তন্দ্রাভাব রয়েছে কি না? শ্বাসকষ্ট বা খিঁচুনির লক্ষণ রয়েছে কি না? রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস কিংবা বমিতে কোনো রাসায়নিক পদার্থের গন্ধ রয়েছে কি না? তার জ্ঞান রয়েছে কি না?
এসব দ্রুত পরীক্ষা করার পর যা করণীয়, সচেতন রোগীর ক্ষেত্রেঃ

রোগীর যদি জ্ঞান থাকে এবং খিঁচুনি না থাকে, তাহলে তার বিষকে পাতলা করার জন্য তাকে এক গ্লাস পানি বা দুধ পান করাতে হবে। যদি এতে তার বমি বমি ভাব আসে, তাহলে পান করানো বন্ধ করে দিতে হবে।

বিষ বলে সে যা খেয়েছে বা পান করেছে, তার মোড়ক বা পাত্রটি শনাক্তকরণের জন্য সংগ্রহ করতে হবে। যদি রোগী বমি করে থাকে, তাহলে তা পরীক্ষা করার জন্য সংগ্রহ করতে হবে।

এরই মধ্যে কাছের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ফোন করে জানতে হবে যে আপনি সেখানে একজন বিষাক্রান্ত রোগী নিয়ে যাচ্ছেন।

রোগী যদি এরই মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়ে, তাহলে তার শ্বাসনালি খোলা রাখতে হবে। প্রয়োজনে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ফোন করুন অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর জন্য কিংবা রোগীকেই যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে পাঠান।

বি. দ্র.—অনেকে বিষ খাওয়া রোগীকে বমি করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রোগী যদি পেট্রল, কেরোসিন, এসিড বা ক্ষার জাতীয় কিছু খেয়ে থাকে, তাহলে রোগীকে বমি করানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। ঘুমের বড়ি, এসপিরিন, কুইনাইন প্রভৃতি ঔষধ অতিরিক্ত খেলে তাকে গলায় আঙুল বা চামচের ভোঁতা প্রান্ত দিয়ে বমি করানো যেতে পারে।

তবে বমি করানোর চেষ্টা রোগীর জন্য অনেক সময় বিপদ ডেকে আনে। এতে নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বমি করানোর ভালো পন্থা হলো এক গ্লাস পানি বা মিষ্টি তরল পদার্থ এক চা চামচ এপসম লবণ মিশিয়ে পান করানো। তবে রোগী অচেতন থাকলে কিছুতেই বমি করানো যাবে না। রোগীকে ভিনেগার কিংবা লেবুর রস পান করানো যাবে না।

অচেতন রোগীর ক্ষেত্রেঃ

রোগীর শ্বাসনালি উন্মুক্ত রাখতে হবে।

যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ফোন করে ইমার্জেন্সি স্কোয়াডে পাঠাতে বলতে হবে।

প্রয়োজনে রোগীকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

সন্দেহজনক বিষ হলে পাত্রটি সংগৃহীত করতে হবে।

রোগী বমি করলে সেই বমি নমুনা সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

রোগীকে পানি কিংবা তরল কিছুই খেতে দেওয়া যাবে না।

রোগীকে বমি করানোর চেষ্টা করা যাবে না। যদি রোগী বমি করতে থাকে, তাহলে তার মাথাটা এক পাশে কাত করে দিতে হবে, যাতে বমির পদার্থগুলো মুখ দিয়ে গড়িয়ে পড়তে পারে।

ইমার্জেন্সি স্কোয়াডের ব্যবস্থা না থাকলে আপনি নিজেই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

Similar Posts

  • স্ট্রোক হলে

    হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায়ও যেমন স্ট্রোক হতে পারে, তেমনই শরীরের কোনো অংশ ধীরে ধীরে দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া, মুখ একদিকে বাঁকিয়ে যাওয়া, মুখ থেকে খাবার ও পানি গড়িয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেমন-চিনতে না পারা অপ্রাসঙ্গিক বা আজেবাজে কথা বলা, অকারণে বিরক্ত হয়ে হইচই করা, একদম…

  • কিশোরীদের হরমোন জনিত সমস্যা

    কিশোরী-দের হরমোন জনিত নানা সমস্যা হয়ে থাকে। এর মধ্যে পলিসি-স্টিক ওভারি সিন্ড্রোম একটি বহুল পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। যেটি কিশোরী থেকে মধ্য বয়সী নারীদের হয়ে থাকে। এ ধরণের সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে অনেকে লজ্জায় পড়ে যান। এতে বড় ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। কিশোরী-দের হরমোন-জনিত সমস্যার ধরন ও প্রতিকার, নিয়ে যুগান্তরকে পরামর্শ দিয়েছেন ডা. শাহজাদা…

  • কোলেস্টেরলের প্রয়োজনীয়তা

    প্রতি দিনের কার্য সম্পাদনের জন্য শরীরে যে পরিমাণ কোলেস্টেরল দরকার সেই পরিমাণ কোলেস্টেরল আমরা খাবার থেকে গ্রহণ করতে পারি না বলে শরীর নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য নিজেই কোলেস্টেরল সংশ্লেষণ করে থাকে। আমরা কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার থেকে যদি বেশি পরিমাণ কোলেস্টেরল গ্রহণ করিতবে শরীর ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য কম পরিমাণ কোলেস্টেরল তৈরি করবে।  ডিম, দুধ, বাটার…

  • খাবারে বিষক্রিয়ার ঘরোয়া চিকিৎসা

     প্রতি দিন কত রকম খাবার খেতে হচ্ছে আপনাকে। কখনও ডাল-ভাত আবার কখনও বিরিয়ানি কখনও বার্গার আবার কখনও খিচুড়ি, ফুচকা। অফিসে কাজ করতে করতে কখনও চা, কখনও কফি। বাসায় থাকলেও টিভি দেখতে দেখেতে কখনও ঠাণ্ডা পানীয় আবার কখনও অন্য কিছু। সব সময় মুখ কিন্তু চলছেই। প্রতি দিনের বিভিন্ন ধরণের খাবারের মধ্যে কোন খাবারে কখন বিষক্রিয়া হয়,…

  • থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে যা জরুরি

    থ্যালাসেমিয়া বংশগত রক্ত স্বল্পতা জনিত রোগ। ইহা যেমন কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, তেমনি রক্তের ক্যানসারও নয় । জিনগত ত্রুটির কারণে এই রোগে অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় বলে লোহিত রক্ত কণিকা সময়ের আগেই ভেঙে যায়। ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। নানা রকমের থ্যালাসেমিয়াঃ ক্লিনিক্যালি থ্যালাসেমিয়া তিন ধরনের হতে পারে। সব চেয়ে তীব্র ও জটিল ধরন ‘মেজর’ হিসেবে…

  • থাইর-য়েড ক্যান্সার কোন বয়সের  লোকদের বেশি ঝুঁকি থাকে

    থাইর-য়েড ক্যান্সার মূলত দুই ধরণের হয়ে থাকে।  এক অল্প বয়সে হতে পারে আবার শেষ বয়সেও হতে পারে।  বয়স্ক অবস্থায় থাইর-য়েড আক্রান্ত হলে-এর অবস্থা খুবই খারাপ হয়। বেশি বয়সের রোগীদের সঙ্গে সঙ্গে  সতর্কতার সাথেঅস্ত্র পাচার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসক গণ।  থাইরয়েড আক্রান্ত ব্যক্তিকে কি কি পরীক্ষা করে থাকেন? রোগীকে সম্পূর্ণ মূল্যায়নের জন্য এফটি থ্রি, এফপি ফোর,…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *