ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে নতুন হাতিয়ার

মানুষ হাসপাতালে যায় শরীর সারাতে৷ সেখানে গিয়েই যদি নতুন জীবাণু শরীরে ঢোকে এবং কোনো ওষুধ কাজে না লাগলে কী করা যায়! এমন মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া খতম করতে নতুন এক প্রক্রিয়ার পথে এগোচ্ছেন জার্মান বিজ্ঞানীরা৷

অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ যে সব জীবাণুর ক্ষতি করতে পারে না, হাসপাতালে সেগুলি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ জীবাণু কোথায় নেই! বিশেষ করে ঠিকমতো হাত না ধুলে সে গুলি আরও ছড়িয়ে পড়ে৷

শুধু জার্মানিতেই বছরে এমন রেজিস্টেন্ট ব্যাকটেরিয়ার কারণে আনুমানিক চল্লিশ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে৷ এই প্রবণতা আরও বাড়ছে ৷

ড্যুসেলডর্ফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাইকে ব্র্যোৎস-ওস্টারহেল্ট বলেন, ‘‘রেজি- স্টেন্ট বা প্রতিরোধক বেড়েই চলেছে৷ এমন মাল্টি-রেজিস্টেন্ট ব্যাকটেরিয়া-কে আমরা এমআরএসএ নামে চিনি ৷

এরা খুবই বিপজ্জনক ও শক্তিশালী এবং বিশেষ করে হাসপাতালের মাধ্যমে চারি- দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে৷”

এক গবেষক দল সম্প্রতি এমন এক নতুন অ্যান্টিবায়োটিক-এর কাজের বিশ্লেষণ করেছে, যা এমনকি মাল্টি-রেজিস্টেন্ট ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলতে পারে ৷ 

আডেপ নামের এই প্রাকৃতিক ছোট আকারের প্রোটিন মলিকিউল অনেক রেজিস্টেন্ট ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে ৷

ড. সাস বলেন, ‘‘আডেপ এক প্রাকৃতিক উপাদান , যা ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি ৷
তারা আবার উৎসের আশে পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে৷”

গবেষক দল তাই এই অ্যান্টিবায়োটিক-এর কার্য-প্রক্রিয়া খুঁটিয়ে দেখছেন ৷ প্রথমেই জানা গেছে যে, আডেপ ব্যাকটেরিয়ার কোষের মধ্যে এমন একটি প্রোটিন ধ্বংস করে দেয়, যা কোষের বংশ বৃদ্ধি ঘটায় ৷

ড. সাস বলেন, ‘‘এখানে যেমনটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের প্রোটিন সাধারণতঃ ব্যাকটেরিয়ার কোষ-বিভাজন স্তরে, অর্থাৎ মাঝ খানে থাকে ৷ আমরা ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে আডেপ ঢুকিয়ে দেই ৷ এর ফলে বংশ বৃদ্ধির প্রোটিন আর সেই স্তরে থাকতে পারে না ৷ তখন কোষ বিভাজনের প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে, কোষ মরে যায়৷”

কিন্তু এই প্রক্রিয়া ঠিক কী ভাবে ঘটে?

সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার কোষের মধ্যে সাধারণতঃ নির্দিষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া ঘটায় ৷ এডিইপি তা না করে ব্যাকটেরিয়ার সার্বিক মেটাব-লিজমের
উপর প্রভাব ফেলে ৷এমন প্রোটিন নির্গত হয়, যা মাত্রা তিরিক্ত প্রতিক্রিয়া ঘটায়৷

ত্বকের কয়েকটি রোগঃ

চর্মরোগে কম-বেশি সবাই ভোগেন ৷ গরম কালেই এ জাতীয় রোগ বেশি দেখা দেয়৷ এ ছাড়া অপরিষ্কার ও ঘন বসতিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস চর্মরোগের একটা অন্যতম কারণ৷ নিয়ম মেনে চললে রোগের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব৷

একজিমাঃ

একজিমা হলো ত্বকের এমন একটি অবস্থা যেখানে ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি হয় ৷ একেক ধরনের একজিমার লক্ষণ একেক রকম হয়৷

তবে সাধারণ ভাবে লালচে, প্রদাহ যুক্ত ত্বক; শুষ্ক, খসখসে ত্বক; ত্বকে চুলকানি; হাত ও পায়ের ত্বকের মধ্যে ছোট ছোট পানির ফুস- কুড়ি ইত্যাদি হলো একজিমার লক্ষণ৷

Similar Posts

  • লিভার প্রতিস্থাপনে কী কী সমস্যা দেখা যায়

    লিভার প্রতিস্থাপন করার পর সব চেয়ে বড় যে দুটো সমস্যা দেখতে পাওয়া যায় সেগুলো হল শরীরের দ্বারা নতুন লিভারকে প্রত্যাখ্যান এবং লিভারের সংক্রমণ। লিভারকে প্রত্যাখ্যান করা মানে কি? একজন ব্যক্তি (দাতা)-র থেকে লিভার নিয়ে অপর ব্যক্তি (গ্রহীতা)-র শরীরে প্রতিস্থাপন করলেই গ্রহীতার শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা নতুন প্রত্যঙ্গটাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, ঠিক যেমন এই ক্ষমতা শরীরের…

  • শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় যা করবেন

    কোভিড সেরে ওঠার পরও অনেকের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে। তাই এ সময়  ব্রিদিং এক্সার সাইজ অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম হিসেবে সেলফ অ্যাওয়েক প্রোনিং, এবং অল্টারনেট নস্ট্রিল ব্রিদিং করতে পারেন। এ দুটি খুবই কার্যকরী ব্যায়াম, যা করোনার সংক্রমণ থেকে নিরাময়ের পরও, শ্বাস ক্রিয়ায় সমস্যা হলে তা দূর করতে পারবে। এছাড়া,…

  • |

    থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ

    থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্ত স্বল্পতা জনিত রোগ। ইহা কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। রক্তের ক্যানসারও নয়। প্রকারভেদঃ ক্লিনিক্যালি থ্যালাসেমিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যেমন-থ্যালাসেমিয়া মেজর, মাইনর এবং ইন্টার মিডিয়েট।থ্যালাসেমিয়ার অনেক প্রকারভেদ আছে। যেমন-বিটা থ্যালাসেমিয়া, ই-বিটা থ্যালাসে- মিয়া, হিমোগ্লোবিন ই-ডিজিজ, আলফা থ্যালাসেমিয়া, এস বিটা থ্যালাসেমিয়া, হিমোগ্লোবিন এস ডিজিজ, হিমোগ্লোবিন ডি পাঞ্জাব, হিমোগ্লোবিন ডি আরব ইত্যাদি।…

  • কিডনির অসুখ

    কিডনি’র প্রধান কাজ রক্ত পরিশোধন করা। কিডনি’র অসুখে চোখের নিচে, পায়ের গোড়ালিতে পানি জমে। কারণ ছাড়াই সব সময় ক্লান্তি ভাব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় কিডনি ইন্সটিটিউট এবং, হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজল নাসের বলেছেন, একদম প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনির অসুখের তেমন কোন লক্ষণ থাকে না। কারণ শরীর কিডনি’র পরিবর্তনের সাথে শুরুতে মানিয়ে নিতে…

  • সেনসেটিভ দাঁতের ব্যথায় কী করবেন?

    দাঁতের সমস্যা দেখা দিলে দারুন বিপাকে পড়তে হয়। আর দাঁতের সমস্যাটি যদি হয়, সেনসেটিভ দাঁতের ব্যথা, তবে ভুগতে হয় অনেক বেশি। কেন দেখা দেয় সেনসেটিভ দাঁতের সমস্যা? সেনসেটিভ কিংবা সংবেদন শীল দাঁতের সমস্যাটি দেখা দিতে পারে, বেশ কিছু কারণে। তার মাঝে অন্যতম কয়েকটি কারণ হলো- ১. দাঁতের এনামেল ক্ষতি গ্রস্থ হওয়া। ২. অ্যাসিডিক ও বেভারেজ…

  • গর্ভ ধারণে সমস্যা কেন হচ্ছে

    গর্ভ ধারণে সমস্যার নানা কারণ রয়েছে।স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের সমস্যা হতে পারে, হতে পারে যে কোন এক জনের। আমরা জেনে নেই, কি কি কারণ হতে পারে গর্ভ ধারণে সমস্যা — পুরুষের ক্ষেত্রে  কারণ সমূহঃ ০১) শুক্রাণু কম উৎপন্ন হলে, ০২) শুক্রাণু পুরো মাত্রায় নির্দিষ্ট বেগে গতিশীল না হলে, ০৩)  স্পার্ম বা শুক্রাণুর আকৃতি স্বাভাবিক না হলে, ০৪)  যৌন বাহিত…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *