দাঁতে গর্ত হলে

দাঁতে গর্ত এবং মাঝে মধ্যেই ব্যথা হলে ;
দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। ফেলে রাখলেই ছড়িয়ে যায় দাঁতে সংক্রমণ। যা প্রাণ সংশয়ও ডেকে আনতে পারে। 
এমনিতেই দীর্ঘ দিন ধরে দাঁতের সমস্যা ফেলে রাখলে অনেক বিপত্তি। 

তাই যদি ডাক্তার বলেন দাঁত তোলা কিংবা রুট ক্যানাল (Root Canal Treatment),
করা ছাড়া কোনও উপায় নেই তাহলে দেরি করা মানে জেনে বুঝে বিপদ ডেকে আনা। 

এসব ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন। আজ নয় কাল করতে করতে যারা দাঁতের সমস্যায় বিশেষত স্পেশ ইনফেকশন লু়ডউইংস অ্যাঞ্জিনার মতো রোগ ফেলে রেখেছেন খুব সাবধান।

সংক্রমণ ছড়িয়ে গেলে দাঁত ক্ষয়, ফুটো হয়ে গেলে প্রথমেই সচেতন হোন। না হলে তা বাড়তে বাড়তে ইনফেকশন দাঁতের মাড়ির ভিতরে চলে যায়। তখন আরটিসি করা বা দাঁত তোলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। 
আর না করে ফেলে রাখলে সেখান থেকে সংক্রমণ মাড়ির হাড়ে চলে যায়। সেখান থেকে পুঁজ জমতে থাকে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়
 ‘পেরিয়াপি-ক্যাল অ্যাবসেস’। এই সংক্রমণ যদি মারাত্মক আকার নেয় তখন হাড় ভেদ করে মুখের ত্বকেও চলে যায়। 

আর এই অবস্থায় যদি আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে বিশেষত
ডায়াবেটিস, অঙ্গ প্রতিস্থাপন ইত্যাদি অসুখ থাকে বা স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ খান সে ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। সংক্রমণ মারাত্মক আকার নেয়। মুখ ফুলতে থাকে। ফোলা জায়গা লাল হয়ে থাকে অসম্ভব ব্যথা থাকে। মুখ খুলতেও সমস্যা হয়। 

তখন ওরাল অ্যান্টি বায়োটিকেও কাজ হয় না। এই সমস্যাকেই বলা হয় স্পেস ইন – ফেকশন। এমন হলে তখন রোগীকে অ‌্যান্টি বায়োটিক ইনজেকশন দিতে হয়। 

মুখের সমস্যায় খেতে অসুবিধার কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে। তাই এই অবস্থাতেও ঠিক মতো খাবার বা পুষ্টি জাতীয় খাবার খেতে বলা হয়। 
তারপর অতিরিক্ত পুঁজ বাইরে থেকে ড্রেন করতে লাগে। এইভাবে চিকিৎসা করে রোগীর দাঁতের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। 

লুড উইগস অ্যাঞ্জিনা হল, সংক্রমণ অল্প থেকে বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে গিয়ে তা দাঁত থেকে গলায় চলে যায়। 

ফলে শ্বাস নিতেও কষ্ট হয় অনেকেরই। এই অসুখ প্রাণ সংশয়ও ডেকে আনতে পারে।
কাজেই দাঁতের সমস্যা অল্প বলে তা ফেলে রাখবেন না। 

কখন মারাত্মক হয়ে যাবে কেউ-ই বলতে পারে না।

Similar Posts

  • |

    হরমোন (টেস্টো-স্টেরন) কি

    টেস্টো-স্টেরন মূলতঃ পুরুষের যৌন উত্তেজনা মূলক হরমোন, যা পুরুষের শুক্রা-শয় উৎপন্ন হয়। তবে টেস্টো-স্টেরন নারী দেহেও থাকে, কিন্তু তা পরিমাণে কম । যৌন উদ্দিপনা ছাড়াও শারীরিক বিভিন্ন কার্যাদি, সম্পন্ন করতেও ভূমিকা রাখে টেস্টো-স্টেরন। টেস্টো-স্টেরণ পরি-পক্ক শুক্রাণুর বিকাশে সহায়তা করে। মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টি-টিউটস অব হেলথের মতে, “টেস্টো-স্টেরন একটি গুরুত্ব পূর্ণ হরমোন যা যৌনন্নয়ন, শারিরীক…

  • দাঁতের ব্যথা

    দাঁতের ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। শীতে ঠাণ্ডার কারণে শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা বাড়ে। এ সময় ঠাণ্ডার কারণে অনেকের দাঁতের ব্যথাও হয়ে থাকে।   ব্যথা তীব্র হওয়ার কারণঃ দাঁতে কোনো গর্ত বা ক্যারিজ হলে, দাঁতের ফিলিং খুলে গেলে, দাঁত ভেঙে গেলে,দাঁতের শ্বাস বা পালপ যে কোনো কারণেই আক্রান্ত হলে, মাড়ির প্রদাহের কারণে ও দাঁতের পালপ আক্রান্ত হলে। গরম…

  • কিডনি ভালো রাখতে যা প্রয়োজন ।

    অনেকের মুখেই শোনা যায় কিডনির সমস্যা। কিডনির চিকিৎসা খুবই ব্যয় বহুল এবং কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। তাই যে কোনো রোগ হওয়ার আগে তা নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিডনি ভালো রাখতে আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে।  কিডনি ভালো রাখতে খুব বেশি নিয়ম মানার প্রয়োজন নেই। মাত্র ৫টি নিয়ম মেনে চললে সারা জীবন ভালো থাকবে আপনার কিডনি।  শরীরে পরিষ্কার…

  • অস্টিয়ো-পোরো-সিসে ভুগছেন

    বয়স বাড়লে বা অন্যান্য শারীরিক কারণে হাড়ের ক্যালশিয়াম-সহ অন্যান্য উপাদান, কমে গেলে হাড় ক্ষয়ে যায়, ফলে সামান্য চোট বা আঘাতে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ‘অস্টি-য়োপো-রোসিস’ বশে আসবে মাত্র ২৫ মিনিটে।  বয়স বাড়লে হাড়ে ঘুণ ধরবেই, যদি না আগে থেকে তা প্রতিরোধ করা হয়। প্রতি দিন ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত, ভিটামিন ডি হাড়ের এই ঘুণ…

  • শক্তিশালী হাড়ের জন্য ভিটামিন ডি প্রয়োজন

    শক্তিশালী হাড়ের জন্য একটি সুষম খাদ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাড় সুস্থ রাখতে আপনার প্রধানতঃ যথেষ্ট ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি প্রয়োজন। একটি সুষম খাদ্য খাওয়া আপনাকে সুস্থ হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি পেতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম হাড়ের জন্য একটি অপরিহার্য ভিটামিন। সাধারণ পরিস্থিতিতে, প্রাপ্ত বয়স্ক- দের প্রতি দিন ৭০০ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন।এ জন্য বিশেষজ্ঞরা প্রতি দিন…

  • গুরুত্বপূর্ণ হরমোন (টেস্টোস্টেরন) সমস্যা ও সমাধান

    পুরুষের দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন হলো টেস্টো-স্টেরন। এই হরমোনের ওপরই নির্ভর করে পুরুষের শারীরিক উর্বরতা। নারী দেহেও সামান্য পরিমাণে এই হরমোন দেখা যায়। পুরুষের শরীরে এই হরমোন কমে গেলে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়— ১. অবসাদঃ দুপুরের খাবারের পর অনেকেরই দুর্বল ভাব চলে আসে। অফিসের টেবিলে প্রায়ই উদ্দীপনা হারিয়ে যায়। যে কোনো উদ্যমী কাজে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *